ঘোলা পানিতে স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত মুকুল
হাবিবুর রহমান
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৪১ পিএম
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল। তিনি নানা সময় দলের ভিতরে বিতর্কের জন্ম দিয়ে থাকে। আর দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার অভ্যাস অনেক আগ থেকেই রয়েছে মুকুলের। তারই ধারাবহিকতায় তিনি ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতো আগামী দ্বাদশ নির্বাচনে ও করার পায়তারা করছে এই মুকুল।
আর নানা সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কিত হয়ে তিনি এটাই আভাসই সবাইকে দিতে চায়। নেতাকর্মীদে দাবি, মুকুল কখনো বিএনপিতে জিয়ার সৈনিক হিসেবে কাজ করেনি। তিনি সব সময় সুফলের পিছনে দৌঁড়ঝাপ করেছে। তাই তিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত আতাঁত করে চলে নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিপদে ফালিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনকেও ঘিরে তারা নতুন কৌশল এখন আবার না হওয়ার পথে আটকে রয়েছে। কারণ এখন আর তার পাশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেউ নেই। তার মাঝে ও যদি কোন স্থানীয় সাংসদের ছত্রছায়ায় তিনি আবারো জেগে উঠতে চায় তাহলে তাকে এবার বিএনপির নেতাকর্মীরাই দমিয়ে দিবে।
কারণ এখন এই মুকুলকে সকলেই দোলবারা বলে থাকে। তৃণমূলের দাবি নেতাকর্মীরা এখন সবাই সজাগ কেউ আর দলের ছাত্রছায়ায় অরাজনৈতিকতা করতে পারবে না।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নতুন কমিটিতে নানা সমালোচিত মুকুলকে কেন্দ্র যুগ্ম আহ্বায়কের পদ দিয়েছেন। কিন্তু তাতে তার হয়নি তিনি আরো বড় পদের আশা করে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। আর কমিটিতে থাকা তার আরো সাঙ্গপাঙ্গদের তিনি বাধ্য করে এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করার জন্য আর সবাই তার অনুগামী হয়ে পদত্যাগ করেন।
তার পর থেকেই মহানগর বিএনপিকে নানা দূরনাম ছড়িয়ে ভাঙ্গার জন্য ব্যাপক পায়তারা করছে এই মুকুল। সেই প্রেক্ষিতে তিনি আবার দলের কেন্দ্রীয় নেতা সালামকে নিয়ে বিরল মন্তব্য করেছিল তিনি। তার এই মন্তব্যে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। এখন আবার এই মুকুল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনে আঘাত দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কোন অবদান নেই। তা নিয়ে এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে চলেছে নানা আলোচনা সমালোচনা। এ ছাড়া ও দুই নৌকায় চলা আতাউর রহমান মুকুল এখন নতুন পায়তারা ভুনছে। তিনি এতোদিন শুনেছিলেন এমপি সেলিম ওসমান দ্বাদশ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেন না।
তা শোনার পর থেকেই এই মুকুল রাজনীতি থেকে অনেকটাই ঝিমিয়ে পরেছিলেন। কিন্তু এখন যখন শুনেছেন সেলিম ওসমান মাঠে সরব আছে আবারো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখন আবার তিনি ফুরফুরে হয়ে উঠেছেন। এখন তিনি আবার তার দলবল নিয়ে বিএনপির সাথে আবারো বেঈমানি করার জন্য উঠে পরে লেগেছে।
এতোদিন এই আতাঁতকারী মুকুলের চিন্তা ছিল। সেলিম ওসমান নির্বাচন না করলে বিএনপি আর করলে আবারো সেই পুরনো রূপ দল দল যারা যার সেলিম ওসমান সবার সেই প্রেক্ষিতে কাজ করার। বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে আরো জানা গেছে, এই মুকুল এখন তার চাচাতো ভাই সাবেক এমপি কালামকে টোপ হিসেবে ব্যাবহার করছে।
তিনি তাকে ব্যাবহার করে চাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি থেকে তার ভাইকে দেখিয়ে মনোনয়ন তার পক্ষে আনার জন্য। আর এ ছাড়া ও তার ভাতিজা আবুল কাউসার আশা ও তার কৌশল সমদ্ধে ধারনা পেয়ে গেছে। তাই উপরে কাউসার ও মুকুলের মধ্যে মিল থাকলেও ভেতরে তাদের মধ্যে কোন মিল নেই। যার কারণে বন্দর বিএনপির রাজনীতিতে সৃষ্টি হচ্ছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব।
এর আগে, ১৯৯৬-২০০১ সালের নির্বাচনে-৫ আসন থেকে সাংসদ হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাবেক এমপি কালাম ও তৈমূর আলম খন্দকার। তখন এই তৈমূর আলমের সাথে নির্বাচনী প্রচারনায় তার পিছনে পিছনে থাকতেন এই আতাউর রহমান মুকুল তখন তৈমূরের সাথেই সদা সর্বদা থাকতেন ও তারা কি বলে তা নিয়ে সে আবার তার ভাই সাবেক এমপি কালামের কাছে গিয়ে বলতেন।
মূলত তিনি তৈমূরের সাথে থেকে কালামের মনোয়নের জোরদার চেষ্টা করেছেন। তখন সে তৈমূরের সাথে থেকে তার সাথে ব্যাপক বেইমানি করার কারণে তৈমূরের নেতাকর্মীরা অনেকেই এই মুকুলের উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় কর্মী হওয়ার কারণে তাকে ছাড় দেয়।
তারই ধারবাহিকতায় ২০১৪ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির কোন প্রার্থী না থাকায় ক্ষমতাসীন দল জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে পরোক্ষভাবে নিজ সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করেন আতাউর রহমান মুকুল। যদিও তৎকালীন সময়ে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল তারা কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।
কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্তকে অনেকটা উপেক্ষা করেই সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করেন আতাউর রহমান মুকুল। ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর বিজয় র্যালীতে উপস্থিত থেকে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানের মধ্যেও ছিলেন বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল। এর পর থেকেই তিনি নিয়মিত এমপি সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ শুরু করেন।
২০১৫ সালের জেলা পরিষদের মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানকে কুকুর বলে গালি দিয়েছিলেন কমান্ডার গোপীনাথ। আর বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। ওই সময় তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। বরং মুচকি হেঁসেছিলেন।
অপর দিকে ক্ষমতাসীন দলের সাথে সমঝোতার অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সরাসরি মহাজোটের প্রার্থী সেলিম ওসমানের জন্য আতাউর রহমান মুকুল বিএনপির পোলিং এজেন্টদের মারধর করেন আর ভোটারদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ কেন্দ্রে পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।
এ ছাড়া ও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কারণে কেন্দ্রীয় মঞ্চে ও তাকে সমাবেশের দিন উঠতে দেওয়া হয়নি। যার কারণে তৃণমূলের দাবি কোন জায়গায় এই মুকুল আর ঠাঁই পাবে না। আর বর্তমানে তিনি দলে ভিতরে আবার ও যে কোন্দল লাগানোর চেষ্টা করছে। তারা এখন আর কাজে লাগবে না।
নেতা-কর্মীরা দাবি জানিয়েছে এবার দলের বিরুদ্ধে যে অরাজনৈতিক করার চেষ্টা করবে; এখন তাকে আর দলে কোনভাবেই জায়গা দেওয়া হবে না। আর দলের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মুকুলের অরাজনৈতিকতার কালো হাত ভেঙ্গে পড়ার অপেক্ষায়। এন.হুসেইন/জেসি


