# জেলা কমিটিতে থাকাটা একটা পুরস্কারের মতো : ভিপি বাদল
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর এক বছরও পুরো সময় নেই। আগামী বছরের জানুয়ারিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। তাই এই বছরকেই নির্বাচনের বছর হিসেবে ধরা হয়। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো এখন খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সেই ধারাাবাহিকতায়ই নারায়ণগঞ্জের রাজননৈতিক দলগুলোও তাদের দল গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে। বিভিন্ন কমিটি পূনর্গঠনসহ মিছিল, মিটিং ও গণসংযোগের মাধ্যমে নেতা কর্মী ও সমর্থকদের চাঙ্গা করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে গত ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আবারও সেই আগের কর্ণধারদের হাতেই নেতৃত্ব উঠে।
অনেক আলোচনা সমালোচনার পরও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আবদুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে (ভিপি বাদল) রাখা হয়। সম্মেলনের পূর্বে সভাপতি আবদুল হাইকে নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিকে বেশ বেকায়দায় পড়তে হলেও খুবই নির্ভার ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল ভিপি বাদল।
আবদুল হাই কমিটির কোন গুরুতর সিদ্ধান্তেও বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পারেননি বলেও একাধিক অভিযোগ উঠে। প্রায়ই কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই দুজনের মতের মধ্যেও দেখা যায় বিস্তর পার্থক্য। তাই এবারের জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের উপর নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের ভরসা আগের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
এরই মধ্যে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার জন্য অনেকেই তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে দলে কোন বিতর্কিতদের স্থান হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন সাধারণ সম্পাদক। ত্যাগী ও আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের বন্ধুদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত বছরে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কমিটির নেতৃত্বে নতুন মুখ আসবে বলে অনেকেই ভেবে নিয়েছিলেন। এজন্য অনেকেই নেতৃত্বে আসার জন্য নিজ নিজ প্রক্রিয়ায় চেষ্টা তদবীর কম করেননি। তবে কাছাকাছি সময় জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে পুরোনো নেতৃত্বকেই বহাল রেখেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।
দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের ত্যাগী ও দুঃসময়ে যারা দলের হয়ে কাজ করেছে তাদের মূল্যায়ন করে একটি নির্ভেজাল কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘ একটা সময় কমিটির কর্ণধার হয়েও সভাপতি আবদুল হাই কোন কর্মী বাহিনী গড়ে তুলতে সক্ষম হননি বলে দলের ভেতর থেকেই বিস্তর অভিযোগ।
কমিটি পরিচালনাসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে তেমন একটা বিচক্ষণতার পরিচয় না দিতে পারার অভিযোগ এনে এবারের জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনেও তার উপর বিশেষ একটা আস্থা রাখতে পারছেন না দলের দুঃসময়ের সঙ্গীরা। তবে রাজনীতিতে বিশাল কর্মী এবং সমর্থক বাহিনী আছে নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজের তিন তিন বারের নির্বাচিত সাবেক ভিপি আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলের।
ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়া এবং ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার সেই জনপ্রিয়তা এখনও আছে দলের মধ্যে। তার জনপ্রিয়তা শুধু নারায়নগঞ্জ শহর কেন্দ্রীক না। বরং পুরো জেলা জুড়েই আছে তার পরিচিতি এবং সমর্থক। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা একেএম শামীম ওসমানের পর পুরো জেলা জুড়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যদি কারও জনপ্রিয়তা থাকে তিনি হলেন ভিপি বাদল।
তোলারাম কলেজের ছাত্র রাজনীতিতে থাকাবস্থায় অনেকটা শামীম ওসমানের হাত ধরেই তার এই জনপ্রিয়তা তৈরি হয় বলেও জানান তারা। আর তাইতো, একবার নয়, দুই বার নয়, তিন তিনবার (৮৬-৮৭, ৮৮-৮৯ ও ৯১-৯২) তিনি নারায়ণগঞ্জ সরকারী কলেজের ভিপি (ভাইস প্রেসিডেন্ট) নির্বাচিত হন, নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্র লীগের।
সূত্র মতে, সামনে নির্বাচকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের চাপে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য খুব শীঘ্রই খসড়া তালিকা যাচ্ছে কেন্দ্রে। কমিটিতে কমপক্ষে অর্ধেক পদ যেন নিজের পছন্দ মতো কিংবা নিজের মনোনীত হয় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছেন আবদুল হাই।
কমিটিতে তিনি তার নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই বিশেষ কৌশলে তালিকা সাজাচ্ছেন বলেও জানা গেছে। কেননা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী কিংবা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান এই দুইজনের একজনেরও বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারেননি আবদুল হাই।
এমনকি জেলার প্রথম সারির নেতাদের বেশিরভাগ নেতার সাথেই তার এখন পর্যন্ত তেমন একটা ভালো সম্পর্ক কিংবা সখ্যতা গড়ে উঠেনি বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। গত নির্বাচনগুলোতেও (ইউপি ও সিটি নির্বাচন) তিনি বিশেষ কোন ভূমিকা বা ফলাফল দেখাতে পারেননি বলেও দলীয় অনেক অভিযোগ আছে।
তবে ছাত্র রাজনীতিতে এমপি শামীম ওসমানের উত্তসূরী হিসেবে পরিচিত ভিপি বাদল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সফলতার মুখ দেখেন। যেহেতু কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করে দিয়েছে।
তাই খুব শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য খুব জোর তাগিদ দিচ্ছেন কেন্দ্র। আর এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবদুল হাইয়ের তুলনায় ভিপি বাদলের গ্রহণযোগ্যতা বেশি থাকায় তার উপর তৃণমূল কর্মীদের চাপ রয়েছে।
এইসব বিষয়ে কথা বললে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল বলেন, ১৯৭৪ সালে আমি ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হই। আমি তিন মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজের ভিপি (ভাইস প্রেসিডেন্ট) নির্বাচিত হয়েছিলাম।
১৯৯৭ সালে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ৮২-৮৩তে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মেম্বার এবং জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। পরে ’৯১ এর পর জেলা ছাত্র লীগের কনভেনার হই। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি আওয়ামী লীগের জেলা কমিটিতে থাকাটা একটা পুরস্কারের মতো।
আমরা অবশ্যই ত্যাগী নেতাদের এখানে মূল্যায়ন করছি এবং আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও তাদের মূল্যায়ন করা হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা খুব কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে ফেরবো; সে অনুযায়ীই আমরা আগাচ্ছি। এন.হুসেইন/জেসি


