Logo
Logo
×

রাজনীতি

পুরনোদের ধাক্কায় শঙ্কায় নতুনরা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:৪০ পিএম

পুরনোদের ধাক্কায় শঙ্কায় নতুনরা
Swapno


# বিলুপ্ত কমিটির নেতারা নেতৃত্ব ফিরে পেতে মরিয়া

# কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে জোরালো যোগাযোগ
 

 

নারায়ণগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগকে ঢেলে সাজানোর জন্য কেন্দ্র থেকে দায়িত্বরত প্রায় ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাজ করছেন। কেননা ১৪ মাস অতিবাহিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি নেই। তবে গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে কমিটি গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

 

 

তারই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে বন্দর উপজেলা সহ  বন্দরের ৫টি ইউনিয়নে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এখানকার সম্মেলন স্খলে কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় নানা আলোচনা সমালোচনা তৈরী হয়। কেননা বন্দরের ইউনিয়ন গুলোর সম্মেলন নিয়ে নেতা কর্মীদের মাঝে প্রশ্ন উঠে সম্মেলনের দিন কেন কমিটি ঘোষণা করা হলো না।

 

 

এদিকে সেই প্রশ্নের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নারায়ণগঞ্জ সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়েছে। একই সাথে সদর থানাধীন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৮টি ওয়ার্ডের সম্মেলনের দিন তারিখ ঠিক করা হয়। গত সোমবার শহরের ২ নম্বর রেলগেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভায় তা নির্ধারণ করা হয়।

 

 

দলীয় সুত্রমতে জানা যায়, এই প্রস্তুতি সভায় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন প্রধান দুলাল উপস্থিত ছিলেন। একই সাথে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভ্পাতি প্রার্থী কায়কোবাদ রুবেল ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী জামির হোসেন রনি, সানি, সজিব সহ একাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি সুব্রতপুরকায়স্থ।

 

 

ওই সভায় কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি সুব্রত পুরকায়স্থ বলেন, সদর থানা এবং নাসিক ওয়ার্ড গুলোর সম্মেলন বাস্তবায়নের জন্য মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক কমিটির সভাপতি জুয়েল, দুলাল, রুবেল, রনি মিলে স্থান নির্ধারণ করবে।

 

 

দুলাল মাঝ খান দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে দূরে সরে গিয়ে ছিল এখন যেহেতু সে এখানে কাজ করতে চায় তাহলে সকলের সাথে মিলে কাজ করবে। তাতে আমাদের কোন সমস্যা নেই।

 

 

কিন্তু নেতা কর্মীদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দ ফিরে আসায় নতুন করে যার সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সপ্ন বুনছে তাদের কপালে চিন্তার ভাজ পরেছে। কেননা তাদের সাথে নতুনরা পাল্লা দিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে পারছে না। কেননা তাদের মাঠ গুছানো রয়েছে। এছাড়া নতুনরা ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেন জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পুরাতন কমিটির  সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন পুরোদমে মাঠ পর্যায়ে নেতা কর্মীদের গুছানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

 

 

সেই সাথে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। এতোদিন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল প্রধান দলীয় কর্মসূচি পালনে গ্যাপ দিলেও এখন আবার ফিরে এসে সক্রিয় হয়েছে। সেই সাথে সাধারণ সম্পাদক পদে আসার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করছেন।

 

 

তারা দুজনেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারি হিসেবে পরিচিত।  তাদের বিপরীতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী কায়কোবাদ রুবেল দলীয় কর্মসূচি পালনের পাশা পাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। তবে স্থানীয় নেতাদের মতে তার ডাকে তেমন ভাবে নেতা কর্মীরা সারা দেন না।

 

 

এছাড়া দুলাল প্রধান ফিরে আসায় তার মাথায় চিন্তার ভাজ পরে। সেই সাথে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগে পদ পাবে কি না তানিয়ে আশঙ্কায় পরেন। এছাড়া মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরেক সভাপতি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাস দেরেক আগে থেকে পিছু হটে গেছেন। তাকেও এখন আর আগের মত তেমন ভাবে দেখা যায় না। তাছাড়া জামির হোসেন রনি এবং কায়কোবাদ রুবেল হলেন নাসিক মেয়র আইভী বলয়ের অনুসারি হিসেবে পরিচিত।

 

 

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে উত্তর দক্ষিণ বলয়ের বিশাল একটা প্রভাব রয়েছে। তার মাঝে এমপি শামীম ওসমানের অনুসারীদের উত্তর বলয়ে হিসেবে জানেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীরা। অপর দিকে দক্ষিন বলয়ে মেয়র আইভীর অনুসারীদের চিনেন। সাংগঠনিক ভাবে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এই দুই বলয়ের প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।

 

 

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধান বলেন, আমি পুর্বের কমিটিতে থাকা কালিন সময়ে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি।  সেই কাজের ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আবারও আমাকে যোগ্য হিসেবে দায়িত্ব দিবেন বলে আমি আশাবাদী।

 

 

এছাড়া এবার দায়িত্ব পেলে আগের চেয়ে দলকে আরও শক্তিশালী করতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস করি। এছাড়া মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী কায়কোবাদ রুবেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।  

 

 

রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে  সবকিছু মিলিয়ে পুরান কমিটির ধাক্কায় নতুন যারা নেতৃত্বে আসতে চায় তাদের মাঝে পদ পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরী হয়ে রয়েছে।  এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন