নির্বাচনের আগে কমিটি নিয়ে ফতুল্লার নেতাদের চ্যালেঞ্জ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:০৪ পিএম
ঘনিয়ে আসছে আগামী জাতীয় সংসদ দ্বাদশ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী এই বছরের শেষের দিকে কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁ বন্দর সহ জেলার থানা গুলো সাংগঠনিক ভাবে গুছানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে দলীয় নেতৃবৃন্দ।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ফতুল্লা এলাকায় সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হয়ে আছে বলে অভিযোগ। অথচ এই এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান। এছাড়া ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রয়েছেন তারই অনুসারীরা।
এদিকে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ২০১৯ সনে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে সাইফ উল্লাহ বাদল সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শওকত আলী দায়িত্ব পান। সম্মেলনের ১ বছর পরপূর্নাঙ্গ কমিটি হয়। কিন্তু থানা কমিটি হলেও সহযোগি সংগঠন গুলোর কমিটি হ-য-ব-র-ল হয়ে আছে।
এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে শুধু কাশিপুর ইউপি আওয়ামী লীগের কমিটি হয়েছে। তার মাঝে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নে দুই মাসের বেশি হয়েছে কোন কমিটি নেই। পাশা পাশি ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েত নগর ইউনিয়নে দের যুগের বেশি হয়েছে সম্মেলন হয় না। তাই স্থানীয় নেতাদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে এখানে দল সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হয়ে আছে।
ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি না থাকা সাংগঠনিক ভাবে দলীয় কার্যক্রম দুর্বল হয়ে রয়েছে। ফতুল্লার ৪টি ইউনিয়নে কবে নাগাত কমিটি হবে তাও জানেন না স্থানীয় নেতারা। তাই নেতাদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে আগামী নির্বাচনের আগে ফতুল্লার ৪ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি হবে কী না তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বক্তাবলীতে একেবারেই কমিটি নেই।
খোজঁ নিয়ে জানাযায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলেও তখন হট্রগোল তৈরী হওয়ায় সম্মেলন স্থগিত করা হয়। ওই সম্মেলনে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করায় এখন বক্তাবলীতে কমিটি বিহীন হয়ে আছে আওয়ামী লীগ।
কিন্তু আগামী নির্বাচনের আগে এখানে কমিটি না হলে দলের প্রার্থী পস্তাতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা। এছাড়া বক্তাবলী নেতারা প্রশ্ন তুলেন কার স্বার্থে এখানকার কমিটি হচ্ছে না।
অপরদিকে ফতুল্লার এনায়েত নগর ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি শেষের দিকে। ইতোমধ্যে এখানকার ৬টি ওয়ার্ডের কমিটি শেষ হয়েছে। বাকি ৭,৮ ও৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিটি শিগ্রই শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা। তবে ফতুল্লা কুতুবপুর ইউনিয়নের কমিটি গঠনে তেমন কোন আলোচনা নেই। এই বছরে শেষ হবে কি না তাও জানে না নেতা কর্মীরা।
কিন্তু দলকে চাঙ্গা করার জন্য দ্রুত কমিটি দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা। রাজনৈতিক বোদ্ধমহলের মতে আগামী নির্বাচনের আগে ফতুল্লার থানা আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের সম্মেলন করে কমিটি করা চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে। কেননা মাস দুয়েক পরেই আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মাঠ গরম হয়ে যাবে।
তখন নেতারা নির্বাচনী প্রস্তুতি নিবেন নাকি দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করবেন তা নিয়ে নেতাদের মাঝে নানা আলোচনা হচ্ছে। কমিটি গঠনের চ্যালেঞ্জে থানার শীর্ষ নেতারা তাদের দায়িত্বর কতটুকু পালন করতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে নেতাদের দাবী তারা আগামী ২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পর তারা দ্রুত কমিপি করে ফেলবেন।
এনায়েত নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী সালাউদ্দিন বলেন, আমাদের ৯টি ওয়ার্ডের মাঝে ইতোমধ্যে ৬টি ওয়ার্ডের কমিটি হয়ে গেছে। দলকে চাঙ্গা রাখতে হলে আগামী নির্বাচনের আগে অবশ্যই কমিটি গঠন করতে হবে। কেননা কমিটি থাকলে তাদের নেতৃত্বে নির্বাচনে দলীয় নেতা কর্মীরা কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করতে পারবে।
বক্তাবলীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী শফিক মাহমুদ বলেন, আমাদের বক্তাবলীতে দুই মাসের বেশি হয়ে গেছে কমিটি নেই। কার স্বার্থে এখানকার কমিটি হচ্ছে না। দলকে শক্তিশালী করতে হলে দ্রুত কমিটি দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা।
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি রূপগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী আসবে। আপতাত নেত্রীর আগমন নিয়ে আমরা ব্যস্ত আছি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পর আমরা ফতুল্লার কমিটি গুলো করে ফেলবো। এন.এইচ/জেসি


