# আগে ১৭ওয়ার্ডের ঘোষণা দেই, সিদ্ধিরগঞ্জ পরে জানানো হবে : আনোয়ার
রাজনীতিতে নাটকীয়তার কোন অন্ত নেই। কখনো গুরুর কাছে শিষ্যের হার আবার শিষ্যের কাছে গুরুর হার সর্বদিক মিলিয়েই মূলত রাজনীতিতে টিকে থাকার লড়াই। কারণ একটি প্রবাদ আছে রাজনীতির শেষ বলতে কিছু নেই।
তবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে শিষ্যের কাছে গুরুর হার এটা নতুন কিছু নয়। কারণ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে গুরু হিসেবে বিবেচিত আনোয়ার হোসেন তার শিষ্য হিসেবে বিবেচিত এমপি শামীম ওসমানের রাজনৈতিক কৌশলের কাছে হেরেছে।
শিষ্যের কৌশলে হেরে জেলা পরিষদের সিট হারানোর পর আবারও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে শিষ্যের কৌশলের কাছে হেরে অস্বস্তিতে রয়েছে গুরু।
সূত্র বলছে, গত ৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যকরী সভায় মহানগরের আওাভুক্ত ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রমে হাত দেন। সেসময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের ১১-২৭ ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন।
সেদিন ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের ১০টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠনের বিষয়ে এমপি সাহেব সিদ্ধান্ত দিবেন। এই সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী মহানগরের ১১-২৭ ওয়ার্ডের সম্মেলন ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
তবে সম্মেলন শেষ হলেও ১৭ ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ৪টি ওয়ার্ডে সভাপতি সাধারণ সম্পাক ঘোষণা করতে পেরেছে ৩টি ওয়ার্ডে কোনটিতে সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করতে পেরেছে বাকি ১০টি ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী থাকায় কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি।
তবে ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আওতাভুক্ত ১২ নং ওয়ার্ডের কমিটি গঠনের পর থেকেই দেখা দেয় বিপত্তি। কারণ ১২নং ওয়ার্ডের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ক্ষোভে ফাটতে শুরু করেন।
কারণ তিনি এখানে যাদেরকে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে সভাপতি হওয়ার জন্য ভেবেছিলেন তাদের কেউই সভাপতি হতে পারেনি। উল্টো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয় এমপি শামীম ওসমান অনুসারী নিয়াজুল।
মূলত এই ওয়ার্ডটিতে সাংসদ শামীম ওসমানের পৈতিক ভিটা কিন্তু এখানে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের গুরু হিসেবে বিবেচিত আনোয়ার হোসেনের পছন্দের কেউ সভাপতি হতে না পারায় আবারও গুরু শিষ্যের বিভাজন প্রকাশ হতে শুরু করে। একদিকে গুরু বলছেন সবকিছু মেকানিজমের মাধ্যমে হয়েছে তাই আমার অজান্তেই একজন সন্ত্রাসীকে সভাপতি হয়ে গিয়েছে।
অপরদিকে শিষ্য এক স্বরণ সভায় বক্তব্য প্রদানকালে বলেছেন,‘খন্দকার মোশতাকের মিটিং ভাঙ্গার ব্যাপারে নাসিম ওসমানের সাথে কাজ করেছিলেন সুইট। খালেদা জিয়াকে কালো পতাকা দেখানোর অপরাধে ডান্ডাবেরি পড়ানো অবস্থায় জেল থেকে বের করে গুলি করে মারা হয়েছিলো। সুইটের ছোট ভাই নিয়াজুলকে অক্টো অফিসের সামনে বিএনপি গুলি করে মৃত ভেবে চলে গেছিল।
২৪ দিন হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে বাঁচানো হয়েছিলো। অথচ আমাদের কোন নেতা বলেন কাউকে খুশী করার জন্য। যারা ভুষি খেয়ে অভ্যস্ত। কবিতা পড়েন সব সময়ে। “মাগো তুমি কল্পতরু, আমরা তোমার কেনা গরু, যদি দাও একটু ভুষি, তাতেই আমরা খুশী ”। হাই ভাই (জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক) যেন জেলা পরিষদের কি ছিল, কি যেন কয় খালি হয়ে গেছিলা সব।
তাঁরা আজকে বলে সন্ত্রাসী। হুমম বুঝা যায় আমাদের এটা।’ হঠাৎ গুরু শিষ্যের বক্তব্যের মাধ্যমে আবারও তাদের বিভাজন ফুঁটে উঠে। এতদিন গুরু শিষ্যের কর্মীদের সমাঝোতার মাধ্যমে ওয়ার্ড কমিটিগুলো নেতা নির্বাচিত করছিলেন।
তবে ১২নং ওয়ার্ডে শিষ্যের সাথে গুরুর কৌশলের হারের পর এবার যেসকল ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী থাকায় নেতা নির্বাচিত করতে পারেনি সে ১০টি ওয়ার্ডে গুরু তার কৃতিত্ব বজায় রাখা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের ১০টি ওয়ার্ডের সম্মেলনের ব্যাপারে গুরু বলেছিলেন শিষ্য সিদ্ধান্ত দিবে।
কিন্তু এখন গুরু ভোল পাল্টিয়ে বলছেন আগে ১৭টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠনের কার্যক্রম শেষ করি পরে কি হয় না হয় দেখা যাবে। এতে করে আবারও গুরু শিষ্যের কৌশলের কাছে হেরে অস্বস্তিতে পড়েছেন । এন.হুসেইন/জেসি


