Logo
Logo
×

রাজনীতি

গিয়াসউদ্দিনে আতঙ্ক তাদের

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:৪০ পিএম

গিয়াসউদ্দিনে আতঙ্ক তাদের
Swapno

 

# বিএনপির কর্মসূচিগুলো থেকে অনেকটা ছিটকে পড়ছেন তারা

 

 

দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে এরশাদ সরকারের শাসনকালের পতন ঘটলে ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের পাঁচটিতেই জয় লাভ করে বিএনপি। এরপর ’৯৬ এর সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে এখানকার পাঁচটি আসনের চারটি আসন আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। তবে এরমধ্যে সবচেয়ে আলোচিত আসন ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। কারণ এই আসন থেকে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় ও বাঘা নেতা হিসেবে পরিচিত একেএম শামীম ওসমান।

 

তারা পরের বার ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে শামীম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির শক্ত কোন প্রার্থী ছিল না বলে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সচেতন মহল অভিমত প্রকাশ করে। সে সময় সদ্য আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে চাঙ্গা হয় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে গিয়াস উদ্দিকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়। সেই নির্বাচনে তার হাত ধরেই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানকে হারিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। এরপর থেকেই তার উপর স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মী ও সমর্থকদের চাহিদা ও ভরসার জায়গা তৈরি হয়।

 

এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে সারা দেশের ন্যায় অনেকটাই অস্তিত্ব সংকটে পড়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। দলীয় কোন প্রয়োজনেই সফল কোন ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়। তখন কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। তারই ফলস্বরূপ জেলা বিএনপির দায়িত্ব দেওয়া হয় এক সময়ের সেই ভরসার ব্যক্তি সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের হাতে। তবে গিয়াস উদ্দিনের হাতে নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর যেখানে তার বিরোধী দলীয় প্রতিপক্ষের গা জ্বলনের কথা। সেখানে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য দলীয় কিছু সুবিধাবাদী নেতাদের গা জ্বলছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

 

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচীতে নারায়ণগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে জন্যই নারায়ণগঞ্জ এর রাজনৈতিক কমিটি কিংবা নেতৃত্ব নিয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিকদের একটি আলাদা দৃষ্টি থাকে। এখানকার আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টি সকল দলের নেতৃত্বতেই কেন্দ্রীয় কমিটিগুলো আশা ভরসার জায়গা খোঁজে। সেই সূত্র ধরেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে নারায়ণগঞ্জের নেতৃত্ব খুব ভরসার স্থল অর্জন করতো।

 

তাই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে আসার জন্য সংগঠনের ভেতর আভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা লেগে থাকতো। যার ফলে সর্বদা রাজনৈতিক মাঠে সরব থাকতো সংগঠনগুলো। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপট পার করে ১৯৯১ সাল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। ১৯৯১ সালে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু হয় বলে অভিমত প্রকাশ করেন অনেক রাজনৈতিক বোদ্ধা।

 

সেই থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দলগুলো প্রায় সমান তালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব থাকে। তবে ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারিতে ফখরুদ্দীন আহমেদ এর অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার পর থেকেই এলোমেলো হয়ে যায় রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম। সেসময় সদ্য ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দল বিএনপি সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়ে। এরপর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী ঘুরে দাঁড়ালেও বিএনপির পক্ষে আর সেটা সম্ভব হয়নি। সেই সময় থেকেই কোনঠাসা হয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। তারপর থেকে দলের অনেক হাইপ্রোফাইল নেতার আত্ম গোপনের কারণে অনেক নতুন নেতৃত্বের সন্ধান মিলে।

 

অভিযোগ পাওয়া যায় সরকারী দলের নেতাদের সাথে আঁতাত করে বিভিন্ন কমিটিতে নেতৃত্ব দখল করে দলের মধ্যে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারসহ ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে উঠেপড়ে লাগে এসব সুবিধাবাদীরা। হয় টাকা কিংবা ব্যক্তিগতভাবে নিজের পছন্দের লোক না হলে কমিটির কোন পদে নেওয়া হয়না কর্মী সমর্থকদের। এসব নেতাদের উপর কমিটি বাণিজ্যের মাধ্যমে টাকার পাহাড় গড়ার অভিযোগ উঠে দল থেকে। দলের হাইকমান্ডও টের পান বিষয়টি। এরই মধ্যে এক নেতার ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর সৃষ্টি হয় বেশ কিছু নাটকীয় ঘটনার। যেখানে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনকে জড়ানো হয়।

 

তবে এর পেছনেও আওয়ামী লীগের কারো কারো প্ররোচনা ছিল বলে মনে করেন বিএনপির প্রথম সারির নেতৃবৃন্দ। সরকারী দলীয় নেতাদের কাছ থেকে একটি বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে দলীয় সর্বনাশে লিপ্ত ছিল বলে দলীয় একাধিক সূত্র থেকে বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া যায়। সে কারণেই সেসব সুবিধাবাদী ও সুযোগ সন্ধানীদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে গিয়াসউদ্দিনকে সুযোগ করে দলীয় নীতিনির্ধারকগণ। সরকার দলীয় এমপি অবশ্য বিএনপির সেসব দুমুখো স্বার্থবাদী নেতাদের ভদ্র লোক বলে অভিহিত করে থাকেন। একই সাথে বিএনপির সাবেক সাংসদ গিয়াসের সমালোচনায় মুখে ফেনা তুলেন।

 

গিয়াসকে জেলা বিএনপির আহবায়ক করার পর থেকেই সেসব সুযোগ সন্ধানীদের আয়ের উৎস রুদ্ধ হয়ে গেলে তাদের মাথায় ভাঁজ পড়ে। এখন সুবিধাবাদীরা তাদের গড়ে তোলা সম্রাজ্যে এবং তাদের সাজানো নাটকে যেসব সদস্য আছেন তাদের একত্রিত করে গিয়াসের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন। বিশেষ করে দলের ক্রান্তি লগ্নে যখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে শক্ত হাতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গিয়াসের মতো বলিষ্ঠ কোন নেতৃত্বের দরকার, যখন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানের মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বির সাথে লড়াই করার জন্য গিয়াসের মতো শক্ত ও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বির দরকার। তখন সেসব কুলাঙ্গাররা দলকে নিজেদের সরকারী দলের নেতার কাছে সঁপে দিয়ে এই আসনটিও তাদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্তে বিভিন্ন নাটকীয় দৃশ্যের মঞ্চায়ন করছেন।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন