# বিএনপির হেভিওয়েট নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র আসছে
# ছাত্রলীগ সংঘাতে বিশ্বাসী নয় : রিয়াদ
# আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি: এএসপি নাজমুল
নারায়ণগঞ্জে আজকে একই দিনে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগি সংগঠন ছাত্রলীগ এবং বিরোধী দল বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে শহরমুখি কর্মস্থল মুখি মানুষের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। আজ একই দিনে কর্মসূচি নিয়ে ছাত্রলীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আজ মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ ৩টায় মন্ডলপাড়া থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি পদযাত্রা করবে। তাদের এই পতদযাত্রায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতাও উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগ দুপুর আড়াইটায় ওসমাানি স্টোডিয়ামে কর্মী সভার আয়োজন করেছে।
এ অবস্থায় অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে।
এদিকে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকেঘিরে আওয়ামী লীগ বিএনপি দুই দলই রাজপথ দখল রেখেছেন। বিরোধী দল বিএনপি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য একের পরএক কর্মসূচি দিয়ে নেতা কর্মীদের চাঙ্গা রেখে যাচ্ছেন। সেই সাথে সরকার হটানোর আন্দোলন আরও জোরালো ভাবে করে যাচ্ছেন।
অপর দিকে তাদের ঠেকাতে আমওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে রাজপথ দখল রেখেছেন। বিশেষ করে দেখা যায় ১১ ফেব্রুয়ারি একই দিনে পাল্টা পাল্টি কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে নামেন।
একদিকে নারায়ণগঞ্জ সহ সারাদেশের ইউনিয়ন গুলোতে বিএনপি পদযাত্রা করেন। তাদের বিপরীতে ইউনিয়ন গুলোতে আওয়ামী লীগও শান্তি সমাবেশ করেন। ওই দিন দুই দলের পাল্টা পাল্টি কর্মসূচির সময় পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নারায়ণগঞ্জ সমাবেশ নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জানিয়ে উল্লেখ্য করা হয়, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ছাত্র সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে শনিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি কর্মীসভার নির্ধারণ করা হয়।
এই কর্মী সভায় প্রায় ৩০ হাজার লোকের সমাগম ঘটাতে প্রস্তুত ছাত্রলীগের। আর এজন্য জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটির নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা দিয়েছেন। দুপুর আড়াই টায় সভার সময় দেয়া হলেও তার আগে থেকে শুরু করে সাড়ে ৩টার বেশি সময় ধরে মিছিল আসবে বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা।
বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ, বন্দরের কিছু অংশের মিছিল গুলো নবীগঞ্জ ঘাট হয়ে আসবে। অপর দিকে খানপুর কিল্লাপুর বিবি মরিয়ম স্কুল সংলগ্ম এলাকা থেকে বিএনপি পদযাত্রা মিছিল বেরে করবে।
তাদের এই পদযাত্রায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উপস্থিত থাকবে বলে জানান স্থানীয় নেতারা। বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানান, পদযাত্রায় যোগ দিতে দুপর থেকে বিএনপির সহযোগি সংগঠনের মিছিল নিয়ে আসবে।
রাজনৈতিক বোদ্ধামহল মনে করেন, দুই দলের কর্মসূচি নিয়ে নগরবাসির মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা কাজ করছে। সেই সাথে মানুষ কোন সংঘাত কিংবা বিশৃঙ্খলা চায়না। তবে যে কোন পরিস্থিতি ঠেকানোর জন্য প্রশাসন সতর্ক অ¦বস্থানে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, সরকারি দল সব সময় বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা তৈরীর জন্য পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে আসছে। আমরা শান্তিুপূর্ণ ভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছি। সেই সাথে আজকের কেন্দ্রঘোষিত দলীয় কর্মসূচি পদযাত্রা শান্তিপুর্ণভাবে পালন করবো।
ক্ষমতাসীন দল পায়ে পাড়া দিয়ে আমাদের বাধা তৈরী করে সংঘাত সৃষ্টির পায়তারা করে। তার পরেও আমরা কোন সংঘাতে না গিয়ে শান্তিপুর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসি। আমরা পদযাত্রা বাস্তবায়নের জন্য সকল প্রস্তুতি নিয়েছি। একই সাথে নেতা কর্মীদের শান্তিপুর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের জন্য নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। কেননা আমরা কোন সংঘাত চাই না।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক’ সার্কেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘দুই দলের কর্মসূচির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। একই সাথে আমরা যে কোন অরাজাকতা প্রতিরোধের জন্য সতর্ক অস্থানে রয়েছি। আশা করি কোন ধরণের সংঘাত ঘটবে না।’
মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ বলেন, ‘ছাত্রলীগ যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে সর্বদা প্রস্তুত থাকে। তারাই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি মহানগর ছাত্রলীগের কর্মী সভায় নারায়ণগঞ্জ মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে তোলারাম কলেজ সহ শহরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ হাজার ছাত্র নেতৃত্ব দেয়ার মত শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকবে।
সেই সাথে ওই দিন নারায়ণগঞ্জে জমকালো সর্বকালের ছাত্রলীগের সেরা সভা হবে। তবে তারা শান্তিপুর্ণ সভা করবে। কোন সংঘাতে বিশ্বাসী নয়।’ এন.হুসেইন/জেসি


