# এসএম আকরামই একমাত্র ব্যক্তি যিনি আ.লীগ-বিএনপি-স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেব একই আসনে নির্বাচন করেছেন
যতই সময় অতিবাহিত হচ্ছে ততোই আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এই বছরকে নির্বাচনের প্রচারণার বছর হিসেবে ঘোষনা করেছে। নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য তফসিল অনুযায়ী এই বছরের ডিসেম্বরের শেষের দিকে কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে হতে পারে। তারই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন এলাকায় সভা সমাবেশে গিয়ে মানুষের কাছে নৌকায় ভোট চেয়ে যাচ্ছে।
এদিকে গতকাল প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের পূর্বাচল ৪ নম্বর সেক্টরে ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-১ নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন। ক্ষমতাসীন দলের নেত্রীর আগমনে উজ্জীবিত স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে দলীয় নেতা কর্মীরা। কিন্তু নির্বাচন আসলে দেখা মিলে কিছু অতিথি রাজনীতিকের। নির্বাচন আসলে তারা বিভিন্নভাবে নগরীর শহরে পর্দাপণ করেন। তাদেরকে অন্যান্য সময়ে স্থানীয় মানুষরা খুঁজে পাননা বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, তারা মৌসুমের সময় সুযোগ বুঝে তা কাজে লাগাতে চান। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মৌসুমি এসব নেতারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে এমপি পদে প্রার্থী হন। নির্বাচনের পরে তাদেরকে এলাকায় তেমন ভাবে দেখা যায়না বলে জানান স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই তালিকায় সবার প্রথমে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম। সাবেক এই জনপ্রতিনিধির নির্বাচন আসলেই নারায়ণগঞ্জে দেখা মিলে। ২০১৮ সনের নির্বাচনে নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মহাজোটের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী সেলিম ওসমানের সাথে পরাজিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি বিএনপির শরীক দল হয়ে ধানের শীষ প্রতীক পাওয়ায় এ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত হন সাবেক সাংসদ ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
এছাড়া এস এম আকরাম ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগ প্রার্থী হিসেবে বিএনপির প্রার্থী আবুল কালামের কাছে পরাজিত হন। এসএম আকরাম জেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ছিলেন। ২০১৪ সালের ৩০ জুন উপ-নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের কাছে পরাজিত হন। পরে তিনি নাগরিক ঐক্যে যোগ দেন। সর্বশেষ এস এম আকরাম ২০২২ সনের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে এড. তৈমুর আলম খন্দকারের প্রচারণাতেও তার দেখা মিলে। তবে বিশ্বস্ত সূত্রমতে আগামী নির্বাচনে জন্য তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেই অনুযায়ী মাঠে নামার প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সাম্যবাদী দল থেকে কমরেড সাঈদ আহমেদ রয়েছেন। নির্বাচন আসলে তার দেখা মিলে বলে জানান স্থানীয় রাজনীতিবিদরা। নির্বাচনে চলে গেলে তিনিও যেন উধাও হয়ে যান। গুঞ্জন রয়েছে তিনিও আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। কেননা এর আগে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য মনোনয়ন ক্রয় করে তা জমা দিয়েছেন । বিভিন্ন কারণে পরে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়ে আসেন। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ২০১৮ সনের একাদশ নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী উইরা এসে জুড়ে এসে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের কাছে পরাজিত হন।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসে তিনি মনোনয়ন বাগিয়ে নেন। আর এনিয়ে বিএনপি নেতাদের মাঝে ক্ষোভ রয়ে গেছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে এবারও তিনি সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলে দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে আবারও হয় তো তিনি নির্বাচন করার চেষ্টা করবেন। ইসলামী দলগুলোর মাঝেও তাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের-৪ আসনে আলোচনা চলছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের দল থেকে গামছা প্রতীক নিয়ে শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচন আসলেই এই আসনে তার দেখা মিলে। নির্বাচন চলে গেলে তিনিও যেন কোথায় উধাও হয়ে যান।
সবকিছু মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন নির্বাচন আসলে নারায়ণগঞ্জে তাদের দেখা মিলে। অন্যান্য সময় নারায়ণগঞ্জের মানুষ তাদের দেখা পান না। তাই রাজনৈতিক বোদ্ধমহল মনে করেন তারা নির্বাচনের সময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। সেই সুযোগ বুঝে সময় মত এসে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। সামনে আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। তাই এখন থেকে তাদের নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে। গতবারের মত আবার তারা মনোনয়ন বাগিয়ে নেন কি না। তবে এবার দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি থেকে কয়েকজন শিল্পপতি মনোনয়ন চাইবে বলে আলোচনা উঠেছে। কিন্তু বিএনপি সর্বদা বলে আসছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে সর্বশেষ অবস্থা বুঝা যাবে। সেই অপেক্ষায় আছে স্থানীয়রা।
নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম বলেন, ‘আগামীতে সঠিক নির্বাচন হলে আমি প্রার্থী হবো। সেই অনুযায়ী আমার প্রস্তুতি আছে।’ সাম্যবাদী দলের নেতা সাইদ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এস.এ/জেসি


