Logo
Logo
×

রাজনীতি

উজ্জীবিত না.গঞ্জ আ’লীগ-বিএনপি

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:১৫ এএম

উজ্জীবিত না.গঞ্জ আ’লীগ-বিএনপি
Swapno


 
# শুধু ঢেউ না, মহাপ্রলয় নামাবে আওয়ামী লীগ : ভিপি বাদল

# নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাই উজ্জীবিত : রাজীব
 

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম ভাগের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায় চলতি বছরের শেষের দিকে (ডিসেম্বরের) কিংবা আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই বছরের নভেম্বরের দিকে তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলেও জানা গেছে।

 

 

বর্তমান সরকারীয় দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিষয়টির একটি ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক দলগুলোর তৃণমূল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইউনিট কমিটির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি তাদের সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনগুলোকে নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়ে শক্তিশালী ও সচল করার লক্ষ্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি এখনও নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে যেকোন মুহুর্তে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত হলে ভোগান্তি বা হয়রানির শিকার হতে বাঁচার সেজন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

 

 

এরমধ্যে বিএনপির কর্মতৎপরতাসহ আওয়ামী লীগের নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নেতাকর্মীদের কর্মব্যস্ততা নজর কেড়েছে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের। তবে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তৎপরতার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পাটি।

 


 
দলীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ২০০১ সালের পর ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নিরংকুশ জয় লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। কিন্তু সেসময় নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের ৪টিতেই নৌকা বিজয় লাভ করলেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল নির্বাচিত হয়।

 

 

এরপর আওয়ামী লীগ একটানা তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও এই আসনে ২০০১ সালের পর থেকে আর আওয়ামী লীগের কোন জনপ্রতিনিধি পায়নি। তাই দীর্ঘ প্রায় ২২বছরের নৌকা না পাওয়ার ক্ষুদায় ধুকে ধুকে মরছে এই এলাকার বিশেষ করে শীতলক্ষ্যার পূর্ব পার বন্দরের আওয়ামী লীগ।

 

 

জোটগত নির্বাচনের কারণে ২০১৪ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনও (সোনারগাঁও) ছেড়ে দিতে হয় জাতীয় পার্টিকে। ফলে প্রায় দশ বছরে কাছাকাছি সময় যাবত এই আসনেও নেই নৌকার কোন জনপ্রতিনিধি। এরসাথে কাউন্সিল খরা যোগ হয়ে এসব এলাকার কমিটিগুলোর পদগুলে দীর্ঘদিন একই লোক ধরে রাখায় নতুন কোন নেতৃত্ব সৃষ্টি না হওয়ায় অনেকটাই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন দলীয় নেতাকর্মীগণ।

 

 

জেলা কাউন্সিলসহ বেশ কিছু ইউনিট কমিটির কাউন্সিল হওয়ায় এখন অনেকটাই প্রাণ খুঁজে পেয়েছেন এখানকার তৃণমূল। তাই এখন এই দুটি আসনের প্রাণের দাবি এই আসন থেকে এবার অবশ্যই নৌকার প্রার্থী দিতে হবে। তাদের সাথে সহমত পোষণ করেছেন জেলা মহানগরসহ আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের উপরের সারির নেতাগণ।

 

 

অনেকটা সেই আশায় বুক বেধে এবং নতুন কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে বন্দরের দীর্ঘদিনের অবহেলিত নেতাকর্মীরাও আজ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

 


 
একই অবস্থা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে এবং জীর্ণ ধরা পুরানো কমিটির উপরে বিরক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে একধরণের একগুয়েমি তৈরি হয়েছি। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে মাঠে সরব হতে শুরু করার পর কমিটিগুলো পূনর্গঠনের দিকে হাত বাড়ায় সংগঠনটি।

 

 

এতে করে সব অলসতা দূর করে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। এরই মধ্যে জেলা আহবায়ক কমিটি ও মহানগর আহবায়ক কমিটি পূনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন করে কাউন্সিল শুরু হয়েছে সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনগুলোতেও। পদ পদবী কর্মসূচীসহ সব কিছু মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিরও এখন রাজনৈতিক মাঠে সরব উপস্থিতি।

 

 

বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তাহলে তারা সরকার তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনসহ সরকার পরিবর্তন আন্দোলনেও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির প্রয়োজন। আর সেই লক্ষ্যেই তারা মাঠ গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। হয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ কিংবা আন্দোলন, কেন্দ্রীয় বিএনপি যেই পথেই হাটু না কেন শক্ত অবস্থান তৈরি করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারাও। সবকিছু মিলিয়ে প্রায় দেড় যুগের মধ্যে বিএনপি এখন সবচেয়ে শক্তিশালী বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। 

 

 

জেলা বিএনপির আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা এই বিষয়টা উপলব্দি করতে পেরেছে যে, বিএনপি গণমানুষের দল। তাই গণমানুষের দূরাবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে সারা বাংলাদেশের বিএনপি এখন উজ্জীবিত। বিএনপির আন্দোলন সংগ্রাম শুধু দলের জন্য, দেশের মানুষের জন্য।

 

 

এই জন্য যে সবার মধ্যে প্রয়োজনীয় উপলব্দিটা তিনি সকলের কাছে পৌছে দিতে পারছেন। যার কারণে প্রত্যেক নেতাকমীই এখন আগের চেয়েও অনেক বেশি উজ্জীবিত। তাই নির্বাচন হোক বা না হোক, এদেশের মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে বিএনপি আগামী দিনের যেকোন কর্মসূচীকে নিয়ে ভাবে।

 

 

তাই মিছিল মিটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচীতে নেতাকর্মীদের বাইরেও সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ এই বিষয়টা উপলব্দি করতে পেরেছে যে, এদেশের মানুষ সত্যিকার অর্থে তাদের দাবি দাওয়া ও চাহিদার পাশে বিএনপির অবস্থান আছে। তাছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও একটি আস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে আমাদের যেকোন দুঃখ দুর্দশার সময় দল ও দলীয় সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের পাশে আছে।

 

 

তাদের ধারণা কেউ থাকুক বা না থাকুক, আমাদের নেতা তারেক রহমান আমাদের পাশে থাকবে। তা অজপাড়াগায়ের হোক ইউনিয়ন জেলা কিংবা বিভাগীয় হোক। যেকোন নেতার বিপদের সময় পাশে কেউ না থাকেলও তারেক রহমান থাকবেন।

 


 
এই বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল (ভিপি বাদল) বলেন, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হয়। কিন্তু এটার জন্য একটি গঠনতন্ত্র আছে। যেমন প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে ১৯জন কাউন্সিলর এবং কো অপ্টের ১৫ জন মিলে একটি ইউনিয়নের সম্মেলন হবে। তবে এই কাউন্সিলকে নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে অবশ্যই একটি বিশাল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

তেমনি থানার সম্মেলন হবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে কাউন্সিল নিয়ে কমিটি করার সিস্টেম। এখানে বিশাল চাঞ্চল্যকর উদ্দীপনায় সৃষ্টি হবে যদি সম্মেলনটা স্বতস্ফূর্তভাবে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়। তবে আমরা আগামী দিনের নির্বাচনসহ সকল কর্মসূচীর জন্য সামগ্রীকভাবেই প্রস্তুত আছি।

 

 

জনগণের রায়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিযোগিতার ফলাফল নির্ধারণ করার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুত আছি। যদি নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়া হয় তাহলেও আমাদের নেতাকর্মীদের ঢেউ নামবে সেই প্রত্যেকটি আসনের জয় লাভের জন্য।

 

 

আগামী নির্বাচনসহ যেকোন কর্মসূচীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঢেউ নামবে। শুধু ঢেউ না, মহা প্রলয় নামবে, সেই প্রলয়ের মধ্য দিয়ে সবগুলো আসনের বিজয়কেই সুনিশ্চিত করবে। শহর বন্দর সকল এলাকার মানুষেরই দাবি তারা নৌকায় ভোট দিবেন। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত।  এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন