সুবিধাবাদীদের বর্জনের নিশ্চয়তা চায় বন্দর আ.লীগ
লতিফ রানা
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:৪৩ পিএম
# কাউন্সিল হলে নতুন নেতৃত্বের জায়গা তৈরি হবে : মজিবুর রহমান
# কোন ভাই বা নেতা না, প্রকৃত প্রেমিকদের নেতৃত্বে আনতে হবে : গাজী সালাম
# হাইব্রীড ও সুবিাধাবাদি যেন কমিটিতে ঢুকতে না পারে : মাসুম
দীর্ঘ দুই দশক পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বন্দর উপজেলায় অবস্থিত পাঁচটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন। তাই স্বভাবতই এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আনন্দ, উচ্ছাস ও এক ধরণের উৎসব মূখর পরিবেশের তৈরি হয়েছে সেখানকার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে এরই মধ্যে একটি ইউনিয়নের সফল সম্মেলন সম্ভব হয়েছে (গত ৩১ ডিসেম্বর গোপন ভোটে মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন হয়)। বাকি সম্মেলনগুলোতেও একই পদ্ধতি অবলম্বনের দাবিসহ কোন প্রকার হাইব্রীড ও কাউয়া মার্কা নেতৃত্ব বর্জন করার নিশ্চয়তা চায় বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মনে করেন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ তাদের মতামত প্রকাশ করতে এবং সঠিক নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে পছন্দ করেন। এতে কোন চাপ বা বাধার সম্ভাবনা থাকে না।
সূত্রমতে সর্বশেষ ২০০৩ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিয়নের সম্মেলন। তারপর আর কোন ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন দেখেনি বন্দর আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে কেউ দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন পরপারে, আবার কেউ বয়সের ভারে নুয্য হয়ে শয্যাশায়ী আছেন। পাঁচটি ইউনিয়নের চারটিতেই হয়তো সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদশূণ্য হওয়ার কারণে ভারপ্রাপ্তদের দিয়েই কার্যক্রম চলছে বছরের পর বছর। এতে তরুণ নেতৃত্ব তৈরির পথরুদ্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। তাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশে সম্প্রতি শুরু হওয়া সম্মেলন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন পর সক্রিয় হয়েছে বন্দরের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। এরই মধ্যে একটি ইউনিয়নের সম্মেলন সমাপ্তসহ বাকিগুলোও এই মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ছোট-খাটো কিছু সমস্যা ছাড়া সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সবাই তাদের যোগ্যতা প্রমাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।
ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম আহমেদ বলেন, প্রত্যেকটি ইউনিয়নের কমিটিগুলো নতুনভাবে গঠন করা আমাদের প্রত্যেকের লালিত স্বপ্ন। তাই যে কাউন্সিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেটা ভালো। তবে তা স্বচ্ছ এবং পরিচ্ছন্নভাবে, ভোটের মাধ্যমে, যেমনটা মুসাপুর ইউনিয়নের কাউন্সিল হয়েছে, সেভাবে যেন হয়। সেই কাউন্সিল করতে গিয়ে কিন্তু নেতা কর্মীরা সফল হয়েছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ইচ্ছের প্রতিফলন হয়েছে। আমরাও চাই এধরণের পরিচ্ছন্ন রাজনীতি আসুক। কোন হাইব্রীড সুবিাধাবাদী যেন আমাদের আওয়ামী লীগের এই কমিটিতে ঢুকতে না পারে।
তিনি বলেন, ধামগড় বরাবরই আওয়ামী লীগের ঘাটি। কিন্তু বিগত নির্বাচনে ধামগড় ইউনিয়নে নৌকা ফেল করেছে। এখানে প্রার্থী হিসেবে নয়, এখানে যারা আওয়ামী লীগের কর্মী আছেন, তারা সবাই অনেক ব্যথিত হয়েছেন। হয়তো কিছু কিছু হাইব্রীডের জন্য, যারা অনুপ্রবেশ করেছে তাদের জন্য। তবে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আমার চেষ্টা থাকবে, আমার ইচ্ছে যে, ধামগড়ে আমাদের যে ঘাটি আবার যাতে নৌকার বিজয় হয়, সেভাবেই আওয়ামী লীগকে গড়ে তুলতে হবে। এখানে কোন হাইব্রীডের স্থান হবে না।
এই বিষয়ে মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, কাউন্সিল হয়ে গেলে এখানকার আওয়ামী লীগের কমিটি অনেক শক্তিশালী হবে। কাউন্সিল হলে নতুন নেতৃত্বের জায়গা তৈরি হবে। দীর্ঘদিন যাবৎ কমিটিগুলো না হওয়ায় এখানে বিভিন্ন পদের দায়িত্বে থাকা অনেক নেতার মৃত্যু হওয়াতে সেই পদগুলো খালি হয়েছে, সেগুলো পূরণ হবে। কমিটিগুলো পূর্ণ হলে একদিকে যেমন দল শক্তিশালী হবে অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বের তৈরি হবে। এতে দলের মধ্যে কর্মতৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দলটিও অনেক চাঙ্গা হবে। এখানে সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়ন নেতৃত্বের ভাগ করা সহজ হবে। তাই আমরাও নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে চেষ্টা করবো যেন সম্মেলনগুলো দ্রুত শেষ করা যায়। তাহলে দলের জন্য অনেক ভালো হবে।
তবে আমার চাওয়া হলো প্রকৃত আওয়ামী লীগের লোক, আওয়ামী পরিবারের সন্তান যেন দায়িত্বে থাকে। দলটি দীর্ঘদিন যাবৎ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার কারণে তার সুযোগ নিতে হঠাৎ করে কেউ এসে যেন প্রবেশ করে নেতৃত্বে ছিনিয়ে নিতে না পারে। অনেকেই এধরণের সুযোগের অপেক্ষায় আছে, তাই আমাদের অনেক সাবধান থাকতে হবে। বিগত দিনে যারা ভালো কাপড় চোপড় না পেয়েও দলের জন্য আওয়ামী লীগের জন্য আমাদের নেত্রীর জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন এসব তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যেন সেসব হাইব্রীড কাউয়া মার্কা নেতাদের জন্য হারিয়ে না যায়। আওয়ামী লীগের দুঃসময় কিন্তু এই তৃণমূলই ঝাঁপিয়ে পড়বে, অন্যদিকে সুযোগ সন্ধানীরা তখন এসি ছেড়ে ঘুমাবে। কমিটির মূল ফাউন্ডেশন ঠিক রাখতে না পারলে আমাদের দলেরই ক্ষতি।
মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গাজী আব্দুস সালাম জানান, আমরা যারা তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি তারা চাই, যারা সত্যিকার অর্থেই আওয়ামী লীগ করতেছে, তাদের হাতে ক্ষমতাটা থাকে। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থে যারা নৌকা মার্কার আওয়ামী লীগ করে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে আওয়ামী লীগ করে তাদের হাতে যেন নেতৃত্বটা থাকে। এধরণে প্রকৃত আওয়ামী লীগ প্রেমিকদের ডেকে যাচাই বাছাই কের যেন কমিটিগুলো করা হয়। তবে ইতিপূর্বে মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভোটের মাধ্যমে যে কাউন্সিল হয়েছে, সেটাকে আমি সাধুবাদ জানাই। বাকি চারটায়ও যেন ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়েই নেতা নির্বাচিত হয়।
যারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে, সে ধরণের নেতৃত্ব উঠে আসুক। জনগণ অবশ্যই প্রত্যেকটি ইউনিয়নে শুধুমাত্র সে জন্যই উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে দিন কাটাচ্ছে। তিনি বলেন মদনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল করার জন্য ইতিমধ্যে যাদের নাম কাউন্সিলর তালিকায় উঠেছে, তাদের প্রতি আমার একটিই অনুরোধ থাকবে। আগামী দিনে মদনপুর ইউনিয়নে কোন ভাই, কোন নেতার কথা চিন্তা না করে, যারা পদ পদবীর জন্য আওয়ামী লীগ করে তাদের বাদ দিয়ে সত্যিকার অর্থেই যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসে, তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভোটের মাধ্যমে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন।
এস.এ/জেসি


