Logo
Logo
×

রাজনীতি

ষড়যন্ত্রের বন্দর থানা বিএনপি কমিটি

Icon

আব্দুল কুদ্দুস

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:১৩ পিএম

ষড়যন্ত্রের বন্দর থানা বিএনপি কমিটি
Swapno


# আমরাও ত্যাগীদের নিয়ে কমিটি দেবো : মুকুল
# বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়া দরকার : সেন্টু
# এদের যোগ্য বলাই যাবে না : আশা
# এগুলো তাদের মক্কেল-টক্কেল : শিপলু

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে যেন বিতর্কের শেষ নেই। নব-গঠিত কমিটি গঠনের পর থেকেই দফায় দফায় নানা বিতর্কের সৃষ্টি দিয়ে যাচ্ছে মহানগর বিএনপির কমিটির মূল দুই নেতা। তারা তাদের কমিটিতে থাকা কোন নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয়তা না করেই সংগঠনের কার্যক্রম অবহৃত রেখেছেন তার কারণে দলে সৃষ্টি হচ্ছে নানা বিশৃঙ্খলার।

 

 

অপর দিকে মহানগর বিএনপি ইতিমধ্যে দুইটি ইউনিয়ন কমিটি দিয়েছেন এই কমিটিতে কাদের রাখা হচ্ছে তারা রাজপথে কতটুকু সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারবে সে বিষয়ে কমিটিতে থাকা কোন নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ আলোচনা না করেই কমিটি গঠন করেছিলেন এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

 

 

দুইটি ইউনিয়ন কমিটি হওয়ার পরই হঠাৎ হারিয়ে গেলেন সাখাওয়াত-টিপু। পরবর্তীতে কমিটি হওয়ার দীর্ঘ ৬ মাস পরে সাখাওয়াত-টিপুর নিজস্ব প্রেসক্রিপশনে অযোগ্যদের দ্বারা ঘরে বসে বন্দর থানা বিএপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আর এ কমিটিতে নাম দেখা যায়নি বন্দর থানা বিএনপির ডাকসু নেতাদের মধ্যে কাউকে।

 

 

যার কারণে এ কমিটিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে না বন্দর বিএনপির নেতাকর্মীরা। অপর দিকে সাখাওয়াত-টিপুর মহানগর বিএনপির থেকে বেড় হয়ে যাওয়া বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা দাবি জানিয়েছেন, বন্দর থানা বিএনপির যে কমিটি গঠন করা হয়েছে এটা পুরোই অযোগ্য এই কমিটিতে যারা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ও কমিটির আরো সদস্য রয়েছেন তাদেরকে রাজপথে দেখা যায় না বললেই চলে।

 

 

তারা আরো জানিয়েছেন বন্দর থানা বিএনপির কমিটি আমরা আবারো সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করবো ও যোগ্যদের দ্বারা কমিটি গঠন করা হবে। এখানে নিজস্ব কোন নিজ প্রেসক্রিপশন চলবে না। সকলের সাথে সমন্বয়তা করেই কমিটি গঠন করা হবে। আর বন্দরের এই কমিটি ষড়যন্ত্র করে গঠন করা হয়েছে।

 

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি হয় এই কমিটিতে টিপুকে সদস্য সচিব করায় কমিটি থেকে ১৫ জন নেতা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন কিন্তু এখানো তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি সেন্ট্রাল। যার কারণে মহানগর বিএনপির কমিটিতে এখানো তাদের পদ রয়েছে।

 

 

কিন্তু তাদের সাথে কোন সম্বনয়তা না করেই কমিটি থানা কমিাটি দিয়ে ফেলেন তারা এছাড়া ও কমিটিতে রাখা হয়নি বন্দর থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, আবুল কাউসার আশা, হাজী নূর উদ্দিন, শিপলু এছাড়া ও বন্দর থানাতে যারা বিগত দিনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে ছিলেন তাদেরকে ও মাইনাস করা হয়েছে।

 

 

সাখাওয়াত -টিপুর নিজ বানানো ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে নূর মোহাম্মদ পনেছ, সদস্য সচিব নাজমুল হক রানা। কিন্তু এদের রাজনীতি ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কথা উঠছে রাজনৈতিক মহলে। সকলেই বলছে রাজনীতিতে কি অবদান ছিল তাদের। কিন্তু তাদেরকে কেন থানার মূল পদে বাসানো হলো এর মধ্যে বিরাট ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও মনে করছে দলটির নেতৃবৃন্দ।

 

 

এছাড়াও মহানগর বিএনপিকে বর্তমানে ধ্বংর্সের চিন্তায় মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে আড়াইহাজারের বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ তিনি মহানগর বিএনপিতে নিজ অর্থায়নে একজন নেতা পালন করেন। যার কারণে কমিটি  হওয়ার পর থেকেই সংগঠনটি আস্তে আস্তে সংকীর্ণ হওয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে তার ব্যর্থতায়ই মহানগর বিএনপির ঘরে ঘরে তৈরি হওয়া শুরু করে দিয়েছে।

 

 

অপর দিকে জেলা বিএনপির রাজনীতি বর্তমানে অনেকটাই আন্দোলনমুখী ও চেইন অব কমান্ডভুক্ত। কিন্তু মহানগর বিএনপিতে নেই কোন চেইন অব কমান্ড অপর দিকে ধ্বংসের কারিগর টিপু ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে মহানগর বিএনপিকে। এছাড়াও বর্তমানে বন্দর থানার কমিটি দেওয়ার পর থেকেই তারা  অনেকের প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

 

 

এই কমিটিতে ৯টি ওয়ার্ড ও ৫টি ইউনিয়নের কোন নেতাকর্মীকেই রাখা হয়নি। যার কারণে বলা যায় এই কমিটির কোন জনসম্পৃক্ততা নেই। আর নেতাকর্মীরা ও মহানগর বিএনপি থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের কর্মকান্ড থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য মহানগর বিএনপিকে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করা অতন্ত জরুরী।
 

 

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপি‘র যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল যুগের চিন্তাকে বলেন, বন্দর থানা কমিটি কোনো গ্রহণযোগ্য না। এই থানা কমিটিতে যোগ্য বলে কেউ নেই। ঘরে বসে এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। আগামীতে মহানগর বিএনপির অবস্থা কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে বলতে পারছি না।

 

 

কিন্তু আমরা অতি শীঘ্রই বন্দর থানা বিএনপির কমিটি গঠন করবো আর শত শত নেতাকর্মী নিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমেই কমিটি গঠন করবো। সাখাওয়াত-টিপুর মতো ঘরে বসে কমিটি গঠন করবো না। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু যুগের চিন্তাকে বলেন, বিএনপির জাতীয় নিবাহী কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ মহানগর বিএনপির সাবেক কমিটির কোন নেতাকর্মীর সাথেই কোন আলাপ আলোচনা না করে।

 

 

গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যার কারণে কমিটিতে এই ধরনের সংকট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে এর থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য বর্তমান কমিটিকে বিলুপ্ত করে নতুন একটি কমিটি দেওয়া দরকার। এ বিষয়ে মহানগর বিএনপি‘র যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী নূর উদ্দিন যুগের চিন্তাকে বলেন, যারা বন্দর থানা কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন তারা আমাদের থেকে বিছিন্ন।

 

 

আর তারা বন্দর থানা বিএনপিতে যাদেরকে কমিটিতে রেখেছে আমি কখনো তাদেরকে রাজপথে দেখি নাই। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা যুগের চিন্তাকে বলেন, বন্দর থানা বিএনপির বিগত দিনে যে কমিটিগুলো ছিল। সেগুলোর সাথে মিলালে বন্দর থানার বর্তমান যে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এটি পুরোই দুর্বল কমিটি।

 

 

আর এই কমিটি নিয়ে মন্তব্য করার মতো জায়গা নেই। এটি যোগ্য বলাই যাবে না। মহানগর বিএনপির সদস্য শরিফুল ইসলাম শিপলু যুগের চিন্তাকে বলেন, বন্দর থানা বিএনপির কমিটি নিয়ে আমাদের সাথে কোন সমন্বয়তা করা হয়নি। তারা আমাদের সাথে সমন্বয় করার কোন প্রয়োজনীয়তা মনে করেনি।

 

 

এই কমিটি যারা অনুমোদন দিয়েছেন মহানগর বিএনপির কথাকথিত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব তারা। আর তাদের নেতৃত্ব আমরা শুরু থেকেই পছন্দ করি না। আর সামনে ও করবো না আশা করি। কারণ তারা গণবিছিন্ন লোক নারায়ণগঞ্জ যোগ্য কোন কমিটি দেওয়ার তাদের যোগ্যতা নেই।

 

 

তারা তাদের বন্ধু বান্ধব ও নামকা ওয়াস্তে কিছু বিএনপি নেতাকে সম্পৃক্ত করে বন্দর থানা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের থানা, ইউনিয়ন ও উপজেলায় টোটাল বাউন্ডারীর ভিতরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার মতো কোন লোক তাদের সাথে জনসম্পৃক্ত নেই। আর বন্দর থানায় যাদের কমিটি দেওয়া হয়েছে এলাকাতে তাদের কোন জনসম্পৃক্ত নেই।

 

 

আর তাদের কাছে থানা কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা কোন জনগণের লোক না। এগুলো টিপু- সাখাওয়াত সাহেবের ব্যক্তিগত কিছু মক্কেল-টক্কেল আর কিছু না। তাদের নেতা বন্দর থানা বিএনপির আওতায় যারা রয়েছে তারা কোনভাবেই মেনে নিবে না।    এন. হুসেইন/ জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন