Logo
Logo
×

রাজনীতি

টিপুর ব্যর্থতায় ঘরে ঘরে মহানগর বিএনপি

Icon

আব্দুল কুদ্দুস

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:৫৩ পিএম

টিপুর ব্যর্থতায় ঘরে ঘরে মহানগর বিএনপি
Swapno

 

# টিপুতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না নেতাকর্মীরা

 

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির রাজনীতি ধীরে ধীরে অধপতনের দিকে ঝুঁকছে। বিএনপির হাইকমান্ড দলকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে বলা যায় নিয়মিতই দফায় দফায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রামের কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর বিএনপির সকল নেতাকর্মীই আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে কিন্তু সংগঠনের মধ্যে অভ্যন্তরীন কোন্দল ও নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা না থাকার কারণে হাক-ডাক দিয়ে ও কোন সুবিধা করতে পারছে না মহানগর বিএনপি।

 

জানা গেছে, মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠনের পরেই মহানগর বিএনপির সংগঠনে ফাটল সৃষ্টি হয়। নতুন কমিটি হওয়ার দুইদিনেই কমিটি থেকে কিছু নেতাকর্মীদের পদত্যাগের দেখা মিলে যা অনেকটাই অশুভনীয় বলে মনে করেছেন অনেকেই। যারা কমিটি থেকে বিদ্রোহী হয়ে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছিলেন তাদের সূত্রে জানা গেছে, মহানগর বিএনপির কমিটিতে অযোগ্য ও ধ্বংসের কারিগরকে সদস্য সচিব করায় কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছে বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা। তার পাশাপশি বর্তমানে সৃষ্টি হয়েছে পিপিলীকার মতো ঘরে ঘরে মহানগর বিএনপির।

 

আর টিপুর কারণে কেউ কাউকে মানছে না। সবাই সবাইকে বড় নেতা মনে করছে। যার কারণে দল কোন্দলে বিনষ্ট হওয়ার পথে মহানগর বিএনপি। এ ছাড়াও জানা যায়, সদস্য সচিব টিপু তার এক নিজস্ব নেতার কথা অনুযায়ী কলকাঠি নাড়ছেন যার কারণে মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নেতাকর্মীরা একত্রিত হতে পারছে না। আর তার ব্যর্থতায় সৃষ্টি হচ্ছে আরো মহানগর বিএনপির বিএনপির বলয় দ্বারা সংগঠন।  কিন্তু তৃণমূলের দাবি সকলে একত্রিত হয়ে আন্দোলনে নামলে বিএনপির সকল আন্দোলন সংগ্রাম আরো জোরদার ও দেখার মতো হবে। আর বর্তমানে মহানগর বিএনপির দিকে পরা এক বিশেষ নেতার কালো নজর বিনষ্ট হবে।

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের পরেই দেখা মিলেছে। মহানগর বিএনপিতে ছন্নছাড়া অবস্থার। কমিটি হওয়ার পরেই কমিটিকে পকেট কমিটির আখ্যা দিয়ে বেশ কিছু নেতা কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। যার কারণে মহানগর বিএনপি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পরে। এক অংশ চলতে থাকে মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটির সাখাওয়াত ও টিপুর সাথে আর আরেক একাংশ বিদ্রোহী হয়ে মুকুল, তৈমূর সাথে কিন্তু হঠাৎ তাদের মধ্যে কোন্দলের কারণে মহানগর বিএনপির বিভক্ত আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। বর্তমানে ঘরে ঘরে মহানগর বিএনপির তৈরি হওয়া শুরু করে দিয়েছে।

 

জানা গেছে, বর্তমানে কয়েকভাগে মহানগর বিএনপি তৈরি হয়েছে যেমন, সাখাওয়াতের মহানগর বিএনপি, টিপুর মহানগর বিএনপি, খোরশেদের মহানগর বিএনপি, তৈমূরের মহানগর বিএনপি, জাকির খানের মহানগর বিএনপি। তাছাড়া ও মহানগর বিএনপির মূল কমিটিতে বর্তমানে যে ২৬ জন রয়েছে তাদের মধ্যে ও নেই কোন ঐক্য সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে নেই শৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে নানা বিশৃঙ্খলার। আর এ সকল বিশৃঙ্খলার নেপথ্যের কারণ হিসেবে সকলেই দোষ দিচ্ছে আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে। আর সকলেই ধারনা করছে এই টিপুর ব্যর্থতায় এখনো একত্রিত হতে পারছে না।

 

কমিটিতে থাকা ৪১ সদস্য। আর বর্তমানে যারা রয়েছে তারা ও টিপুর কর্মকান্ডে প্রকাশ্যে না হলে ও কমিটি থেকে পদত্যাগ না করলেই মনে ক্ষোভ রেখে অনেকেই মহানগর বিএনপিতে ভিড়ছে না। কিন্তু বর্তমানে যে যার মতো করেই রাজপথে রয়েছে। কিন্তু তাদের এই রাজপথের লড়াইকে কেউ দলের জন্য লড়াই বলে মনে করছে না। নেতাকর্মীদের ধারনা তারা দলের স্বার্থ হাসিলের জন্য বর্তমানে মূল কমিটি ও বিদ্রোহীসহ যারা মহানগরের নাম ভেঙ্গে রাজপথে রয়েছে সকলেই। মহানগর বিএনপির দুইভাবে বিভক্ত হওয়ার পরে ভাবা হয়েছিল মূল কমিটি ও বিদ্রোহীরা আলাদাভাবে হলে ও বেশ সক্রিয় এবং শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হবেন।

 

কিন্তু বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির মূল ও বিদ্রোহী নেতাদের কার্যক্রম অনেকটাই ধীরগতিতে চলছে। মহানগর বিএনপির কমিটি হওয়ার পর নানা বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার কারণে এই কমিটিতেই সকল নেতাকর্মীদের চোখ রয়েছে। তাই তাদের ছোট ভূল ও এখন বড় ইস্যূ হয়ে সামনে আসছে। সূত্রে আরো জানা যায়, মহানগর বিএনপির কমিটি হয়েছে দীর্ঘ ৬ মাস যাবৎ আর কমিটির সদস্য করা হয়েছিল ৪১ সদস্য। কিন্তু টিপুর নানা কর্মকাণ্ড ও ব্যর্থতার কারণে কমিটি ৪১ সদস্য অর্ধেক বছরে ও একত্রিত হতে পারছে  না।

 

কমিটির ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বলছে, মহানগর বিএনপিতে বিদ্রোহী নেতা মুকুল, আব্দুস সবুর সেন্টু, হাজী নূর উদ্দিন, আবুল কাউসার আশা, জাকির খান বলয়, খোরশেদ বলয় ও কমিটিতে যারা থেকে ও টিপু কর্মকাণ্ডে ভিড়ছে না। তারা সকলেই যদি মহানগর বিএনপিকে এতোভাবে বিভক্ত না করে সকলে একক্রিত হয়ে রাজপথে থাকতে পারেন তাহলে আবারো মহানগর বিএনপি গতি ফিরে পাবে। তার পাশাপাশি বর্তমানে বিএনপির চলমান যে ১০ দফা আদায়ের আন্দোলন রয়েছে ৪১ জনের ঐক্যবদ্ধতায় আন্দোলন আরো ব্যাপক রূপ ধারন করতে পারবে।

 

নেতাকর্মীরা দাবি জানিয়েছে, সেন্ট্রালের নির্দেশে নেতাকর্মীরা এখন এক পাল্লায় রয়েছে। কিন্তু আড়াইহাজরের নেতা আজাদের পরোক্ষ ইশারায় কমিটিতে থাকা সদস্য সচিবের কারণে বিবেদ তৈরি হচ্ছে মহানগর বিএনপিতে। এই বিবেদ জেলা বিএনপিতে ও গড়তে চেয়েছিলেন এই কালো হাত দারি আজাদ কিন্তু জেলা বিএনপির গতিশীল কমিটির মাধ্যমে আজাদের গুরুত্ব অনেকটাই নিস্কিয় হয়ে গেছে। আর এবার যদি মহানগরের থেকে ও আজাদের গুরুত্ব কমানো হয় তাহলে আজাদের গুরুত্ব সম্পূর্ণভাবে খর্ব হবে। আর মহানগর বিএনপিতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তার পাশাপাশি যদি সংগঠনের সকলে আলাদা না হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে থাকতে পারে তাহলে চলতি বছরের বিরোধী দলের চূড়ান্ত আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ নগরীতে মহানগর বিএনপি বিপ্লব ঘটাতে পারবে।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন