Logo
Logo
×

রাজনীতি

সম্মেলন আছে ঘোষণা নেই

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:৫২ পিএম

সম্মেলন আছে ঘোষণা নেই
Swapno

 

# সম্মেলন থেকে শুধু প্রার্থীদের বায়োডাটা নিয়ে যাওয়া হয় : কর্মী সমর্থক
# পুরানো কমিটি না থাকায় কাউন্সিলর নাই, তাই একটু সমস্যা : আনোয়ার হোসেন

 

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের অধীনে থাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর ২৭ নং ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন সম্পন্ন করা শুরু করেছে সংগঠনটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ওয়ার্ড কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করতে পারেনি (একক প্রার্থী ব্যতীত) কমিটির নীতিনির্ধারকরা। তাই কমিটিগুলোর পদ প্রার্থীসহ কর্মী ও সমর্থকদের প্রশ্ন সম্মেলন করে যদি কোন নেতা নির্ধারণ করা সম্ভব না হয় তাহলে এই সম্মেলনের ফলাফল কি?

 

এত টাকা খরচের মাধ্যমে একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, প্রার্থীরা অনেক চেষ্টা প্রচেষ্টায় তাদের সমর্থকদের একত্রিত করে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন একই সাথে সমর্থকরাও তাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে তাদের নতুন নির্বাচিত নেতা কে হচ্ছেন তা জানার জন্য উপস্থিত থেকে যদি খালি হাতেই ফিরে যায় তাহলে এই সম্মেলনের সফলতা কতটুকু। দলীয় সূত্রে জানা যায়, একটি সম্মেলনের মাধ্যমে কোন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কে হবেন তা নির্ধারণ করা হয়। তাই সম্মেলন হলো কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া।

 

একই সাথে কোন প্রক্রিয়ায় সেই দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম আসছে সেই বিষয়টিও নেতা কর্মী বা সমর্থকদের দৃষ্টিগোচরে আসে এই সম্মেলনের মাধ্যমে। কিন্তু সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ পূর্ব ঘোষণার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি সম্মেলন করলেও নতুন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা না করে পরে নিজেরা আলাপ আলোচনা করে ঘোষণা করবেন বলে জানিয়ে সম্মেলন সমাপ্ত করে চলে আসেন। এতে করে উপস্থিত নেতাকর্মীরা কোন ফলাফল না নিয়েই সেসব সম্মেলনের স্থান ত্যাগ করেন।

 

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের একদিন পর অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা আর করা সম্ভব হয়নি। তবে কেন্দ্র থেকে মহানগর এর আওতাভূক্ত ওয়ার্ড কমিটিগুলোর সম্মেলন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সম্মেলনের মাধ্যমে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয় মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সে লক্ষ্যে গত ৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এই সম্মেলন সম্পন্ন করার দায়িত্ব বন্টন করে দেয়া হয়।

 

সিদ্ধিরগঞ্জের কয়েকটি ওয়ার্ড ব্যতীত অন্যসব ওয়ার্ডের সম্মেলনের দায়িত্ব দেওয়া হয় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহাকে। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ওয়ার্ডগুলোর সম্মেলন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান করবেন বলেও জানা গেছে। এরপর নাসিকের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের সম্মেলন করা হয়। সেসব সম্মেলনের ঘোষণার পর থেকেই দায়িত্ব পেতে ইচ্ছুক সকল প্রার্থী তাদের প্রার্থীতার আবেদন জমা দেন বলে জানা গেছে। এমনকি ইচ্ছুক প্রার্থীরা তাদের নিজেদের মতো করে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে সম্মেলনের নির্ধারিত তারিখে তাদের সমর্থকদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।

 

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সমর্থকরা একরাশ আশা নিয়ে তাদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম শোনার জন্য উপস্থিত হয়ে অপেক্ষা করেন। কিন্তু সেখানে নেতা নির্বাচনের কোন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে নতুন করে পদ পেতে ইচ্ছুকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। সেসব কাগজপত্র নিয়ে তাদের কাছে জমা দিতে বলে সেগুলোর উপর ভিত্তি করে পরে কোন এক সময় তারা দায়িত্বপ্রাপ্তদের নামের তালিকা প্রকাশ করবেন। বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মদ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। কিন্তু নীতিনির্ধারকদের রোষানলে পড়ার ভয়ে কেউ সরাসরি মুখ খোলেন না।

 

এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদের প্রার্থীরা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, আমাদের এখানে সম্মেলন হবে বলে ঘোষণা না দিয়ে যদি আগে থেকেই বলা হতো এই দিন প্রার্থীদের নাম সংগ্রহ করা হবে তাহলেই ভালো হতো। তাদের মতে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে যেটা হচ্ছে সেটা সম্মেলন না, প্রার্থীদের নামের তালিকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে শোডাউন। অনেক প্রার্থীকেই আবার বলতে শোনা যায়, নেতারা এখানে সম্মেলন করতে এসে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করছেন। কারা কারা পদ পেতে ইচ্ছুক তার তালিকা তৈরি করছেন। অথচ সম্মেলনের তারিখ অনেক আগেই ঘোষণা করা হয়েছে।

 

এরপর থেকেই যারা যারা বিভিন্ন পদের প্রার্থী, তারা অনেক আগেই তাদের যোগ্যতাসহ কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। এরই মধ্যে নিজেদের পদ চাওয়ার বিষয়ে প্রচার প্রচারণাও করেছেন। এখন এত সমর্থকদের সংগঠিত করে এখানে নিয়ে আসার পর যদি বলা হয় আজকে কারা কারা প্রার্থী হতে চান বলেন, আপনাদের জীবনবৃত্তান্ত দেন, আমরা পরে যাচাই বাছাই করে কাকে পদ দেওয়া যায় তা দেখবো। তাহলে এই সম্মেলনের তারিখ দিয়ে লাভ হলো কি? জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ কিংবা প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই বাছাইতো সম্মেলনের আগেই সম্পন্ন হওয়ার কথা। এখানে গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণ কিংবা উপস্থিত সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া অথবা নিজেদের পূর্ব যাচাই বাছাইয়ের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে পদে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে সম্মেলনের কাজ সমাপ্ত করার কথা।

 

অথচ বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্মেলন হবে বলে ঘোষাণা দেওয়ার পর মাসের পর মাস মাঠে থেকে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে নিজেদের সমর্থকদের দীর্ঘদিন যাবৎ সম্মেলনের জন্য উজ্জীবিত করে রাখার পর ঢাক-ঢোল, মিছিল-স্লোগানসহ অনেক উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে একরাশ আশা নিয়ে সম্মেলনে এসে নিরাশ হয়ে, হতাশ হয়ে কর্মীদের হতবাক করে দিয়ে কোন প্রকার ফলাফল ছাড়াই ফিরে যেতে হয়। দায়িত্ব পেলাম বা না পেলাম, একটা ফয়সালা হয়ে গেলে এতগুলো মানুষের ভোগান্তি, প্রার্থীদের টেনশন কিছুটা হলেও সার্থক হয়।

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, যেখানে একটি পদের জন্য অনেকগুলো প্রার্থী থাকে। আমরা সেখানকার প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতা করতে বলি, চেষ্টা করি যেন একজনকে নির্বাচিত করা যায়। কোন কোন জায়গায় একটি পদের জন্য দেখা গেছে দশ জনেরও বেশি প্রার্থী, কিন্তু এতগুলো প্রার্থী থাকে যাদের আমরা চিনিও না জানিও না, তাই সেখানে এমন একটি দলের কমিটির দায়িত্ব তুলে দিতে চিন্তা ভাবনা করতে হয়। তাই আমরা প্রার্থীদের বায়োডাটাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়েছি। আমরা যেন সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দায়িত্ব দিতে পারি।

 

তারাও সমঝোতা করতে না পেরে আমাদের উপর দায়িত্ব দিয়ে দেয়। আমরাও চেষ্টা করবো যারা প্রকৃত কর্মী তাদের মূল্যায়ন করার জন্য। এত প্রার্থীর মধ্যে ভোটাভুটি করলে কাঁদা ছুড়াছুড়ি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাছাড়া প্রার্থীরা তাদের যে সমস্ত সমর্থকদের নিয়ে আসে তারা সবাই যে, আওয়ামী লীগের প্রকৃত সমর্থক এটা ভাবারও কোন সুযোগ নাই। এখানে শোডাউন করার জন্য আওয়ামী লীগের বাহিরের লোকজনকেও নিয়ে যাওয়া হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমাদের (সভাপতি ও সম্পাদককে) নেতা নির্বাচিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, একটি কাউন্সিল বা সম্মেলন করতে গেলে কাউন্সিলর বা ভোটার লাগে। আমরা যে ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করতে যাচ্ছি, সেখানে আগের কোন কমিটি নাই। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা হওয়ার পর এই ওয়ার্ডগুলো নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে। তাই এখানে আগেকার কোন নির্বাচিত কমিটি না থাকায় এখান থেকে কাউন্সিলর বা ভোটার তৈরি করাও সম্ভব হয়নি। তাই কাউন্সিলর ছাড়া গোপন ব্যালটে নেতা নির্বাচন করাও সম্ভব নয়। কন্ঠ ভোটেও নেতা নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তাই এবারের এসব সম্মেলনে নেতা নির্বাচন করতে একটু সমস্যা হচ্ছে। আশা করি পরবর্তীতে আর এরকম সমস্যা হবে না।

এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন