বিভ্রান্তি বাড়াতেই তৃণমূল বিএনপি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৭:৩০ পিএম
# ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে সবাই বুঝতে পারছে : মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন
# সবাই সচেতন, কেউ ফাঁদে পা দিবেনা : সাখাওয়াত হোসেন
রাজনীতির মাঠে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়া নতুন কিছু নয়। গত ১৪ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে রয়েছে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথ গরম তৈরির চেষ্টা করছে বিএনপি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা আরো বেগবান হচ্ছে।
তবে বিএনপির সাবেক এক নেতার হাত ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য নতুন আরেকটি চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদা। তবে বিএনপি ছাড়লেও নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পেয়েছেন তিনি। তার দলের নাম দিয়েছেন তিনি তৃণমূল বিএনপি। যেখানে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ।
সেখানে নাজমুল হুদার নিবন্ধিত দল তৃণমূল বিএনপির দলীয় প্রতীক সোনালী আঁশ। বিএনপির সাথে নাজমুল হুদার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের দরুণ দল ছাড়লেও তার সাথে বিএনপির তৃণমূল কর্মীদের সম্পর্ক এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আর তাই নাজমুল হুদার দলের নাম নিয়ে তৃণমূলে নানা কৌতুহল এবং বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন খোদ বিএনপির কিছু কর্মীরা।
তবে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা নাজমুল হুদার এসব কর্মকাণ্ড বিএনপি কর্মীরা তো ভালো চোখে দেখছেই না বরং বিভ্রান্তি তৈরিতেও কোন কাজে আসবেনা বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, জাতির ক্রান্তি লগ্নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এই দলের গভীরতা এতোটাই বেশি যে মাটি ও মানুুষের সাথে মিলে গেছে। বিএনপি গঠনের পর থেকে দেশের উন্নয়ন আপামর জনসাধারণের উন্নোয়ন এতোটাই হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিএনপির মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবর্মূতি উজ্জ্বল হয়েছে।
দেশের মানুষের ভোটের অধিকারসহ গণতন্ত্র কায়েমের জন্য সংগ্রামী ভূমিকা রাখা সবচাইতে বড় দল বিএনপি। সম্প্রতি এক সময় বিএনপির আশ্রয় থাকা ব্যক্তি নাজমুল হুদা আবারো উদয় হয়েছেন। তার নেতিবাচক, সমালোচিত ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের জন্য দল তাকে বহিঃষ্কার করেছিল। তিনি তার বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত ব্যক্তি হিসেবেই সব জায়গায় পরিচিত।
এদিকে বর্তমান সরকারও নানাভাবে চাচ্ছে বিএনপিকে ভাঙার জন্য। নাজমুল হুদার মাধ্যমে যে কার্যসিদ্ধি করার চেষ্টা করা হচ্ছে সম্প্রতি সেটা কোন কাজে আসবেনা। মানুষও বিভ্রান্তিতে পড়বেনা। মানুষ জানে বিএনপি মানে জিয়াউর রহমান, বিএনপি মানে খালেদা জিয়া, বিএনপি মানে তারেক রহমান।
তাই নাজমুল হুদার মতো ব্যক্তি যতোই তার দলের নামে বিএনপি শব্দটা জুড়ে দিক না কেন মানুষ ও দলের নেতাকর্মীরা তাতে বিভ্রান্ত হবেনা। বরং আমি মনে বিএনপি কর্মীরাসহ সাধারণ মানুষ আরো বেশি করে দশ দফা আদায়ের যে দাবি সেই আন্দোলনে সোচ্চার হবে।
মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, বিএনপি শব্দটা আসলেই জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, ধানের শীষ প্রতীকের ছবিটা মানুষের হৃদয় থেকে বের হয়ে আসে।
তাই নাজমুল হুদা যতোই তার দলের নামের পেছনে অর্থাৎ তৃণমূল বিএনপি কথাটা জুড়ে দিক মানুষ সেসব কৌশল ধরে ফেলেছে। বিভ্রান্তি তৈরি করা যাবেনা, বরং এতে মানুষের মনোবল দৃঢ় হবে, কর্মীরা সচেতন হয়ে বুঝতে পারছে ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। কর্মীদের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।
নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘বিএনপিকে খাটো করে দেখানোর জন্য, হীন করে দেখানোর অপচেষ্টাই হল নাজমুল হুদার এই তৃণমূল বিএনপি নামে দল করা।
মাটি ও মানুষের জন্য জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল বিএনপির কর্মীরা রাজনৈতিকভাবে অনেক সচেতন। তারা কোনভাবেই নাজমুল হুদার মতো সুবিধাভোগী, উচ্ছিষ্টভোগী লোকের পাতা ফাঁদে পা দিবেনা। নাজমুল হুদা আজকের নাজমুল হুদা হতে পেরেছির শুধু বিএনপির কারণেই।
কিন্তু তার প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য দল তাকে বহিঃষ্কার করেছিল। এখন তিনি যেভাবে নতুন মোড়ক নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিএনপির সচেতন কর্মীরা কখনোই সেই ফাঁদে পা দিবেনা।’
প্রসঙ্গত, উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন পেয়েছে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপি। তাকে দেওয়া হয়েছে সোনালী আঁশ প্রতীক। গত বৃহস্পতিবার কমিশন থেকে তার দলকে নিবন্ধন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি।
নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য নাজমুল হুদার দলের এতদিন নিবন্ধন ছিল না। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে ইসিতে নিবন্ধন থাকতে হয়।
রাজনৈতিক দল হিসেবে ইসিতে নিবন্ধনের জন্য ২০১৮ সালে আবেদন করেছিল তার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিএনপি। তবে যাচাইবাঁছাই শেষে ইসি এই দলটিকে নিবন্ধন দেয়নি।
পরে এর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন নাজমুল হুদা। রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে একই বছরের ৪ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূল বিএনপিকে অবিলম্বে নিবন্ধন দিতে ইসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ইসি ২০১৯ সালে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। পরে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিএনপিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দিতে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা বহাল রাখার আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ইসি মো. আলমগীর জানিয়েছিলেন শিগগিরই তৃণমূল বিএনপিকে আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন দেওয়া হবে। এন.হুসেইন/জেসি


