# সভাপতি-সম্পাদক পদে আলোচনায় একাধিক নেতা
ঘনিয়ে আসছে আগামী দ্বাদশ সংসদ সদস্য নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রতিটি ইউনিয়নে কর্মী সম্মেলন করেছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় এই কর্মী সম্মেলন বিশৃঙ্খলা তৈরী হয়। তবে এর আগে স্বেচ্ছাসেবকলীগকে ঢেলে সাজানোর জন্য নারায়ণগঞ্জের মাঠে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার পাশা পাশি এখানকার প্রতিটি ইউনিয়নের সম্মেলনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হয়। কিন্তু এই দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগ কমিটি। কেননা সোনারগাঁ উপজেলার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হলেও এখনো কমিটি ঘোষনা হয় নাই।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের পর থেকে জেলার ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠনের দলীয় কার্যক্রম হযবরল অবস্থা হয়ে আছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রধান সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল হয়ে আছে। থানা পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নামকাওয়াস্তে দলীয় কার্যক্রম চলে। বিশেষ করে সোনারগাঁ স্বেচ্ছাসেবক লীগে এখন হযবরল অবস্থা হয়ে আছে। কেননা এক বছরের বেশি হয়েছে এখানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি নেই। কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হয়ে পরেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। অথচ টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় রয়েছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ।
আর এই দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও তাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সোনারগাঁ শাখা তেমন একটা শক্তিশালী হতে পারছে না। আবার ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলন হলেও দুই মাসের বেশি হয়ে গেছে এখনো কমিটি ঘোষণা হয় না। আর এজন্য স্থানীয় নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন কার স্বার্থে এখনো কমিটি ঘোষনা হয় না। তারা মনে করে আগামী নির্বাচনের আগে এই কমিটি ঘোষনা না হলে দলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই দলকে শক্তিশালী করার জন্য হলেও কমিটি না থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় নেতা কর্মীরা। তবে যারা পদে আসতে চাচ্ছেন তারা তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে দলীয় নেতা কর্মীদের সক্রিয় রাখছেন।
কিন্তু রাজনৈতিক বোদ্ধ মহল মনে করেন এখানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি থাকলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ শক্তিশালী হয়ে দলের জন্য বিভিন্ন নির্বাচনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। কিন্তু এখানে কমিটি না থাকায় দলটির কার্যক্রম এলোমেলো ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নিকট সোনারগাঁ স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটি দেয়ার দাবী তুলেন উপজেলার নেতৃবৃন্দ।দলীয় সূত্রে জানাযায়, সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ পদে আসার জন্য একঝাক নেতৃবৃন্দ মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। যারা নেতৃত্বে আসতে চান তাদের নেতৃত্বে দলীয় কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। পাশা পাশি তারা নিজেদের মত করে নেতা কর্মীদের সরব রেখে যাচ্ছে। তবে পদ প্রত্যাশী নেতাদের দাবী সোনারগাঁ উপজেলায় দ্রুত কমিটি দিলে তারা এখানকার স্বেচ্ছাসেবক লীগকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে।
দলীয় একাধিক নেতা জানান, সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি পদে আসার জন্য সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি প্রার্থী আসিফ আহমেদ আনিস মাঠে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছেন, ওই এলাকার আরেক কৃতি সন্তান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামসু নেতা কর্মীদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা দুজনেই আওয়ামী পরিবারের সন্তান হয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাথে রাজনীতি করে যাচ্ছে। এছাড়া সোনারগাঁ উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার জন্য সোহাগ, আরেক সভাপতি প্রার্থী আমির হোসেন কাজ করে যাচ্ছেন, এছাড়া কাচঁপুর থেকে দুই একজন প্রার্থী হবে বলেগুঞ্জন রয়েছে।
জানা যায়, বছরের শুরুতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সকল থানা, উপজেলা এবং ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তখন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর নির্দেশক্রমে ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং এর অন্তর্গত সদর থানা, ফতুল্লা থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, বন্দর থানা, রূপগঞ্জ থানা, সোনারগাঁ থানা কমিটি ও মহানগরের অন্তর্গত ২৭টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। যা বর্তমানে বন্দর উপজেলা ছাড়া সব জায়গায় কমিটি বিহীন আছে।
খোজঁ নিয়ে জানাযায়, ২০০৯ সনে সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ দিন এখানে কমিটি না থাকায় এখানকার স্বেচ্ছাসেবক লীগ হযবরল হয়ে আছে। সেই সাথে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না। সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ও সাবেক ওই উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক আসিফ আহমেদ আনিস জানান, আমি সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্রলীগে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। তখন থেকে তৃনমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে মিলে কাজ করেছি। সেই সাথে দলকে শক্তিশালী করার জন্য সকল আন্দোলন সংগ্রামে অবদান রেখে কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সব সময় রাস্তায় মিছিল মিটিং করেছি। তবে কমিটি না থাকায় কর্মীরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। তাই আগামী নির্বাচনের আগে এখানে কমিটি দেয়ার দাবী জানাই আমরা। সেই সাথে এখানে নৌকার প্রার্থী দেয়া হলে তাকে জয়ী করার জন্য কাজ করে অবদান রাখতে পারবো বলে আশা রাখি। তিনি আরও জানান, আমাকে সভাপতি পদে দায়িত্ব দেয়া হলে সোনারগাঁ জেলার স্বেচ্ছাসেবকলীগকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।
সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সদস্য সামসুজ্জামান সামসু বলেন, আমাদের ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন শেষ হয়েছে মাস দুয়েক আগেই। কিন্তু এখনো কেন কমিটি ঘোষনা হচ্ছে না তা কেন্দ্রীয় নেতারা বলতে পারবেন। আমি আগে থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগে কাজ করে যাচ্ছি। এখানে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে আছি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাকে যোগ্য মনে করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্ব দিলে দলকে শক্তিশালী করে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস করি। সেই সাথে আমি সভাপতি পদে আসার জন্য কর্মীদের পছন্দের জায়গায় আছি। আমাকে দায়িত্ব দিবে বলে আমি আশাবাদি।
এস.এ/জেসি


