# ভিপি বাদল- খোকন সাহা সাংগঠনিক কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে
আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রার্থী থেকে শুরু করে বর্তমান সংসদ সদস্যরা এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারই ধারা বাহিকতায় নারায়ণগঞ্জেও আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যরা প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশা পাশি এখানকার কয়েকটি আসনে নৌকা দেয়ার জন্য এবার জোরালো ভাবে দাবি জানিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা। এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দুই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। ডিসেম্বরে ভোট হলে নভেম্বরের মাঝামাঝি তফসিল ঘোষণা, আর জানুয়ারিতে ভোট হলে ২০ নভেম্বরের পর তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন। চলতি বছর ডিসেম্বরেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ১ ফেব্রুয়ারি তিনি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
সেই হিসেবে ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে ১০ মাস সময় পাচ্ছে প্রার্থীরা। তাই তারা এখানে থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী থেকে শুরু করে বর্তমান সংসদ সদস্যরা মাঠ গুছানোর কাজে নামছেন। সেই হিসেবে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এখন থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সভায় গিয়ে আবার প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় আনার জন্য ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। আর এতে করে নিজের জন্য ভোট চাওয়া হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সভা সমাবেশেও আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের জয়ী করার জন্য এখন থেকে ভোট চেয়ে যাচ্ছেন।
অপরদিকে নির্বাচনকে টার্গেট করে এখন থেকে সব ধরনের কর্মসূচি পালনে নামছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এদিকে ক্ষমতাসীন দলের বিপরীতে নির্বাচন ঘিরে তৎপর অন্যান্য রাজনৈতিক দল গুলোর পাশাপাশি দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে থাকা বিএনপি’র চোখ এখন নির্বাচনে। নানা ইস্যুতে সরকারবিরোধী আন্দোলন করলেও এখন দলটির লক্ষ্য সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করা। এজন্য যুগপৎ আন্দোলনও শুরু করেছে বিএনপি। সামনের সময়ে দলগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে সরকার পতনের এক দফা বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি নিয়ে মাঠে থাকতে চায় দলটি। এজন্য একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে ক্ষমতাসীন দলকে চাপে রাখতে চায়। নির্বাচনী বছরে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি।
দলীয় সূত্রমতে জানা যায়, গত মাস দুয়েক আগে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এক সভায় গিয়ে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান গত মাসের শেষের দিকে মাঠে নামার ঘোষণা দেন। যদিও পরে তিনি নিরব হয়ে যান। তিনি ওই সভায় বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাদাঁবাজ, ইভটিজিং, ভুমিদস্যু মুক্ত করার জন্য মাঠে নামবো আমি। এছাড়া এলাকার মা বোনরা যেন মাদককারবারি, ভুমিদস্যু চাদাঁবাজদের ছবি তুলে আমার ফেসবুক আইডিতে দিতে পারেন।
৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা ১৬ নম্বর ওয়ার্ড ত্রি বার্ষিক সম্মেলনে বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনার জন্য আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। সেই সাথে মাঠে ময়দানে গিয়ে প্রতিটি মানুষের কাছে নৌকার জন্য ভোট চাইতে হবে। নৌকার প্রার্থীদের জয়ী করার ওয়ার্ড কমিটিতে যারা দায়িত্ব পাবে তারা এখন থেকে মাঠে কাজ করে যাবে। সরকারের নানা উন্নয়ন ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে হবে।
এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আমরা দীর্ঘ দিন যাবৎ নৌকায় ভোট দিতে পারি না। তাই এবার এখানে আমরা নৌকায় ভোট দিতে চাই। এখানে আমরা নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানাই নেত্রীর কাছে। গত ১০ জানুয়ারির স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে একাধিক আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান জানান মানুষের প্রতি। জানা যায়, ২ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ-১ আসন রূপগঞ্জ এলাকায় মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগমনকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উজ্জীবিত হন। তারা মিছিল মিটিং নিয়ে ব্যাপক সমাগম ঘটান।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নৌকার দাবীর পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে কর্মী সম্মেলন করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। সেই সাথে এই আসনে নৌকা পাওয়ার জন্য এবার আগে থেকে মাঠ গুছানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সার হাসনাত মাঠ দাবরিয়ে যাচ্ছেন। পাশা পাশি এই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর চৌধুরী বিরু, এরফান হোসেন দীপ দলীয় মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মত ক্ষমতায় থাকার জন্য এখন থেকে নির্বাচনে প্রচারনায় নেমেছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ঘোষনা অনুযায়ী তারা এই বছরকে নির্বাচনী প্রচারনার বছর হিসেবে বেছে নিয়েছে। সে হিসেবে তারা এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এস.এ/জেসি


