শনিবারের কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি বিএনপির
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:০৬ পিএম
# সকল ওয়ার্ডের নেতাকর্মী প্রস্তুতি নিয়েছে : সাখাওয়াত
# শান্তিপূর্ণভাবে কর্মীদের অংশ নেয়ার আহবান জানানো হয়েছে : খোকন
দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই আবারো বিরোধীদল বিএনপি এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে রাজনীতির মাঠ আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এখন তারা একই দিনে এক কৌশলে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি পদযাত্রা ও আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ন সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। যা নিয়ে চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা সমালোচনা।
এদিকে দুই দলই ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের দুই দলের নেতাকর্মীই উৎফুল্ল করছেন। কিন্তু বিএনপির নেতাকমীদের দাবি, আওয়ামী লীগ যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন। বিএনপির সাথে জনগণ রয়েছে। আর জনগণ যেখানে থাকে সেখানে কোন রাজনৈতিক দলের কথায় লাভ হয় না।
এখন নেতা-কর্মীরা ধারণা করছেন এই কর্মসূচি ঘিরে বিএনপিকে আগুন সন্ত্রাসের আখ্যা আবারো দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ চেষ্টা করবে কিন্ত নেতাকর্মীরা বলছে আমরা কোন ভাবেই তাদের সাথে কোন সংহিসতায় যাবে না। আমরা আমাদের দেশ নায়কের কথা মতোই শান্তিপূর্ন কর্মসূচি পালন করবো।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ থেকে বিএনপির মহা সচিব মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ের পদযাত্রা করার ঘোষণা দেয়। এই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে একই দিনে আওয়ামী লীগের সভা নেত্রী সকল ইউনিয়নে শান্তিপূর্ন সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন।
যার কারণে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই আওয়ামী লীগের এই ঘোষণাকে দিক্কার জানিয়েছেন। আর তারা বলছেন আওয়ামী লীগ আমাদের দামিয়ে রাখার জন্য ইতিমধ্যেই তারা বিভিন্ন প্রশাসনিক কৌশলসহ নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। যদি ও এখন পর্যন্ত কোথাও কোনরকম সহিংসতা ঘটেনি।
কিন্তু সকলেই বলছে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে। অপরি দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা পদযাত্রা কর্মসূচিকে ঘিরে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা পালন করেছেন। আর তারা সকল নেতাকর্মীদের অবগত করেছেন নেতাকর্মীদের থাকার জন্য। সকল নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন পরে এখন ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মসূচি পেয়ে অনেকটাই উৎফুল্ল হয়ে উঠছে।
আর সকলেই কর্মসূচি সফলের লক্ষ্যে কর্মসূচি যেন আরো জোরদার হয় সেই বিষয়ে কাজ করছে। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নেতাকমীরা এই শান্তিপূর্ন কর্মসূচিকে অশান্তিপূর্ন করতে চাইলে ও তারা কোন সংঘাতে জারাবে না। তারা সকল নেতাকর্মী নিয়ে সাধ্য অনুযায়ী কর্মসূচি পালন ও সফল করবে।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, আগামী ১১ তারিখ আমাদের প্রতিটি ইউনিয়নে পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্র। আমাদের মহানগরের অধীনে ৭ টি ইউনিয়ন আছে সবগুলোর মধ্যেই ্এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। আর এই পদযাত্রা কর্মসূচিতে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও অংশ গ্রহন করবে।
সেদিন আমরা সকল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে আমরা এই পদযাত্রা পালন করবো। আর সকল নেতাকর্মী এই কর্মসূচি পেয়ে তাদের মধ্যে অধিক আগ্রহ জাগ্রত হয়েছে। আর আমরা মনে করছি এই কর্মসূচিতে জনগণের অংশগ্রহণও থাকবে। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আমাদের এই কর্মসূচি পালন করবো।
তিনি আরো বলেন, আমাদের মতো একই কর্মসূচি এখন আওয়ামী লীগ ও দিয়েছে। আর আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললে ও তাদের আচরনটা হলো বাকশালীদের মতো তারা বিরোধী দলকে সহ্য করতে পারে না। আর তারা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রামকে তারা সব সময় ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে অন্যরূপ দেওয়ার চেষ্টা করে।
আর গত ৪ তারিখে একটি প্রোগ্রাম দিয়েছি আর সেই প্রোগ্রাম থেকে আগামী ১১ তারিখের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আর তারা পারতো ৪ তারিখের পর থেকে ১১ তারিখের আগ পর্যন্ত যে তারিখগুলো গিয়েছে সেগুলোর মধ্যে উনাদের কর্মসূচি পালন করতো। কিন্তু তারা সেটা না করে বিএনপি যেদিন কর্মসূচি দিয়েছে। তারা একই দিনেই প্রোগ্রাম দিয়েছে।
আমরা মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ বিরোধী দল আর বিএনপি সরকারি দল। আসলে বলা চলে আওয়ামী লীগ এখন আর নেই। কারণ জনগণ ও সাধারন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ও তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আর তারা টাকা কামাইছে সুবিধাভোগ করে সন্ত্রাস করে। আর এখন তারা প্রশাসন দিয়ে বিরোধী দলকে দমন করার জন্য তারা এখন আমাদের সাথে একই কর্মসূচি এক দিনে দিয়ে সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা আমাদের সকল থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি। তারা যাতে যথাযথভাবে সকলকে বলে দেয়। আর আমরা ও আমাদের সকল নেতাকর্মীদের অবগত করেছি। তারা যাতে সকল ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে।
আমাদের সকল কর্মসূচিই সাধারন জনগণের দাবি। আর জনগণের বিপক্ষে যদি কোন দল কর্মসূচি দিয়ে দাড়াতে চায়। তাহলে তো জনগণের সাথে টিকবে না। আমরা মনে করছি না আওয়ামী লীগ আমাদের কর্মসূচিতে কোন বাধাগ্রস্থ করতে পারবে।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, ইতিমধ্যে আমরা আমাদের প্রস্তুতি মূলক দুইটি সভা করেছি। আর আমরা প্রস্তুত ও আমাদের সকল ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছি আর তারা ইউনিয়ন বিত্তিক পদযাত্রা কর্মসূচি পেয়ে অনেকটাই উজ্জ্বীবিত হয়ে গেছে। আর আমরা আশা করছি আমরা ব্যাপকভাবে এই কর্মসূচি পালন করতে পারবো।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম.এইচ মামুন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা আমাদের পদযাত্রা কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আর আমরা আমাদের আওতাধীন যে ৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। সবগুলোর মধ্যেই আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে সেখানকার কর্মসূচি পালন করবো। আর আমরা এই কর্মসূচি নিয়ে দুইবার প্রস্তুতি সভা পালন করেছি।
আমরা আশা করছি ব্যাপক হারে লোক সমাগম হবে। আর একই দিনে আমরা শুনেছি আওয়ামী লীগ ও কর্মসূচি দিয়েছে। আমরা আশা করছি আমাদের মধ্যে কোন সমস্যা হবে না। কারণ বিএনপি একটি শান্তিপূর্ণদল আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী। কিন্তু তারা পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করে একটি ইস্যু তৈরি করার জন্য চেষ্টা করতেছে।
কিন্তু আমরা শান্তিপূর্ণতে বিশ্বাসী আমরা আমাদের আগামী দিনের রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমান বলেছেন আমাদের শন্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে। আর এখন আপনারা দেখেছেন হাজার হাজার জনগণ আমাদের কর্মসূচি যোগ দিয়েছে। আর যতটাই ঝড় ঝাপটা হোক না কেন তারেক জিয়ার নির্দেশের কর্মসূচি আমরা যথাযথভাবে পালন করবো।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা যারা অঙ্গসংগঠন রয়েছে সকলেই আমরা অনেকটাই উজ্জ্বীবিত রয়েছি এই কর্মসূচি নিয়ে। আমরা সেদিন এনায়েতনগর-কাশীপুর- কুতুবপুর নিয়ে এই পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবো। আর আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
আর আমরা দফায় দফায় আলোচনা সভা করে যাচ্ছি। আর একই দিনে আওয়ামী লীগ ও কর্মসূচি দিয়েছে। আমরা আশা করছি আমাদের কোন সমস্যা হবে না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি পালন করতে পারবো। এন.হুসেইন/জেসি


