Logo
Logo
×

রাজনীতি

আ.লীগ-বিএনপির কোন জায়গায় ঠাঁই নেই মুকুলের

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:৪১ পিএম

আ.লীগ-বিএনপির কোন জায়গায় ঠাঁই নেই মুকুলের
Swapno


# মুকুলকে পাঠ্যপুস্তক বই পরে ইতিহাস অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন: আনোয়ার
# যারা ক্ষমতাসীন দলের সাথে আতাঁত করে চলবে বিএনপি তাদেরকে মেনে নিবে না: টিপু

 


নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে আলোচিত সমালোচিত ব্যাক্তিদের মধ্যে অন্যতম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল। এই বিতর্কিত নেতা নানা সময় নানা বিতর্কের মাধ্যমে ফ্রন্ট লাইনে চলে আসে। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা গোপিনাথ জীবিত থাকাকালে জিয়াউর রহমানকে কুকুর বলেছিলেন।

 

 

ওই সময় বিএনপির নেতা আতাউর রহমান মুকুল স্টেজে থেকে মুচকি হেসেছিলেন। এ নিয়ে বিএনপির অনেক তৃণমূল নেতকর্মী তার উপরে ক্ষিপ্ত ও প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়াও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে লাঙ্গল মার্কার এজেন্টদের সার্পোট দিয়েছেন। যার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে পুরো দমে পচে গিয়েছিলেন এই মুকুল তারপর থেকেই এই মুকলকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নামে বলা হয় সেলিম ওসমানের চামচা মুকুল।

 

 

এবার এই মুকুল আবারো আলোচনায় এসেছেন কয়েকদিন আগে তিনি বলেছিলেন ‘মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কোন অবদান নেই।’ তার এই বক্তব্যের পর থেকেই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অনেক নেতাকর্মীই তার উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে গেছেন। অপর দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রোগ্রামে ও মুকুল মঞ্চে উঠতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা তিরস্কার করে মুকুলকে তাড়িয়ে দিয়েছে।

 

 

সব দিক মিলিয়ে তৃর্ণমূলের অনেক নেতাকর্মীদের ধারনা বিএনপিতে পদ ও আওয়ামী লীগ- জাতীয় পার্টির সাথে আতাঁত করে ও কোন জায়গায় তার ঠাই হবে না এই বিতর্কিত মুকলের। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর সেই পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দের বিদ্রোহী এই নেতা মুকুল আর তার চালে পরে বিএনপির আরো ১৩ জন নেতাকর্মী কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেয়।

 

 

তখন এই নেতা মুকুল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সলামকে নিয়ে বিরল মন্তব্য করেছিলেন তিনি বলেছিলেন,  সালাম কিয়ের নেতা, তারে দুই আনা দিয়েও দাম দেই না। তারে দুই আনা দিয়ে গুনায় ধরিনা। ওয়ে মুন্সিগঞ্জের কিয়ের নেতা, ওরে দায়িত্ব দিছে এখন চুরি কইরা ধান্দাবাজি কইরা খাইতাছে, ও কেন্দ্রের কিয়ের নেতা, আমরা জনগণের নেতা। সালামকে নারায়ণগঞ্জ অবাঞ্চিত ঘোষণা করলাম।

 

 

এই সালাম যদি নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে তাহলে চামড়া তুলে নিবো। তার পরে এই বিতর্কিত নেতার বিরুদ্ধে বিএনপির একাংশ নেতাকর্মী মিছিল মিটিং ও করেছে। দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষমতায় না থাকার কারণে ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বর্তমান সরকারের দমন-পীড়নে বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীগণ যেভাবে হয়রানি নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা ছিল।

 

 

অজানা নানা রহস্যের কারণে মুকুল সব সময় অনেকটাই নিরাপদে ছিলেন ও আছেন। এর আগে ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে লাঙ্গল মার্কার এজেন্টদের সার্পোট দিয়েছেন ও সে ও লাঙ্গল মার্কা ভোট দিয়েছেন। আর তিনি সেখানে স্লোগান দিয়েছিলেন দল যার যার সেলিম ওসমান সবার।

 

 

তৃণমূলের দাবি,  জিয়াউর রহমানকে যখন কুকুর বলা হয়েছিল তখন সে সামনে বসে হেঁেসছিল তখনই তাকে দল থেকে বাহিস্কার করার প্রয়োজন ছিল। আর এখন তিনি মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে অত্যন্তরীন কোন্দাল সৃষ্টি করার পায়তারা করছে। ক্ষমতাসীনদের সাথে আতাঁত করা মুকুল মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি পরতে পরতে জাড়িয়ে থাকা শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কোন অবদান নেই।

 

 

তার পর থেকেই আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা তাকে অশিক্ষিত বলে আখ্যা দিয়েছে। এ ছাড়া ও নেতাকর্মী দাবি, এই মুকুল কার ছাত্রছায়ায় এই ধরনের বক্তব্যে এটা ভাবার বিষয়। এই অশিক্ষিত মুকুলকে অনেকে ইতিহাস ও পরতে বলেছেন। এখন আবার নানা কারণে এই মুকুলকে তিরস্কার করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

 

 

(৪ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল নেতা-কর্মীদের মুক্তি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোসহ ১০দফা দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী নারায়ণগঞ্জ থেকে উপস্থিত ছিলেন।

 

 

তখন এই বিতর্কিত নেতা মুকুল অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা তিরস্কার করে মুকুলকে তাড়িয়ে দেন। তখন তারা মুকুলকে বলেন “তুমিতো পদত্যাগ করেছো। তোমারতো কোনো পদই নেই তাহলে তুমি কিভাবে এখানে উঠতে চাও”। এছাড়াও নানাভাবে মুকুলকে তিরস্কার করে সেখান থেকে নামিয়ে দেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

 

 

কেন্দ্রীয় নেতাদের তোপের মুখে মুকুল তড়িঘড়ি করে মঞ্চের সামনে থেকে চলে আসেন। দোলাবরা হওয়ায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কোন জায়গায় এই মুকুলকে আর ঠাই দেওয়া হবে না। যার কারণে তৃণমূলের দাবি এই বিতর্কিত নেতাকে রাজনীতি থেকে বহিস্কার করলে বিরোধী ও ক্ষমতাসীন কোন দলের সকল নেতাকর্মীই বিতর্কদের পাতানো জাল থেকে মুক্তি পাবে।

 

 

এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, আতাউর রহমান মুকুল লেখা পড়ায় বেশি একটা শিক্ষিত না,আর ইতিহাস হিসেবে তার কোন ধারনাই নেই। আর যদি সে লেখাপড়া জানতো পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস পরতো তাহলে এই মুকুল জানতে পারতো স্বাধীনতায় বঙ্গবন্ধুর কতটুকু ভূমিকা রয়েছে।

 

 

বিএনপির এই সমস্ত নেতারা লেখাপড়া অজানা মানুষতো তাই তাদের ইতিহাস সম্পর্কে কোন অভিজ্ঞতা নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান এই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ৯ মাসে স্বাধীনতার যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। এই স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তৈরি করতে করতে ২৫ বছর লাগতো। আন্দোলন ৬ দফা, ১১ দফা, ভাষা আন্দোলন, উনসত্তুরের গণঅভুথ্যান নানা কিছু নিয়ে এই স্বাধীনতা।

 

 

আর এ সবগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ভূমিকা ছিল ব্যাপক। আর এই মুকুল যে বললো কোন ভূমিকা নেই। তাই আমি তাকে পাঠ্যপুস্তক বই পরে ইতিহাস অর্জনের আহ্বান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, ২০০৮ সাল থেকে দল ক্ষমতায় নেই।

 

 

কিন্তু এই ১৫ বছর বিএনপি নেতা মুকুল আওয়ামী লীগ সরকারের এমপির সাথে তার দরহম মহরম সম্পর্ক। শুরুতে বন্দও উপজেলার চেয়ারম্যান থাকা সত্ত্বে ও তিনি তাদের সাথে যায়। কিন্তু সাবেক হয়ে যাওয়ার পরে ও তাদের দিকে নম্ম তাদের সভা সমাবেশে সে অংশ গ্রহণ করেন। আর দলের হাইকমান্ডের কাছে তারা বিষয়ে নানা অভিযোগ গিয়েছে।

 

 

আর তারা ও সকল ঘটনা যাচাই করে সত্য পেয়েছে। আর গোপিনাথ যে তার সমানে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেছিলেন তখন যদি উনি আসলে সত্যিকারের জিয়ার সৈনিক হতে তাহলে মঞ্চ থেকে প্রতিবাদ করে মেনে যেত। তিনি আবার ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে যারা বিএনপির পক্ষে ছিলেন তাদের মারছে ও কেন্দ্রে থেকে বাহির করে দিয়েছে।

 

 

তখন তিনি স্লোগান দিয়েছিলেন দল যার যার সেলিম ওসমান সবার। একটা বিএনপির লোক হয়ে কখনো এ কথা বলতে পারে না। আমরা এমনো শুনতে পেয়েছি সেলিম ওসমান যথন ষোষণা দিয়েছিলেন এমপি নির্বাচন করবে না। তখন তিনি ছিলেন এক রকম এখন আবার ঘোষণা দিয়েছেন এমপি নির্বাচন করবেন এখন আবার আরেক রকম।

 

 

তাই আমরা বুঝতে পারেছি তিনি আগের রূপে ফিরে আসছে। তিনি আবারও পায়তারা করছে বিএনপির নাম বিক্রি করে সেলিম ওসমানের পক্ষ হয়ে কাজ করতে। কিন্তু বিএনপি কখনো বার বার ভূল করবে না। বিএনপি একটাই কথা কেন্দ্র যাকে নমিশেন দেবে তার বিপক্ষে কেউ যেতে পারবে না। আর এই মুকুল আগে ও গিয়েছে এখনো আবার যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

 

 

আর যে দলের হাইকমান্ড মানে না দলের শৃঙ্খলা মানে না। সে কি দল করে বলে মনে হয়। আমরা কারো ব্যক্তি লোক না দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কেউ যদি এখন দলের দূর সময়ে দলের সাথে আতাঁত করে চলার জন্য বিএনপির ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকবে। তাদেরকে দলের নেতাকর্মীরা কখনো নেমে নিবে না।    এন. হুসেইন/ জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন