কর্মসূচি নিয়ে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ-বিএনপি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:৫২ এএম
# ইউনিয়ন কমিটিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে : আবদুল হাই
# তারা ১১ তারিখ বাদ দিয়ে অন্য তারিখ দিতে পারতো : সাখাওয়াত হোসেন
# কর্মসূচি পালনের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি আছে : সাইফুল্লাহ বাদল
# আশা করি কর্মসূচি পালনে কোন সমস্যা হবে না : মোশারফ হোসেন
# কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রতিটি ইউনিয়নে প্রস্তুতি সভা করেছি : টিটু
আজ ১১ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দেশ জুড়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ। কেন্দ্রীয় সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আলাদাভাবে তাদের কর্মসূচি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন উভয় দলের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে একইদিনে দেশের প্রতিটি জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে একযোগে শান্তি সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার পতনের আন্দোলনে তৃণমূলের জনগণকে সম্পৃক্ত করাসহ দশ দফা দাবির সমর্থনে বিএনপির এই কর্মসূচির আয়োজন। বিএনপি ছাড়াও সাতটি রাজনৈতিক দলের জোট গণতন্ত্র মঞ্চ তাদের ১৪ দফা দাবির পক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে পদযাত্রা ও গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আর আওয়ামী লীগ তাদের শান্তি সমাবেশের মাধ্যমে তৃণমূলের মানুষের কাছে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরাসহ বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময়ে দেশের মানুষ কী অবস্থায় ছিল সেগুলো তুলে ধরবে।
তবে একই দিনে দুই বৃহত্তর দলের কর্মসূচিকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে কৌতুহলসহ কিছুটা উৎকন্ঠার সৃষ্টি হলেও কোন প্রকার সমস্যার সৃষ্টি হবে না বলে উভয় পক্ষ থেকেই আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আমরা এখানকার প্রতিটি ইউনিয়নে প্রস্তুতি সভা করেছি। এখনও অনেক ইউনিয়নে এই সভা হচ্ছে। এই সভায় আমরা আমাদের করনীয় নির্ধারণসহ সবার মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি। ১১ ফেব্রুয়ারি আমরা কোথাও সকালে আবার কোথাও বিকেলে এই পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবো।
যেসব স্থানে জনসাধারণের বেশি উপস্থিতি থাকবে আমরা সেসব জায়গাকে টার্গেট করে পদযাত্রার চেষ্টা করবো। তিনি আরও বলেন এই কর্মসূচি আমাদের আন্দোলনের একটি অংশ। আমরা কেন্দ্রের যেকোন কর্মসূচিই জোরালোভাবে পালন করবো। আমাদের লক্ষ্য হলো আগামীতে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করা।
গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারসহ দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত করা। একই দিনে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে সবারই কর্মসূচি পালন করার অধিকার আছে। আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করবো তারা তাদের কর্মসূচি পালন করবে। এতে কোন সমস্যার কারণ দেখছি না। তবে এই গণতান্ত্রিক পন্থাটা যেন বজায় থাকে আমরা সেটা আশা প্রকাশ করবো।
কর্মসূচির বিষয়ে সোনারগা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা আমাদের মতো করে আমাদের কর্মসূচি পালন করবো, আওয়ামী লীগ তাদের মতো করে তাদের কর্মসূচি পালন করবে। আশা করি আমাদের মধ্যে কর্মসূচি নিয়ে কোন সমস্যা হবে না।
আমরা প্রত্যেকটি ইউনিয়ন কমিটিকে আমাদের কর্মসূচি পালনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমরা এই বিষয়ে জেলার কোন নেতাকে এখনও আমন্ত্রন জানাইনি। কারণ প্রত্যেকেরই আলাদা প্রোগ্রাম আছে। যেহেতু আমাদের সভাপতিও একজন কেন্দ্রীয় নেতা, তাই তার নিয়ন্ত্রণেই আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করবো।
কর্মসূচির বিষয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদল জানান, আমাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি আছে। আমরা কাশিপুর প্রাইমারী স্কুলের পাশে তফসিল অফিসের মাঠে একটি শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছি। সেখানে আমাদের নেতা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান উপস্থিত থাকবেন বলে আমরা আশা প্রকাশ করছি। এই কর্মসূচির জন্য প্রত্যেকটি ইউনিয়ন কমিটিকে আমরা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ১১ তারিখ আমাদের প্রতিটি ইউনিয়নে পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্র। আমাদের এই পদযাত্রা কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও অংশগ্রহণ করবেন। আমরা মনে করি এই কর্মসূচিতে জনগণেরও অংশগ্রহণ থাকবে। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আমাদের এই কর্মসূচি পালন করবো।
আওয়ামী লীগও আমাদের মতো একই দিনে কর্মসূচি দিয়েছে। তারা বিরোধী দলকে সহ্য করতে পারে না। তারা সব সময়ই বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রামকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে অন্যরূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। যেহেতু গত ৪ তারিখ আমাদের এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাই তারা পারতো এই তারিখটি বাদ দিয়ে অন্য যেকোন তারিখে তাদের কর্মসূচি পালন করতে। কিন্তু তারা একই দিনে প্রোগ্রাম দিয়েছে।
জনগণ এখন আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এখন তারা প্রশাসন দিয়ে বিরোধী দলকে দমন করতে আমাদের সাথে একই দিনে কর্মসূচি দিয়ে সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করছে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচির বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই যুগের চিন্তাকে বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের জন্য আমাদের সব রকম প্রস্তুতি আছে। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন কমিটিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে। আমরাও কয়েকটি ইউনিয়নের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করবো। এন.হুসেইন/জেসি


