মহানগর বিএনপির বিরোধ সৃষ্টের নেপথ্যের ঘটনা বিস্ফোরিত হল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:০৭ পিএম
‘হিতে বিপরীত’ বলে একটি প্রবচন আছে বাংলা ভাষায়। অবশেষে সেটিই প্রকাশিত হল নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির শীর্ষ পদে থাকা ১৫জন নেতা কমিটি থেকে পদত্যাগ করার পর দিশেহারা হয়ে উঠে কমিটির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব।
যার কারণে মহানগর বিএনপির কমিটিকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে পদত্যাগ ঠেকাতে কমিটির অন্যান্য নেতাদের জিম্মি করে মহানগর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী বিএনপি হিসেবে জাহির করার পথ বেছে নিয়েছিলেন। অবশেষে তাদের প্রতি তেক্ত বিরক্ত হয়ে মহানগর বিএনপির এক যুগ্ম আহবায়ক ঐক্যবদ্ধ বিএনপির নামে মহানগরের নেতাদের জিম্মি করে দলে বিরোধ সৃষ্টের নেপথ্যের ঘটনা বিস্ফোরিত করলেন।
সূত্র বলছে, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই বেজে উঠে বিদ্রোহের সূর। পরবর্তীতে কমিটি গঠনের ছয়দিনের মাথায় ৪ যুগ্ম আহবায়কসহ ১৫ জন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এরপরই কমিটি ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মধ্যে ২৬ জন নেতাকে নিয়ে কমিটি টিকিয়ে রাখার জন্য দিশেহারা হয়ে উঠেন আহবায়ক এবং সদস্য সচিব। কারণ তাদের বিশাল কর্মী বাহিনী না থাকায় এই ২৬জন নেতার উপর ভর করে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি এবং শক্তিশালী বিএনপি জাহির করতে বিভিন্ন সভা সমাবেশ সফল করে দেখিয়েছেন।
তবে তাদের নেতৃত্বের প্রতি তেক্ত বিরক্ত হয়ে ধীরে ধীরে ২৬ জন নেতা থেকে মহানগর বিএনপির কমিটির নেতাদের অ্যাক্টেভেটিস ১২-১৫ জনে এসে দাড়িয়েছে। কারণ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটির নেতারা তাদের নেতৃত্বের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে থাকতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
যার কারণে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম এইচ মামুন তাদের নেতৃত্বের গন্ডি থেকে বের হয়ে মহানগরের একাংশের নেতাদের সাথে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে সকলের সাথে মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজনীতি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি মহানগর বিএনপির পদত্যাগকারীদের সাথে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বলেন, সেন্ট্রাল থেকে মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শোনা গিয়েছিল কমিটি থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন কিন্তু এই ৬ মাসে ও তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি সেন্ট্রাল।
তাই মহানগর বিএনপিকে দুইভাগ বলা যাবে না সকলেই আমরা একই মহানগর বিএনপির কমিটির অন্তর্ভুক্ত। আর আমি চাই একাংশের নেতা হয়ে থাকতে চাই না। আমরা সকলেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্তভুক্ত তাই কাউরে বাদ দিয়ে অন্য কাউর সাথে চলা যায় না।
আর বর্তমানে দলের দূর সময় তাই আমি চাই সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকুক। আর তাতে যদি আমার পদ ও চলে যায় তাতে ও আমাদের কোন আপত্তি নেই আমি শুধু চাই দল আরো শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠুক। আর একাংশ বা কারো জিম্মি হয়ে থাকার চেয়ে সাধারন সদস্য হয়ে থাকা অনেকটাই ভালো।
যারা দলে বিরোধ সৃষ্টি করে তাদের সাথে পদ চলা অনেকটাই কঠিন। তবে সে সকলের সাথে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও মহানগর বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিবের মহানগর বিএনপির কমিটির নেতাদের জিম্মি করে নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়টি উল্লেখিত করেন। এছাড়াও মহানগর বিএনপিতে বিরোধ সৃষ্টি করে মহানগর বিএনপির রাজনীতি করা অনেকটা দুষ্কর করে তুলেছেন। এন.হুসেইন/জেসি


