Logo
Logo
×

রাজনীতি

সম্মেলনে সংশয় কাটেনি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:৩৮ পিএম

সম্মেলনে সংশয় কাটেনি
Swapno


# সম্মেলনে নেতা নির্বাচন করতে বাধা ছিল কোথায়, প্রশ্ন কর্মীদের
 

বছরের পর বছর অপেক্ষার পর মহানগর আওয়ামী লীগের অধীনস্থ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলনের ওয়ার্ড গুলোর কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে একটি উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সেই সম্মেলন নিয়েই এখন হতাশা বিরাজ করছে তাদের মধ্যে।

 

 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর কর্মী সমর্থকদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং কেন্দ্রের চাপে সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নিলেও হাতে গোণা দু’একটি ওয়ার্ড ছাড়া এখনও বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতৃত্বর নাম ঘোষণা ব্যর্থ হওয়ায় অনেকটাই হতাশ মহানগর আওয়ামী লীগের স্থানীয় তৃণমূল।

 

 

অন্যদিকে দীর্ঘদিন সদর ও বন্দর এলাকায় দলীয় এমপি না থাকার উপেক্ষিত ও নির্যাতিত আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের নীতিনির্ধারকরা এখনও কোন ভরসা ফিরিয়ে দিতে পারেনি বলে স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়তে পারছেন না বলে হতাশা প্রকাশ করছেন তারা।

 

 

অন্যদিকে প্রকৃত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্য থেকে নেতা নির্বাচিত হবে নাকি নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এখানেও সেই হাইব্রীড কাউয়া নেতা হিসেবে পরিচিত লাঙ্গল মার্কা আওয়ামী লীগের নেতাদের কমিটির নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে তা নিয়ে এখনও অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূল।

 


 
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক যুগেরও বেশি সময় যাবত এখানে সিটি কর্পোরেশনের বেশ কয়েকটি নতুন ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে। যেগুলো এখনও সম্মেলনের মুখ দেখেনি। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড দুই যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কোন সম্মেলনের মুখ দেখেনি।

 

 

সব মিলিয়ে প্রায় আওয়ামী লীগের এই ১৫ বছরের শাসনকালের মধ্যে এসব ওয়ার্ডে কোন সম্মেলন করা হয়নি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় অনেক নীতিনির্ধারকই তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে লাঙ্গল কাধে নিয়ে নৌকার নেতা দাবি করে নিজেরা প্রশাসনিক ও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

 

 

এমনকি কোথাও কোন কমিটি গঠন হলে সেখানে কে আওয়ামী লীগের প্রকৃত সমর্থক এবং কে লাঙ্গল মার্কা আওয়ামী লীগ সেটা বিবেচনা না করে দায়িত্ব দেওয়া হয়। যার ফলে এসব এলাকার বিশেষ করে বন্দর আওয়ামী লীগের তৃণমূল খুবই বেকায়দায় আছে বলে জানা যায়।

 

 

তাই তারা বিভিন্ন সময় এর প্রতিকার চেয়ে জেলা মহানগর এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগেরও দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা করেন। তাই মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলনের প্রক্রিয়া শুরু করার পর সেরকম কোন ঘটনা না ঘটার আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেন।

 

 

কিন্তু কোন কোন সম্মেলনের প্রায় এক মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেকটাই ভরসাহীনতার শঙ্কায় আছেন সেসব স্থানের দায়িত্ব পেতে আগ্রহী প্রার্থীরা।

 


 
সূত্র মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে সুযোগ সন্ধানীদের দলে টানা নতুন কিছু নয়। তবে এসব সুযোগ সন্ধানীরা নিজেদের প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে লাভবান হওয়ার জন্যই ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে প্রবেশের সুযোগ খোঁজে।

 

 

আর অন্যদিকে কিছু সুযোগ সন্ধানী হেভিওয়েট নেতা আছেন যারা বিভিন্ন সময় দলের থেকে অনেক কিছু পেয়ে আঙ্গুল ফোলে কলাগাছ হয়ে উঠে এখন আবার তাদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে দলের ক্ষতি হয় এমন সিদ্ধান্ত নিতেও কুন্ঠিত হচ্ছেন না। আর সেই কারণেই এখানকার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে থাকতে হয় ব্যাকফুটে।

 

 

বন্দরের পাঁচটি ইউনিয়নের মাত্র একটিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান। নাসিকের ৯টি ওয়ার্ডের ১২জন কাউন্সিলরের মধ্যেও আওয়ামী লীগের অবস্থান সুখকর নয়। এখানকার সম্মেলন এলাকাকেও তিনটি ভাগে ভাগ করে নেওয়ার গুঞ্জন আছে।

 

 

যেখানে কৌশলে তৃণমূলকে বাদ দিয়ে টাকা কিংবা নিজের স্বপক্ষের লোকদের নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ আছে। এরই মধ্যে মাত্র বন্দরের কোন ওয়ার্ডেরই সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দুটি পদের নাম ঘোষণা করতে পারেনি মহানগর আওয়ামী লীগ।

 

 

অনেকেই আবার সম্মেলনের এক মাস আগেই নিজেকে সাধারণ সম্পাদক বলে ঘোষণা দিয়ে ব্যানার ফেস্টুন ছাপিয়েছেন বলেও অভিযোগ। সব কিছু মিলিয়ে এখনও খুব একটা শান্তিতে নেই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পদ প্রত্যাশীসহ সমর্থকদের।

 


 
গত ১৩ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ডের সম্মেলনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল বা সম্মেলন শুরু হয়। তবে প্রথম সম্মেলনটিই মহানগর নেতৃবৃন্দের জন্য খুব একটা সুখকর হয়নি।

 

 

২৭নং ওয়ার্ডের কুড়িপাড়া মাঠে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের আয়োজনে পদপ্রাপ্তি ও যোগ্যতা নিয়ে হট্টগোল বাঁধলে পরে নাম ঘোষণা হবে বলে সেখান থেকে সটকে পড়েন আয়োজক ও অতিথিরা। প্রথম সম্মেলন নিয়েই তোপের মুখে পড়েন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা। তবে প্রাপ্তিও একটি আছে।

 

 

২৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মেসবাহউদ্দিন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। মেসবাহউদ্দিন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ রশিদের ছোট ভাই।

 


 
সেখান থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, ২৭নং ওয়ার্ডের তিনজন সভাপতি ও চারজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী থাকায় তাদের সমঝোতার নির্দেশ দিয়েও কোন ফল পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ২৬ নং ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন তিনজন। তাই এই পদেও কোন ফলাফল দেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

 

তবে ফলাফল প্রকাশ না করে শহরের নেতারা মঞ্চ ছেড়ে চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকসহ অতিথিদের। এখানে সম্মেলনের নামে শুধু বক্তব্য শুনিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। এখন পর্যন্ত এই দুই ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নাম ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।

 


 
এরপর গত ১৪ জানুয়ারি বন্দরের ঢাকেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে ২৪ ও ২৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থল অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ জানুয়ারি বন্দর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয় ২২ ও ২৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সেসব সম্মেলনেও একাধিক প্রার্থী থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

 

এরপর বিভিন্ন অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের কারণে বন্দরের ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলে একটি বড় গ্যাপ লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ বন্দরে অবস্থিত বাকি তিনটি ওয়ার্ড (১৯, ২০ ও ২১) এর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১০ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু বন্দরের নেতা ও সমর্থকদের মধ্যে কমিটির জন্য দীর্ঘদিনের ক্ষুধা থাকলেও তার কোন ফলাফল দিতে পারেনি মহানগর আওয়ামী লীগ।

 

 

অন্যদিকে নদীর পশ্চিম পারের ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ডের সম্মেলন হলেও সভাপতি এবং সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা সম্ভব হয়েছে মাত্র তিনটির। ওয়ার্ডগুলো হলো ১২, ১৪ ও ১৫। ১২নং ওয়ার্ডে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় মো. নিয়াজুল ইসলামকে এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় জাহাঙ্গির আলমকে।

 

 

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৪ নং ওয়ার্ডের সভাপতি নির্বাচিত হন এসএম পারভেজ এবং সাধারণ সম্পাদক মিনরুজ্জামান মনির। ১৫নং ওয়ার্ডের সভাপতি আব্দুর রহিম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ঘোষাল। এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন