Logo
Logo
×

রাজনীতি

সম্মেলনে মহানগর আ.লীগের প্রাপ্তি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:১৭ পিএম

সম্মেলনে মহানগর আ.লীগের প্রাপ্তি
Swapno


 # একই সাথে একই পদে থাকা সত্ত্বেও আভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই ব্যর্থতা
 

অবশেষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কমিটি গঠনে ব্যস্ত সময় পার করছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ। আর এরই মাধ্যমে গোছাতে চাইছে তাদের অতীতের সব ব্যর্থতা। দীর্ঘ বিশ বছর একই সাথে একই পদ নিয়ে কাজ করছেন সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা।

 

 

এর মধ্যে আবার খোকন সাহার দায়িত্বের মেয়াদ ২৭ বছর। সর্বশেষ কোন সম্মেলন ছাড়াই এই দুই পদে এই দুই জনের উপর যে দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে তাও ১০ বছর অতিবাহিত হয়েছে। তবে এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেও তারা ওয়ার্ড কমিটিগুলো গোছাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তাদের উপর দীর্ঘদিন যাবত নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের অভিযোগ ও ক্ষোভ আছে।

 

 

কারণ এর আগেও বহুবার এই ওয়ার্ডগুলোতে সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নিয়েও পরে সেগুলো আর করা হয়নি। তাই গত বছরের অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার ঘোষণা হলে নতুন আশায় স্বপ্ন দেখা শুরু করেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী সমর্থকরা।

 

 

বিশেষ করে যারা নেতৃত্ব পরিবর্তনের আশা প্রকাশ করে নিজেদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সম্মেলন স্থগিত করায় এবং পরবর্তীতে আর কোন সম্মেলন না হওয়ায় সেসব আশাবাদীরা হতাশ হয়ে চুপসে যান। তবে এবার দলীয় চাপে (কেন্দ্রীয় কমিটির চাপে) অনেকটা বাধ্য হয়ে, বলা যায় নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে বাধ্য হয়েই ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠনের সিদ্ধান্ত নেন এবং কাজ শুরু করেন।

 

 

ওয়ার্ডগুলোকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করে দুটি ভাগের দায়িত্ব (শহর ও বন্দর) মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা এবং অপর একটি ভাগের দায়িত্ব (সিদ্ধিরগঞ্জ) নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
 

 

 

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে জানা যায়, এই কমিটিগুলোর মেয়াদ তিন বছরের জন্য হলেও মো. আনোয়ার হোসেনকে এর আগে সভাপতির দায়িত্ব এবং খোকন সাহাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রায় সাত বছর পর (যা শহর আওয়ামী লীগের কমিটি নামে পরিচিত ছিল) ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আবার তাদের দুইজনকে এই একই দায়িত্বে বহাল করে মহানগর আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়।

 

 

এর দুই বছর পর ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরই মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থাকাকালীন সময় যে কমিটি নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগ নামে পরিচিতি তার বিলুপ্তি ঘটে। ২০১৩ সালে গঠন করা কমিটিটি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

 

 

সেই দীর্ঘ সাত বছরেও তারা শহর আওয়ামী লীগের আওতাধীন ওয়ার্ডগুলোতে কমিটি গঠন করতে সক্ষম হননি। এরপর তারা ২০১৩ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পাওয়ার পর কেটে যায় দীর্ঘ আর দশ বছর। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তারা মহনগর আওয়ামী লীগের কমিটির আওতাধীন ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটিগুলো গঠন করার ঘোষণা করার পরও তা করতে পারেনি।

 

 

এরই মধ্যে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের বেশ বিভক্তি ও কোন্দল প্রকাশ পায়। আর এই কারণেই কমিটিগুলো নতুন করে করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা ও শীতলক্ষ্যার পূর্ব পারে অবস্থিত বন্দর পৌরসভাকে বিলুপ্তি ঘোষণা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

 

 

এরপর নারায়ণগঞ্জ শহর কমিটিগুলো মহানগর কমিটি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। নতুন এই ঘোষণার পরে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার ১২ টি ওয়ার্ড থেকে ২৭টি ওয়ার্ডে পরিণত হয়। কিন্তু দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের মধ্যেও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি থাকার পরও ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠনে ব্যর্থ হয়।

 

 

এসব ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরাও মহানগর কমিটির অধীনে নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য অধীর আগ্রহে আছেন। আর দীর্ঘদিন যাবত এখানে নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথ রুদ্ধ হয়ে থাকায় এখানকার দলীয় কার্যক্রমেও স্থবির হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবী।

 

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সকল ওয়ার্ড থেকেই কমিটি করে দেওয়ার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের কর্ণধারদের প্রতি দাবি জানিয়ে আসছিল। দীর্ঘদিন দায়িত্ব থাকার পরও এসব কমিটি না হওয়ায় এই নেতৃত্বের উপরও তাদের বিতৃষ্ণা ক্ষোভ দিনের দিন বেড়েই যাচ্ছিল।

 

 

অবশেষে সম্মেলন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এসব এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণ ফিরে এসেছে বলেও জানান অনেকে। এরই মাঝে গত ২৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি না হলেও কেন্দ্র থেকে এই ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠনে বর্তমান কমিটিকেই দায়িত্ব দেয়।

 

 

এর ফলে নেতা কর্মীদের চাপে এবং কেন্দ্রীয় কড়া নির্দেশনায় জরুরীভাবে এই সম্মেলনগুলো সম্পন্ন করারা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এই সম্মেলন সম্পন্ন করার দায়িত্ব বন্টন করে দেয়া হয়। সিদ্ধিরগঞ্জের কয়েকটি ওয়ার্ড ব্যতীত অন্যসব ওয়ার্ডের সম্মেলনের দায়িত্ব দেওয়া হয় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহাকে।

 

 

সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ওয়ার্ডগুলোর সম্মেলন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান করবেন বলেও জানা গেছে। এরই মধ্যে আনোয়ার হোসেন এবং খোকন সাহার উপর দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ডগুলোর সম্মেলনের কাজ প্রায় গুছিয়ে নিয়েছেন। এখন যাচাই বাছাই করে ঘোষণা করার বাকি।

 

 

তবে দু’একদিনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার কমিটিগুলো গঠনের দায়িত্বে নামবেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে এসব ওয়ার্ডে কোন পূর্ব কমিটি না থাকায় এখানে কাউন্সিলর বা ভোটার তালিকা তৈরি করে।

 

 

ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে বলে সম্মেলন প্রক্রিয়াটা কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। সব কিছু মিলিয়ে এই সম্মেলন কার্যক্রম শেষ করার মাধ্যমে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উপর আরোপিত ব্যর্থতার কালিমা কিছুটা হলেও মুছতে পারবেন বলে মনে করেন তৃণমূল আওয়ামী লীগ।   এন. হুসেইন/ জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন