# ১৪ মাস কমিটিবিহীন ছাত্রলীগ
# নিয়মতান্ত্রিক সভা : রিয়াদ
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। সারা দেশবাসী এ সম্পর্কে সম্যক অবগত। দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে, রাজনৈতিক আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা নিঃসন্দেহে দেশের অন্যান্য যেকোনো স্থানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে। ঢাকার লাগোয়া জেলা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সুথিকাগার সব সময় আলোচনায় থাকেন।
এছাড়া স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা অগ্রগণ্য। জাতীয় প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সামরিক ও স্বৈরাচার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জবাসীর ভূমিকা এখনো জ্বলজ্বলে।
এদিকে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠ ক্ষমতাসীন দল আর বিরোধী দল পাল্টা পাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে আছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নারায়ণগঞ্জ সহ সারাদেশের ইউনিয়নে শান্তি সমাবেশ পালন করেন। একই সাথে তাদের বিপরীতে বিরোধী দল বিএনপি সারাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা করেন। এছাড়া আমাগী ১৮ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি পদযাত্রা কর্মসূচি পাণ করবে। একই দিনে মহানগর ছাত্রলীগ ফতুল্লা ওসমানি স্টোডিয়ামে সমাবেশ করবে।
রাজনৈতিক মহলে বলাবলি হচ্ছে একই দিনে নারায়ণগঞ্জে দুই দলের কর্মসূচি হওয়ায় সংঘাত হতে পারে। তবে শীর্ষ নেতাদের দাবী কোন সংঘাত হবে না। আবার কেউ কেউ বলছেন বিএনপিকে ঠেকানোর জন্য হঠাৎ করে মহানগর ছাত্রলীগের এই সমাবেশ। কিন্তু তাদের দাবী নিয়মতান্ত্রিক এই সমাবেশ।
দলীয় সূত্রমতে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সমাবেশ নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জানিয়ে উল্লেখ্য করা হয়,স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ছাত্র সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে শনিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি কর্মী সভার নির্ধারণ করা হয়।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে দীর্ঘ যাবৎ নারায়ণগঞ্জের ছাত্র রাজনীতি ঝিমিয়ে আছে। কেননা ১৪ মাস হয়ে গেছে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হয়ে আছে। সেই থেকে ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় তাদের কর্মসূচি কিংবা রাজপথে আন্দোলন মিছিল নেই বললেই চলে। তাই রাজনৈতিক মহল মনে করেন, ছাত্রলীগকে জাগিয়ে তুলতেই এই কর্মী সভা। তবে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রলীগ নেতাদের দাবী নিয়মতান্ত্রিক ভাবে তাদের এই সভা হবে। সভায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
সূত্রমতে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ ছিল আওয়ামী লীগের চালিকাশক্তি। নানা বাধা বিপত্তি, লোভনীয় প্রস্তাব, হামলা মামলাসহ প্রাণহানির আশংকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা আদর্শচ্যুত হয়নি। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশেও যোগ্য নেতৃত্বের গুণে সবাই একতাবদ্ধ ছিল। অথচ দল যখন ক্ষমতায়, হামলা মামলার ভয় নেই, তখন দেশের ঐতিহ্যবাহী দলটির অন্তঃকলহ, দল অন্তপ্রাণ কর্মী সমর্থকদের জন্য হয়ে উঠেছে অস্বস্তিকর।
দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে আদর্শহীন অনেক লোভী, চিহ্নিত অপরাধী দলটিতে অনুপ্রবেশ করেছে যে কারণে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অনেকেই বঞ্চিত হয়েছে যোগ্য সম্মান প্রাপ্তিতে। দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত অনেক নেতা কর্মী এখন দলের কোন পর্যায়েই ঠাঁই পাচ্ছে না, উপরন্তু অনুপ্রবেশকারীদের দলে পদ পদবী পেতে কোন সমস্যাই হচ্ছে না। অর্থবিত্তের জোরে অনেকেই রাতারাতি আওয়ামী লীগার বনে যাচ্ছে। তাদের দাপটে ত্যাগী নেতা কর্মীরা কোণঠাসা অবস্থায় থেকে দলের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে
এছাড়া দলীয় অন্তঃকলহের কারণে কোন কোন ক্ষেত্রে কলঙ্কজনক এমন সব ঘটনার উদ্ভব হচ্ছে যা সুষ্ঠু রাজনীতির পরিপন্থী। রাজনীতি সচেতন জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এবং যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অবস্থান সারা দেশেই ছিল রোল মডেল। রাজনীতি সচেতন সেই সাধারণ জনগণ এখন আর রাজনীতির প্রতি তেমন আকর্ষণ বোধ করে না। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দুর্বৃত্তায়ন, দলীয় অন্তঃকলহ, ত্যাগী নেতা কর্মীর অবমূল্যায়নসহ নানা অনিয়ম এর মূল কারণ।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি এখন আর রাজনীতিবিদদের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে হয় না। অর্থবিত্তের প্রভাবে অনেকেই এখন রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থায় অবস্থান করছে। সমাজে চিহ্নিত অনেক অপরাধীও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী হয়ে গেছে। ফলে আদর্শের জায়গা থেকে রাজনীতি এখন পর্যবাসিত হয়েছে বিভিন্ন অপকর্মের হোতা, দুর্বৃত্তদের আশ্রয়স্থল হিসেবে। সচেতন মহলের মতে দলের এমন বিশৃঙ্খল অবস্থার জন্য দায়ী নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে বিভক্তি। এই বিভক্তি তা কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
উল্লেখ্য গত বছরের জানুয়ারির শুরুতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সাথে সকল ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত হয়। অভিযোগ রয়েছে নাসিক নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় ছাত্রলীগের এই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সেই থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগ মাঠে ময়দানে তেমন একটা সক্রিয় নেই। তাই রাজনৈতিক বোদ্ধমহল মনে করেন, জিমিয়ে থাকা ছাত্রলীগকে জাগিয়ে তুলতেই এই সমাবেশ।
এছাড়া সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ী করার লক্ষ্যে তাদের এখন থেকে কাজ করার প্রস্তুতি নিতে হবে। আবার কেউ কেউ বলেন, কমিটিতে তাদের পদ ফিরে পেতে এই সভার আয়োজন। কেননা সভার মাধ্যমে মহানগর ছাত্রলীগ লোক সমাগমের মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শন করবে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ বলেন, ছাত্রলীগ যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে সর্বদা প্রস্তুত থাকে। তারাই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি মহানগর ছাত্রলীগের কর্মী সভায় নারায়ণগঞ্জ মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে তোলারাম কলেজ সহ শহরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ হাজার ছাত্র নেতৃত্ব দেয়ার মত শিক্ষার্থী উপস্থিথ থাকবে। সেই সাথে ওই দিন নারায়ণগঞ্জে জমকালো সর্বকালের ছাত্রলীগের সেরা সভা হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমাদের নিয়মতান্ত্রিক কর্মী সভা। এখানে জাগিয়ে তুলার মত কোন বিষয় নেই।


