Logo
Logo
×

রাজনীতি

একাদশে সরব দ্বাদশে নীরব

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:১৬ পিএম

একাদশে সরব দ্বাদশে নীরব
Swapno

 

# নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী দাবির বিষয়ে মৌনতা
 

রাজনীতির পূর্ব শর্ত হলো জনসম্পৃক্ততা। রাজনীতি যেহেতু রাজ্য নিয়ে এবং রাজ্য হলো জনগণ নিয়ে, তাই জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া প্রকৃত রাজনীতিবিদ হওয়া সম্ভব না। এই জনগণের একটি অংশই এসব রাজনীতিবিদের কর্মী হিসেবে কাজ করে। যাদেরকে তারা নিজেদের কর্মী বাহিনী বলে দাবি করতে পারেন। যেকোন কর্মসূচী বাস্তবায়নে এসব কর্মীবাহিনী একটি বিরাট ভূমিকা পালন করেন।

 

 

যেমনটি দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বড় সারির বেশ কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে। তবে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্ব নিয়ে রাজনীতির বিভিন্ন অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনা। জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক কথাবার্তা হচ্ছে।

 

 

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগে জেলার পাঁচটি আসনেই নৌকার দাবিতে মাঠে নেমেছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। এবার সেই পালে আর জোর হাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বিমূল গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

 

 

জাতীয় পার্টির ভাঙনের এবার কেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সরব হচ্ছেনা তা নিয়ে নানা ধরণের গল্প চলেছে চায়ের কাপে। অনেকে বলছেন, হতাশা থেকেই এবার নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন সিনিয়র নেতারা।

 


 
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ নেতা। কিন্তু আনোয়ার হোসেন এমপি শামীম ওসমান বলয়ে আবার কখনও মেয়র আইভীর বলয় দুই বলয়ে  দেখা যায়। ২০১১ সালের সিটি নির্বাচনে যেমন তিনি মেয়র পদের জন্য ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থন করে গেছেন তেমনি ২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনে মেয়র আইভীর নামের পাশে তিনিও সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন । তখন তিনি শামীম ওসমানের পক্ষ নিয়ে কাজ করেছেন।

 

 

মনোনয়ন না পেলেও জেলা পরিষদে মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এবার একদিকে যেমন জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি অপরদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদেও চাপ তৈরি হয়েছে, সম্মেলন না হলেও ভেতরে ভেতরে চলছে তুমুল প্রতিযোগিতা। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষে  এবার তিনি মাঠে নামবেন বলেও জোর প্রচার রয়েছে। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পরও দীর্ঘদিন তৃণমূল কর্মীদের সাথে তার দুরুত্ব তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।  

 


 

আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু। এক সময় এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন তিনি।

 

 

এক সময়  শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট হলেও গত সিটি নির্বাচনের আগে মেয়র আইভীর আস্থাভাজন হিসেবে দেখা গেছে তাকে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়ে ব্যাপক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও এবার নির্বাচনী বছরে কোন তোড়জোড় লক্ষ্য করা যায়নি।

 


 
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া পারিবারিকভাবে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা হলেও এবার জাতীয় নির্বাচনের আগে চোখে পড়ার মতো তার কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নেই।

 

 

জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা কিংবা ব্যক্তি ইমেজকে কাজে লাগিয়ে দলের জন্য কোন কাজে লাগার কোন চেষ্টা নির্বাচনের আগে তার মধ্যে দেখা যায়নি বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল। এমন কি আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের কোন নেতাকর্মীদের দুঃসময়েও দৃঢ় প্রত্যয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর দৃষ্টান্ত থাকলেও এবার অজানা কারণে স্থবির আরজু রহমান ভূইয়া।

 


 
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পদ পেয়েছেন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের বিরাট একটি অংশ। বিশেষ করে ২০১১ এর সিটি নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে কাজ করে তার অনেকটাই প্রিয়ভাজন হন সুফিয়ান। আর সেই সুবাদেই তিনি জেলা আওয়ামী লীগের এমন একটি পদ পেয়েছেন বলে মনে করেন তারা।

 

 

সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনে যখন তিনি কোন নেতার পক্ষ নিয়ে মাঠে নেমেছেন তখনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপহাস করে বলতে শোনা গেছে এইবার ভোট বাড়ার বদলে কমবে। দলীয় কোন কর্মসূচীতে বা দলের সুনাম বাড়বে এমন কোন কর্মে তাকে কখনও দেখা যায়নি। গত জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়ে আলোড়ন তৈরি করলেও এবার তিনি সিটি নির্বাচনের পর থেকেই স্থবির কার্যক্রমে রয়েছেন।

 


 
বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ। তিনি শুধু যে একজন আওয়ামী লীগ নেতা তা-ই নয়। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও বটে। বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ পাওয়া যায় যে, জাতীয় পার্টির নেতাদের নির্বাচিত করার জন্য নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও নীলনকশা তৈরি করেন।

 

 

তার নিজস্ব কর্মী বাহিনী বলতে কিছুই নেই। বিভিন্ন নির্বাচনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠলেও তাতে তিনি কখনও কর্ণপাত করেননি কিংবা শুধরানোর চেষ্টা করেননি। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে আবার বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী কারা হবেন সে নিয়ে কোন তোড়জোর কিংবা উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি তাকে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন