Logo
Logo
×

রাজনীতি

জেলায় উত্তাপ ভারে ন্যুজ মহানগর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট:

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:২৬ পিএম

জেলায় উত্তাপ ভারে ন্যুজ মহানগর
Swapno

 

# আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের ব্যর্থতায় হচ্ছে না থানা ও ওয়ার্ড কমিটি
# থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করছে না মহানগর বিএনপি

 

 

দীর্ঘ ৬মাস যাবৎ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর সেখানে বলা হয়েছিল অতি শীঘ্রই থানা কমিটি গুলো গঠন করার জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও মহানগর বিএনপির একটি ও থানা কমিটি গঠন করতে পারেনি কমিটির আহ্বয়ক ও সদস্য সচিব। অপর দিকে জেলা বিএনপির কমিটির অনুমোদন হয়েছে মাত্র ৪ মাস এই কয়েকদিনেই ফতুল্লা থানা বিএনপি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যোগ্য মাঠে পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের দ্বারা গঠন করা হয়েছে।

 

যার কারণে চলতি বছর বিএনপির যে চূড়ান্ত আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে মাঠে নামবে সেটা অচিরেই আরো জোরদার হবে। কিন্তু নেতাকর্মীদের দাবি, মহানগর বিএনপির কমিটি দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল। থানা কমিটিগুলো আগে করতে কিন্তু তারা তা না করে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নিজ ইচ্ছা মতোই তারা আগে গোগনগর ও আলীটেক ইউনিয়ন কমিটিগুলো গঠন করে। তার পরেই তারা হঠাৎ চুপ হয়ে পরে। আর বন্দর থানা বিএনপির কমিটি বর্তমানে অত্যন্ত জরুরী সেখানে বিএনপিকে মানুষের মাঝে মাঝে তুলে দেওয়ার কোন নির্দিষ্ট কর্মী নেই।

 

অপর দিকে সদর থানা বিএনপির কমিটিও অত্যন্ত জরুরী কারণ এই থানাগুলোর আওতাধীন কোন যোগ্য নেতৃত্ব না আসলে দলেও আরো কোন্দল সৃষ্টি হবে। অপর দিকে এই ৬ মাসে হয়নি একটিও ওয়ার্ড কমিটি মহানগরের আওতাধীন ১৭টি ওয়ার্ডের সকলগুলোর নেতৃত্ব শুন্য অবস্থায় ভুগছে। যার মূল কারণ নেতাকর্মীরা বলছে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের একঘেয়ামী ও একক রাজত্বের প্রভাব। যার কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছে জেলা বিএনপি পরে কমিটি পেয়েও কমিটির দেওয়ার মাধ্যমে মহানগর বিএনপিকে পিছিয়ে রাখলেন।

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপিতে সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহ্বায়ক ও আবু আল ইউসুফ থান টিপুকে সদস্য সচিব করে  ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। তারই ধারাবাহিকতায় তাদের বলা হয়েছিল। ৩ মাসের আগেই থানাসহ সকল ইউনিটের কমিটি গঠন করার জন্য। কিন্তু কোনভাবেই তারা কেন্দ্রের কথা মান্য করলো না। তারা তাদের ইচ্ছা মতো প্রথমেই ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা শুরু করলো। প্রথমে গোগনগর পরে আলীরটেক ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তার পরেই তারা নিশ্চুপ হয়ে যায়।

 

এছাড়া ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা কোন কমিটি আগে গঠন করা হবে। তা নিয়ে মহানগর বিএনপির কোন নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ আলোচনা করা হয়নি। তারা দুইজনের একক রাজত্বের মাধ্যমে ডিসিশন করে কমিটিগুলো গঠনের কাজ হাতে নিয়েছে। কিন্তু তারা ব্যাপক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন অতি শীঘ্রই তারা সকল থানাসহ ওয়ার্ড সব কমিটি গঠন করবেন ও সকল শূণ্যস্থানে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে শূণ্যস্থান পূরণ করা হবে। কিন্তু কোনভাবেই তাদের এই কথা আর কাজে মিল হলো না।

 

এছাড়া ও তারা তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে যে দুইটি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করলে সেগুলো জেলা বিএনপির থানা কমিটিগুলো দেওয়ার পর সকলের চোখের সামনে চলে আসে। আর সকলেই মহানগর বিএনপিকে দুইটা থানা এখনো দিতে না পারায় ব্যর্থ বলে থাকে। অপর দিকে মহানগরের প্রায় দুই মাস পরে জেলা বিএনপিতে গিয়াস উদ্দিনকে আহ্বায়ক ও গোলাম ফারুক খোকনকে সদস্য সচিব করে জেলা বিএনপির ৯ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্র। তারপর থেকেই জেলা বিএনপির চেইন অব কমান্ড ভুক্তভাবে দলের সকল কার্যত্রম পালন করে আসছে।

 

আর কমিটি দেওয়ার পর দলের কেন্দ্রেীয় কমিটির নেতাকর্মীদের যোগাযোগের স্বার্থে সকল নিয়মিত নীতি মেনেই কাজ করছে তারা। সেই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে ৫ ইউনিটের কমিটি গঠন করা হয়। চলতি মাসের (৪ ফেব্রুয়ারি) শনিবার জেলার অন্তর্গত ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও রূপগঞ্জ উপজেলা ও রূপগঞ্জের কাঞ্চন ও তারাব পৌরসভা বিএনপির কমিটি অনুমোদন করা হয়। এই কমিটিগুলোর মাধ্যমে জেলা বিএনপির সকল থানা, উপজেলা ও তারা ও যাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের বলে দিয়েছে। অতি শীঘ্রই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করতে।

 

সেটা ও শীঘ্রই হয়ে যাবে বলে ধারণা নেতাকর্মীদের। কিন্তু এই ৬ মাসে ও কেন্দ্রের নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে সকল কমিটিগুলো গঠনে ব্যর্থ মহানগর বিএনপি। তা নিয়ে চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনের ভিতরে আলোচনা ও সমালোচনা। তৃণমূলের দাবি, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব যদি নিজেরাই সকল কার্যক্রমে বাকিদের পিছিয়ে রেখে তারা সব করতে চায় তাহলে সেই সংগঠনে উন্নতি থেকে ধ্বংস হয় বেশি। আর তারা যদি জেলা বিএনপির মতো কমিটির সকলেই সমন্বয়ভাবে কাজ করে তাহলে তাদেরকে পিছিয়ে রাখা অনেকটাই কঠিন হতো।

 

আর মনে হচ্ছে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দফায় দফায় আন্দোলন করতে করতে থিতু হয়ে গেছে তাই তারা মূল থানা কমিটি দিতে ব্যর্থতার প্রমাণ দিচ্ছেন। আর বর্তমানে বিএনপির ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রামের বছর কিন্তু এখন ও যদি বিএনপির কর্মী স্থান ওয়ার্ড, থানা কমিটিগুলো না দেওয়া হয়। তাহলে মহানগরের থানা ওয়ার্ডগুলোতে বিএনপির প্রচার প্রচারনা কম হবে। আর বর্তমানে যে নেতাকর্মী মহানগর বিএনপির সাথে সম্পৃক্তভাবে কাজ করছে তারা যদি মূল্যায়ন না পায় তাহলে তারা পিছিয়ে যাবে।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন