Logo
Logo
×

রাজনীতি

ফের মাঠে নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

Icon

যুগের চিন্তা  রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:৫৩ পিএম

ফের মাঠে নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের
Swapno

 

# নারায়ণগঞ্জ জামাত ও জঙ্গিদের ঘাঁটি : শামীম ওসমান


আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ জেলার আওয়ামী লীগ বিএনপি রাজনীতি উত্তপ্ত হচ্ছে। একই দিনে বিএনপি আওয়ামী লীগ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে তৃণমূল কর্মীদের শক্তিশালী করে তুলছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে প্রতিহত করতে চায় আর আওয়ামী লীগ টিকে থাকতে চায়।

 

 

গতকাল সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত প্রতিটি ইউনিয়নে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন। তাদের বিপরীতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কিছু ইউনিয়ন ব্যতিত প্রতিটি ইউনিয়নে শান্তি সমাবেশ করেন। তারা বিএনপির যে কোন অরাজাকতাকে প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বলে হুঙ্কার প্রদান করেন।

 

 

এদিকে গত কয়েকদিন আগে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড জানান, আওয়ামী লীগের সকল সংসদ সদস্যকে মাঠে নামার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সিদ্ধিরগঞ্জের এক সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান জানুয়ারির ২১ তারিখের পরে মাঠে নামবে বলে ঘোষণা দেন।

 

 

তবে তিনি এই ঘোষনা দিয়ে দেশের বাইরে গিয়ে কয়েক দিন সময় কাটিয়ে আসেন। সেই সাথে ঘোষনা অনুযায়ী তাকে মাঠে দেখতে পান নাই নেতা কর্মীরা। তার এই ঘোষনার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল কাশিপুর শান্তি সমাবেশে গিয়ে তিনি কয়েক দিন পর আবারও মাঠে নামার ঘোষণা দেন।

 

 

সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, আমি কয়েক দিন পর মাঠে নামবো। আমার দলের মাঝেও ভালো খারাপ আছে। আমি কোন ভূমি সন্ত্রাসীকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিবো না। শেখ হাসিনা থাকলে রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন আমি একাই করতে পারবো। কিন্তু মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, চাদাঁবাজ, ভুমিদস্যুতা আমি একা বন্ধ করতে পারবো না।

 

 

সকল অপরাধ দুর করার জন্য সকলকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি কয়েক দিন পর আপনাদের মাঝে আবার আসবো। তখন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে নয় আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে আসবো। চেষ্টা করবো নারায়ণগঞ্জে কেউ যেন চাদাঁবাজি, মাদক কারবারি,ইভটিজিং, ভুমিদস্যুতা করতে না পারে।

 

 

একজন কষ্ট করে টাকা দিয়ে জমি কিনবে আরেকজন গিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে জায়গা দখল করবে তা হবে না। প্রতিটি পাড়া মহাল্লা গিয়ে মানুষের সাথে আমি কথা বলবো। এ ক্ষেত্রে কারো সাথে যদি আমার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় তাতে আমার কিছু আসে যায় না।

 

 

এমপি শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। কিন্তু আমি বলব না, নারায়ণগঞ্জ এখন জঙ্গি ও জামাতের ঘাঁটি। দলীয় ভাবে ত্যাগিদের মূল্যায়ন করতে হবে। দলের দুঃসময়ে আমরা মাঠে থাকি। আমরা মামলা খেয়ে অভ্যস্ত আছি। বিএনপি জামাত কেন কোন শক্তিকে মাঠে নামতে দিবো না।

 

 

বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের যদি একবার অতীতের কথা মনে পড়ে যায় তাহলে আপনারা কেউ থাকতে পারবেন না। আমাদের লোকজনদের গুলি করে রাস্তার মাঝে ফালায় রাখছেন আমরা কেউ তা ভুলি নাই। পুলিশ ফালিশ বাদ দেন। আমি জানি আমার ক্ষমতা কতটুকু।

 

 

আমি যদি একবার বলি ধর তাহলে আপনাদের চৌদ্দ গুষ্টি এই দেশে থাকতে পারবে না। বয়স হয়েছে ধৈর্য্য বাড়ছে। যা কিছু করছেন তার জন্য মানুষের কাছে মাপ চান। যতই ষড়যন্ত্র হোকনা কেন আমি না থাকতে পারি গ্যারান্টি দিয়ে বলে যাচ্ছি ইনশা আল্লাহ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবে, এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে।

 

 

তিনি আরও বলেন, বিএনপিতে একটা আম্মা গ্রুপ আরেকটা ভাইয়া গ্রুপ হয়ে গেছে। আম্মা গ্রুপ নির্বাচন করতে চায় আর ভাইয়া গ্রুপ লন্ডনে বসে আসেন যিনি (তারেক রহমান) নির্বাচন করতে চান না। উনি ২০২৮ এর স্বপ্ন দেখেন।

 

 

উনি চাচ্ছে যেকোন পর্যায়ে দেশে এনআরকি সৃষ্টি করে অস্থিতিশিল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য। বাংলাদেশে কিছু আতেল আছে যারা ওদের হয়ে কথা বলে। তাই তৃতীয় শক্তিকে আনার জন্য গেম চলছে।

 

 

তিনি বলেন, বিএনপি ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৫২টি গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, ২৯টি রেল গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, ৯টি লঞ্চ পুড়িয়ে দিয়েছে, ৬টি ভূমি অফিস পুড়িয়ে দিয়েছে, ৭০টি বিভিন্ন সরকারি অফিস পুড়িয়ে দিয়েছে। ৩ হাজার ৩৬ জন সাধারণ মানুষের শরীরে আগুন দেওয়া হয়েছে। ৫০০ জন মানুষ মারা গেছে। এটার নামকি সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি?

 


 
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভাই কিংবা অন্য যারা আছে দলে সবাইকে বলবো মারামারি কাটাকাটি আমার দরকার নেই। আসেন সবাই মিলে কাজ করি। নারায়ণগঞ্জটাকে সুন্দর ও উন্নতি করি। আর যদি মারামারি করেন আমরাও তো মানুষ। আমাদের যদি একবার অতীতের কথা মনে পড়ে যায় তাহলে পুলিশ-পালিশ বাদ দেন আমি জানি আমার কতটুকু ক্ষমতা। যদি একবার বলি ধর তাহলে আপনাদের চৌদ্দগোষ্ঠী কেউ থাকতে পারবে এ দেশে।

 


 
কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশরাফুল আলম, সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ মান্নান, বিজ্ঞান ও প্র্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শফিউল্লাহ শফি। 

 

 

কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মমিন শিকদারসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন