# আড়াইহাজার এফেক্ট বলছেন মহানগরের নেতারা
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের মধ্যে সব থেকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ নানা বিতর্ক মাথায় ছন্নছাড়া অবস্থায় চলছে মহানগর যুবদল। আর এই বিতর্কিত কমিটিকে আবারো রদ-বদলের মাধ্যমে ভেঙ্গে চুড়ে গঠনের দাবি জানিয়েছেন কেন্দ্র।
জানা গেছে, মহানগর বিএনপির কিছু নেতাকর্মীদের কারণে এখনও কমিটিকে আবারো নতুন রূপে আনতে পারছে না কেন্দ্র। কারণ মহানগর বিএনপির এখন দফায় দফায় আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছেন। আর তা হয়ে উঠছে শুধু অঙ্গসংগঠনের ছত্রছায়ায়। তাই তারা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে আলাদা আলাদা ভাবে লোক নিয়ে আসার জন্য বলে।
আর তাদের নেতকর্মী দেখিয়ে সুবিধা ভোগ করে তারা। অপর দিকে এখন আবার শোনা যাচ্ছে নতুন আওয়াজ কমিটিতে আবারো আজাদের অর্থায়নে বিতর্কিত এই সজলকে কমিটির মূল স্থানে দেখতে চায় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
ইতিমধ্যেই তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাউদ্দিন টুকুর কাছে আবারো মনিরুল ইসলামকে মূল স্থানে চেয়ে মহানগর বিএনপির একটি প্যাডে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। যার কারণে নেতাকর্মীদের দাবি নানা বিতর্কিত হওয়ার কারণে বিএনপির আড়াইহাজারের নেতা আজাদ সরাসরি তার জন্য কিছু করতে পারছে না।
তাই তিনি মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবকে দিয়ে এই কাজ করাতে চাইছেন। আর এটা যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর সাবেক কমিটির সাধারন সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মন্তুকে আহ্বায়ক ও মনিরুল ইসলাম সজলকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। পরবর্তীতে দুই হাজার ২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের সাথে বৈঠক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আওতাভুক্ত সকল থানা ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
আর বলা হয়েছিল অতি শীগ্রই কমিটি গঠন করতে কিন্তু ১৪ মাসে ও তারা থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে পারেনি। জানা গেছে, তারা আজাদের ইশারায় পদ বানিজ্যের চেষ্টা শুরু করে এবং টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা নেতৃবৃন্দদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠে। আর এ বিষয়ে কেন্দ্রে অনেক নেতাকর্মীরা দফায় দফায় অভিযোগ ও দিয়েছে। যার কারণে কেন্দ্র এই বিতর্কিত কমিটিকে রদ-বদলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করার আশ্বাস দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে সভাপতি ও মমতাজউদ্দিন মন্তুকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। আংশিক কমিটি ঘোষনার ৫ মাস পর খোরশেদকেই সভাপতি রেখে ২০১ সদস্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়ে ছিল।
সেই সময়ের মহানগর যুবদলের কমিটির সাধারন সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মন্তু যখন দেখতে পায় সেই কমিটিতে বিতর্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন ক্ষুদ কমিটির সভাপতি মাকসুদুল খন্দকার খোরশেদ তখন মন্তু তখন তার থেকে পিছিয়ে গিয়ে সাগর প্রধানের সাথে আলাদা আলাদা দলীয় কর্মসূচি পালন করতো। এরপর মহানগর যুবদলের কমিটি বাতিল করে দেয় কেন্দ্র।
তখনই আবার কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে পদ পায় সেই কমিটির সাধারন সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মন্তু। আর সাধারন সম্পাদক করা হয় মনিরুল ইসলাম সজলকে সে আবার কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের অনুগামী।
তখন আজাদে কলকাঠিতে সজলতো আজাদের লোক আগে থেকেই বিতর্কিত তার সাথে আবার মন্তুকে বুলিয়ে বুঝিয়ে নিয়ে কমিটি বানিজ্যে করার চেষ্টা শুরু করে। যদিও দল ক্ষমতায় না থাকার কারণে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের কাছে অভিযোগ করা একদমই সহজ ছিলো সেই প্রেক্ষিতে নানান অভিযোগ ও যুবদল কর্মীদের চাপে সেটি করা আর সম্ভব হয়নি।
দফায় দফায় কেন্দ্রে অমুকের অভিযোগ পরে আবার তমুকের অভিযোগ তার কারণে তখনই কোনঠাসা হয়ে পরে মন্তু-সজল। এখন আবার আজাদের অর্থায়নে মহানগর বিএনপির একটি পক্ষ সজল হয়ে। কেন্দ্রে চিঠি পাঠিয়েছে ও জোরদার তদবির করে তাই নেতাকর্মীরা দাবি করছে বার বার সজলেই কি মধু।
এ ছাড়া আবার নেতাকর্মীদের প্রশ্ন উঠছে সজলই কেন এখানে যুবদল নেতা মাযহারুল ইসলাম জোসেফ রয়েছে, মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ রয়েছে, মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর প্রধান রয়েছে, যুবদল নেতা পারভেজ মল্লিক রয়েছে এছাড়াও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক অনেক তুখোড় নেতাকর্মীরা ও রয়েছে।
জানা যায়, সজলকে আবারো কমিটি বানিজ্যে করার সুবিধা দেওয়ার জন্য মহানগর বিএনপির একটি প্যাডে চিঠি তার নাম প্রথমে দিয়ে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। যার কারণে নেতাকর্মীরা বলছে, এখন টিপু এবং সাখাওয়াতের ঘাড়ে সাওয়ার করতেছে সজল। এছাড়া ও অনেক মহানগরের অনেক নেতাকর্মীর দাবি করছে, এই কাজটা মূলত মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সেল্ডারেই হচ্ছে।
তারা আরো বলেছে, এখানে আড়াইহাজারের সেই নেতাই সজলের কাঁদে ভর করে টিপুর উপরে সাওয়ার হওয়ার চেষ্টা করছে। আর এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দাবি জানায়িছে যুবদলের কমিটিতে সেই বিতর্কিতদের হাতে দেওয়ার জন্য টিপু যে পায়তারা শুরু করের্ছে।
তা হলে আর যদি তার কথা অনুুযায়ী কেন্দ্র আবারো এই মনিরুল ইসলাম সজলকে কমিটিতে স্থান দেয় তাহলে আগামীতে মহানগর যুবদল আরো বিতর্কিত হবে। আর বর্তমানে বিএনপির সকল আন্দোলন সংগ্রামে সাধারন জনগণ যেভাবে তাদের সম্পৃক্ত হচ্ছে।
যদি তারা জনগণের দাবির বিষয়ে রাজপথে নেমে তাদের সুবিধা নিয়ে নেতাকর্মীরা নানা বিতর্কে জড়িয়ে পরেছেন তখনই তারাও তাদের থেকে পিছিয়ে যাবে। আর রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে সকল তৃণমূল ও সাধারন জনগণ মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে থেকে হারিয়ে যাবে। এন.হুসেইন/জেসি


