Logo
Logo
×

রাজনীতি

ছাত্রলীগের ‘স্মার্ট ডিসপ্লে’

Icon

মাহফুজ সিহান

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:১২ পিএম

ছাত্রলীগের ‘স্মার্ট ডিসপ্লে’
Swapno

 

# সুশৃঙ্খল ও সংগঠিত ছাত্রলীগের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছে নগরবাসী
# নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ

 

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যত্থান, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ, ৯০’র স্বৈরাচারী আন্দোলনসহ দেশের ক্রান্তিলগ্নে গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রলীগ নেতারা অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছে।

 

 

তবে গেল কয়েক বছর ছাত্রলীগের নানা নেতিবাচক সংবাদ সামনে আসলেও গতকাল নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ প্রমাণ করেছে কীভাবে একটি সুশৃঙ্খল ছাত্রসংগঠন তার বড় কর্মসূচি পালন করতে পারে। আওয়ামী লীগের আগামী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার যে প্রত্যয় তাই যেন স্মার্ট ডিসপ্লের মাধ্যমে প্রমাণ করলো নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ।

 

 

প্রায় অর্ধ লক্ষ ছাত্রলীগ কর্মীর উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ যেভাবে কর্মীসভা আয়োজনের পর সফল করলো সেটিকে নিন্দুকেরাও সাধুবাদ জানিয়েছেন। ইসদাইরে পৌর স্টেডিয়ামে গতকাল বিকেলে ছাত্রলীগের এই বৃহৎ জমায়েত ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচিতে বিএনপির কর্মীসমর্থকরা শহরে অংশ নিলেও কোথাও ছাত্রলীগ কর্মীদের সাথে অনাকাঙ্খিত ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি।

 

 

শহর ও শহরতলীর নানা জায়গা থেকে ছাত্রলীগের কর্মীবাহিনীর বিশাল বিশাল মিছিল কর্মীসভায় অংশ নেয়ার দৃশ্যও ছিল আকর্ষণীয়। নগরবাসী ভোগান্তিতে না পড়ায় নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগের এই কর্মসূচিকে ‘স্মার্ট ডিসপ্লে’ বলছে শহরের বিশিষ্টজনেরা। নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দও।

 

 

ছাত্রলীগের এতো নেতাকর্মী জড়ো হওয়ার পর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামের মঞ্চে কোন ছাত্রলীগ নেতাকে বিশৃঙ্খলা করা তো দূরের কথা মঞ্চে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ছাড়া নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগের গুটি কয়েক নেতাই মঞ্চে ছিলেন। বক্তব্যও রেখেছেন তারা দু’জনই।

 



নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগের এই ‘স্মার্ট ডিসপ্লে’ মঞ্চের দর্শক সারিতে বসেই উপভোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ কর্মীদের প্রিয় নেতা শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাবু চন্দন শীল, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল

 

 

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক জিএম আরমান, শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া সাজনু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এড.সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, নাসিক প্যানেল মেয়র-২ শাহজালাল বাদল, কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি প্রমুখ।

 

 

ছাত্রলীগের এই বিশেষ কর্মী সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুল রহমান আজিজ, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রাফেল, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু, ছাত্রলীগ নেতা আহমেদ কাউসার প্রমুখ। কর্মসূচি শেষে সুশৃঙ্খলভাবেই বাড়ি ফিরে গেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

 



এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তরুণ প্রজন্মকে প্রেরণা দেয়। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে শিক্ষা দেয় কিভাবে প্রতিকূলতাকে ডিঙিয়ে লড়াই করে জয়ী হতে হয়। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ছাত্রলীগের পক্ষ হতে আমরা নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগকে বেঁছে নিতে চাই। তারই লক্ষ্যে এখানকার মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য খুব অল্প সময়ের মাঝে আজকের এই কর্মী সভা।

 

 


নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম বলেন, যারা মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে তাদেরকে নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া হচ্ছে সম্মেলন কিংবা কর্মী সভা করে কমিটি ঘোষণা করা। সম্মেলন বা কর্মী সভা না করে বা কর্মীদের নিজেদের মতামত না নিয়ে সাংগঠনিক অবস্থা যাঁচাই বাঁছাই না করে ঢাকায় বসে প্রেস রিলিজ কমিটি দেয়ার পক্ষে আমরা নই।

 

 

আমরা ছাত্রলীগের তৃণমূলের মতামতের কন্ঠস্বরকে বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা জানি ছাত্ররা কত কষ্ট করে ছাত্রলীগ করে। সংগঠনের প্রতি আপনারা কেমন ত্যাগ করতে পারেন তা আমরা দেখিছি। আমরা জানি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ছাত্রলীগের শিক্ষার্থীরা অনেক শিক্ষার্থী টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে সংগঠন করেন। ছাত্রলীগের কর্মীরাই আমাদের পথ দেখায়। তাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূলের কর্মীরা কখনো ভুল বা বেইমানি করেন না, তারাই আমাদের পথ দেখান।

 

 

সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে হবে এই সাংগঠনিক বার্তাটি আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই। একই সাথে গঠনতান্ত্রিক যে সকল বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেগুলো মেনে চলতে হবে। প্রত্যেক মাসে ছাত্রলীগের নির্বাহী কমিটির সভা করতে হবে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, কলেজ, মাদ্রাসায় ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করতে হবে। সেই সাথে সর্বস্তরে কর্মীদের মতামত গ্রহণ করে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করতে হবে। এর মাধ্যমে ছাত্রলীগকে শক্তিশালী করার শপথ নিতে হবে।  

 

 


ছাত্রলীগের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী। একই সঙ্গে আমরা ছাত্রলীগের কর্মী। ছাত্রলীগের কর্মীর চেয়ে অন্য কোন গৌরবের পদ-পদবী থাকতে পারে বলে আমরা মনে করি না। ছাত্রলীগ এমন একটি সংগঠন যেই সংগঠন স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে।

 

 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মানে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার শপথ নেয়া। ছাত্রলীগের সংগঠন মানে দেশরত্ন শেখ হাসিনার মত সাহস ধারণ করে গণ মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত করা। আমরা এমন একটি সংগঠনের কর্মী যেই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু। আমরা এমন ছাত্র সংগঠনের কর্মী যেই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। আমরা এমন একটি সংগঠনের কর্মী যেই সংগঠনের কর্মী ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতি।

 

 

ছাত্রলীগের কর্মী হওয়া মানেই শহীদের রক্তের প্রতি দায়বদ্ধ হওয়া। সেই সাথে উদার মানসিকতার ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হওয়া। ছাত্রলীগের কর্মী হওয়া মানেই শিক্ষার্থীদের পক্ষে অক্লান্ত পরিশ্রম করে কাজ করা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের কর্মী সভার মাধ্যমে আমরা জাতির জনকের আদর্শ প্রতিষ্ঠা বাস্তবায়নের শপথ করতে চাই। সকলকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের জন্য কাজ করতে হবে।

 

 


শিক্ষা সেক্টর নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বছরের শুরুতে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর মাঝে বই তুলে দিতে পেরেছি। জাতির জনকের কন্যার নেতৃত্বে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৮১ হাজার কোটি টাকা বাজেট দেখতে পাই। অথচ জামাত-বিএনপির আামলে পুরো বছরের বাজেট ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকা।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পোশাক শিল্পে রপ্তানিতে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। আমরা যেন স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি সেই শপথ আমাদেরকে নিতে হবে। মানুষের কাছে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার বার্তা আমাদেরকে নিয়ে যেতে হবে। তার জন্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের কর্মী সভার মাধ্যমে আমরা কাজ শুরু করেছি।

 

 


কেন্দ্রীয় সভাপতি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অনেক জায়গায় আমরা দেখি ব্যানারে কার নাম থাকবে আর কার নাম থাকবে না, অতিথি কে হবে আর কে হবে না তা নিয়ে বিভেদ তৈরী হয়। পোষ্টারে কার ছবি ছোট, কার ছবি বড় আকারে রয়েছে তা নিয়ে রাজনীতি চলে। কে কার রাজনীতি করে তার প্রদর্শনী আমরা দেখতে পাই।

 

 

লোক দেখানো রাজনীতি পরিত্যাগ করতে হবে। আমি যেমন ছাত্রলীগের কর্মী তেমনি ওয়ার্ডে যে ছাত্রলীগ করছে সেও এই সংগঠনের কর্মী। আমাদেরকে আলাদাভাবে প্রদর্শন করার কোন সুযোগ নেই। আমরা ছাত্র সমাজকে এই বার্তা দিতে চাই। দলীয় সাংগঠনিক রাজনীতি করতে হবে। ব্যক্তিগত শোডাউন পরিত্যাগ কতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সত্যিকারের কর্মী হয়ে আগামী দিনে তাকে জয়ী করে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে।

 

 


নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রদের একাডেমিক লিডারশিপ, কালাচারাল নেতৃত্ব, দেশের প্রশাসনিকভাবে যারা কাজ করবে তাদের জন্য আমরা যেন একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম তৈরী করতে পারি তা ছাত্রলীগের কর্মীদের নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আলোকিত মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান। ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে অর্থ বানানোর মেশিন তৈরী করা কাজ নয়। ছাত্রলীগের কর্মীরা উন্নত ব্যক্তিত্বের অধিকারী হবে। এই সংগঠনের কর্মীরা দক্ষ ছাত্র ও মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে।

 

 

প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে বলেন, উচ্চ আদর্শ এবং সাদামাটা জীবন যাপন ছাত্রলীগের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য হতে হবে। কোথায় টেন্ডার হচ্ছে, তার খবর রাখা ছাত্রলীগের কাজ নয়। নিজেদের ক্যারিয়ার গঠনের জন্য আমরা ছাত্রলীগ করি না। মানুষের ক্যায়িার গঠনের ছাত্রলীগ করি। ছাত্র সমাজকে তৈরী করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ছাত্রলীগের সকল কর্মীকে স্মার্ট লিডারশিপ হিসেবে তৈরী করতে চাই। ছাত্রলীগের কর্মীরা সমস্যা তৈরী করবে না, তারা যে কোন সমস্যার সমাধানের পথ দেখাবে। দেশনেত্রী শেখ হাসিনার ছাত্রলীগের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধে বলিয়ান হয়ে কাজ করবে।

 

 


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা টাকার জন্য পড়তে পারেন না, তাদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ছাত্রলীগের কর্মীদের দায়িত্ব নিতে হবে। মনে রাখতে হবে আধিপত্য, দাপট, ক্ষমতা, দম্ভ আমাদের শক্তি নয়। আমাদের শক্তি হচ্ছে নৈতিকতা এবং মানুষের ভালোবাসা।

 

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কথা বলতে হবে। প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে খুশি রাখা ছাত্রলীগের কাজ না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যার জন্য কাজ করে তাদের পাশে থাকতে হবে। যারা অন্যায় করে, বিভাজন তৈরী করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি সামাজিক আন্দোলনে ছাত্রলীগের কর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

 

 


কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ছাত্রলীগে লাঞ্ছনাকারী, নিপীড়নকারী এবং চাঁদাবাজদের কোন স্থান নেই। ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রেমিক হবে, তারা মানুষকে ভালোবাসবে। যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের সহযোদ্ধাদের নিপীড়ন করে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শান্তিপূর্ণ শিক্ষা পরিবেশ তৈরী করতে হবে।

 

 


গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্য করে এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ছাত্রলীগ যে কোন ভুলকে সাদরে গ্রহণ করার মত হিম্মত রাখে। সঠিক নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করার মত সাহস ছাত্রলীগের কর্মীদের রয়েছে। সঠিক সংবাদ উপস্থাপনা করা গণমাধ্যম কর্মীদের দায়িত্ব। সম্পাদকদের নীতিমালা রয়েছে।

 

 

কেউ যদি অন্য কারো প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে তা ছাত্র সমাজের মাঝে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দেখি ছাত্রলীগ যদি ১০০টি ভালো কাজ করে একটিও নিউজ হয় না। কিন্তু ছাত্রলীগ একটি খারাপ কাজ করলে একশোটি নিউজ হয়। আমরা গণমাধ্যমের সঠিক দায়িত্বশীলতার ভূমিকা দেখতে চাই। কেননা তাদের লেখনীর উপর নির্ভর করে ছাত্র সমাজ কতটুকু দায়িত্ব পালন করছে।

 

 


নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের কর্মীদের উদ্দেশ্যে করে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন , আমাদের অনেক লড়াই এখনো বাকি রয়েছে। আমরা তিনবার ক্ষমতায় আছি এটি নিয়ে আত্মতৃপ্ত হওয়ার কিছু নেই। যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যকারী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে তারা এখনো রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। অনেকেই গণতন্ত্রের বেশ ধরে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

 

 

আবার অনেকেই দুর্নীতিবাজদের পুর্নবাসনের চেষ্টা করছে। যারা কিলার, খুনি এমনকি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তাদের রাজনীতির কথা বলে প্রতিষ্ঠিত করা চেষ্টা করা হচ্ছে। গণতন্ত্রের বেশ ধরে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের ছাত্র সমাজ কখনোই গ্রহণ করবে না। যাদের কাছে মানুষের চেয়ে লাশ গুরুত্বপুর্ণ এবং বিদেশিদের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়ন করতে চায় তাদেরকে ছাত্র সমাজ গ্রহণ করবে না। গণতন্ত্র নিয়ে তামাশা ছাত্রসমাজ মেনে নিবে না।

 

 


বিএনপির উদ্দেশ্যে করে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম বলেন, বাহিরের ক্ষমতায় নয়, জনগণের ভোটের আস্থা অর্জন করতে হবে। আগামী নির্বাচনে দেশ গড়ার জন্য ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। যারা বিদেশি প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নে কাজ করে তাদেরকে আমরা মেনে নিবোনা।

 

 

জামাত-বিএনপির যে কোন ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করার জন্য ছাত্রলীগকে প্রস্তুত থাকতে হবে। নারায়ণগঞ্জের ছাত্রলীগ আগামী ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার পথ দেখাবে। এই নারায়ণগঞ্জ শেখ হাসিনার রাজধানী থাকবে। এই জেলা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অতন্দ্র প্রহরী থাকবে। মৌলবাদের প্রতিরোধে অগ্রনি ভুমিকা রাখবে নারায়ণগঞ্জ।

 

 

আমরা খুব শীঘ্রই নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা ছাত্রলীগের কমিটি দেয়ার চেষ্টা করবো। তার মাধ্যমে আমরা যে নেতৃত্ব তৈরী করবো তা মডেল হিসেবে তৈরী করবো। আমরা নতুন দায়িত্বে আসার পরে অনেক আশা নিয়ে নারায়ণগঞ্জকে বেঁছে নিয়েছি। কেননা এখানকার উপরে আমাদের ভরসা বিশ্বাস রয়েছে। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক শোডাউন আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমাদের লক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করা। শেখ হাসিনার কর্মী হয়ে কিভাবে রাজনীতি দুর্গ গড়ে তুলতে হয় তা শামীম ওসমান করে দেখিয়েছেন।

 

 


ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নিজেদের উপর নির্ভর হতে পারবো। সারাদেশে ১৩ হাজার ডিজিটাল ল্যাব তৈরী করেছে এই সরকার। এছাড়া হাইটেক পার্ক নির্মাণ করেছে। বাংলাদেশের আগে ৫০ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করত।

 

 

আর শেখ হাসিনার বদৌলতে এখন ১৩ কোটি মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। বিএনপি সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্ষমতা ছিল ৫ হাজার মেগাওয়াট, এর এখন তা ২৫ হাজার মেগাওয়াট হয়েছে। আগে দেশে দারিদ্রতার হার ছিল ৪০ ভাগ এখন তা চলে এসেছে ২০ ভাগে। এই সব কিছু সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের পরিবর্তনে।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিবর্তনে আজকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষা নিয়ে শিক্ষিত হিসেবে তৈরী হচ্ছে। তারা আজকে সকল সেক্টরে চাকরী করতে পারছে। আর কয়েক বছর পর আইসিটি বিভাগ থেকে আমাদের দেশ সবচেয়ে বেশি আয় করবে। আমরা যেমন স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই আরেকদিকে স্মার্ট ছাত্র-ছাত্রী তৈরী করতে চাই। যাতে করে স্মার্ট বাংলাদেশ হতে কোন শিক্ষার্থী বঞ্চিত হতে না পারে। আমরা হচ্ছি দেশ নেত্রী শেখ হাসিনার হাতে গড়ার স্মার্ট জেনারেশন। ছাত্রলীগ শুধুমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এই সংগঠন থেকে আমরা শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে তৈরী করতে চাই।

 

 


সভাপতি বক্তব্য দেয়ার আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, ‘আমি আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি পরিস্থিতির কারণে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। আমরা সংগঠনকে শক্তিশালী এবং সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছি।

 

 

তারই প্রতিফলন হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগকে কর্মী সভা করার জন্য নিদের্শনা দেই। তা বাস্তবায়নের মহানগর ছাত্রলীগ তা সাফল্যমণ্ডিত করে দেখিয়ে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের জন্য ওসমান পরিবার অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। তাদের পরিবারের ভাষা সৈনিক নাগিনা জোহা নারীদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে নারীরাও সমাজে অনেক বড় অবদান রাখতে পারে।

 

 


মহানগর ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে ইনান বলেন, নিজেদের মাঝে দ্বন্দ্ব ভেদাভেদ ভুলে দলের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যেতে হবে। নিজেদের মাঝে কোন প্রকার বিভেদ রাখার সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার প্রশ্নে সকলকে এক হয়ে সংগঠনকে বেগবান করতে হবে। কোন প্রকার অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধীদের এখানে কোন স্থান নেই। ছাত্রলীগ কারো ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় নিবে না। কেননা ছাত্রলীগ স্বাধীনতার সংগঠন। প্রধানমন্ত্রী আগামী ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার জন্য ছাত্রলীগকে এগিয়ে আসতে হবে।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন