এমপিদের মাঠে নামার নির্দেশ আওয়ামী লীগের
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৭:৫৭ পিএম
# কোন্দল ভুলে ঐক্যের নির্দেশ
আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির রাজনীতি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত। দুই দলই মাঠে কর্মসূচি দিয়ে রাজপথ নিজেদের কব্জায় রাখতে মরিয়া হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে একই দিনে ক্ষমতাসীন দল আর বিরোধী দল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি ১০ দফা দাবী আদায়সহ সরকারের পদত্যাগের দাবীতে পদযাত্রা করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাদের বিপরীতে সারাদেশে ইউনিয়নে শান্তি সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
এদিকে আগামী নির্বাচন গিরে সংসদ সদস্যদের যারা নিজ এলাকায় গণ সংযোগ করার নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। গত ৭ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের সাথে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের গণসংযোগ বাড়ানোর জন্য দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের গণসংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি, দলীয় দ্বন্দ্ব-কোন্দল দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভা নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নির্বাচন কমিশন তথ্যমতে, এই বছরের ডিসেম্বর শেষ সপ্তাহে কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে। তারই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারনায় নেমে টানা চতুর্থ বারের মত ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকার জন্য ভোট চেয়ে যাচ্ছেন।
এই দিক দিয়ে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সংসদ সদস্যরা তেমন ভাবে মাঠে নামেন নাই। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান গত জানুয়ারি ২১ তারিখের পরে মাঠে নামার ঘোষনা দিয়ে পরে থেমে যান। যা এখনো পর্যন্ত নামতে দেখা যায় নাই।
দলীয় সূত্রমতে নারায়ণগঞ্জকে আওয়ামী লীগের সুথিকাগার বলা হয়। স্থানীয় নেতা কর্মীরা বিভিন্ন সভা সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে তা বলে থাকেন। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনিতেও তা উল্লেখ্য রয়েছে। তবে এখানে ক্ষমতাসীন দলের মাঝে উত্তর দক্ষিন বলয়ের প্রভাব রয়েছে। সেই সাথে দুই বলয়ের মাঝে কোন্দলের বিষয় বিভিন্ন নির্বাচনের সময় স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান অনুসারীদের উত্তর বলয় হিসেবে চিনেন স্থানীয় রাজনীতিবিদরা। অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর অনুসারীদের দক্ষিন বলয় হিসেবে জানেন নেতৃবৃন্দ।
ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে এই দুই বলয়ের প্রভাব বিস্তার রয়েছে। তাদের মাঝে ভিতর গত ভাবে কোন্দল রয়েছে। সুযোগ পাইলে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলেন না। স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, দলীয় কোন্দলের কারণে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে এখনো আওয়ামী লীগের কমিটি হয় না। বিশেষ করে ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নে সম্মেলন হওয়ার পরেও এখানে কোন কমিটি নেই।
অভিযোগ রয়েছে দলীয় কোন্দলের কারনে এখানকার কমিটি আটকে আছে। একই সাথে তার পার্শ্ববর্তি ইউনিয়ন আলীরটেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কমিটি বিহীন হয়ে আছে। তাছাড়া বন্দর, সোনারাগাঁ, রূপগঞ্জ উপজেলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি দলীয় কোন্দলের কারনে হচ্ছে না বলে স্থানীয় নেতা কর্মীদের অভিযোগ। অথচ কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা রয়েছে দলীয় কোন্দল ভুলে গিয়ে আওয়ামী লীগকেন ক্ষমতায় আনার জন্য সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মাঝে ৩টি আসনে নৌকার সংসদ সদস্য রয়েছে। আর বাকি দুটি আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রয়েছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগী গাজী রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নজরুল ইসলাম বাবু। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সংসদ সদস্য হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগের প্রভাব শালী নেতা শামীম ওসমান।
অন্যান্য দুটি আসনের মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে এমপি হিসেবে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে রয়েছে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম ওসমান। তবে জাতীয় পার্টির দখলে থাকা আসনগুলোতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন।
কেন্দ্রীয় নেতারাও তাদের এই দাবী পুরণে আশ্বস্ত করেছে। তার মাঝে সোনারগাঁ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে নেয়ার জন্য ওই এলাকার স্থানীয় নেতারা এবার মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। তারা এবার ছাড় দিতে নারাজ। তবে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারির শান্তি সমাবেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা মাঠে নামছে। এন.হুসেইন/জেসি


