Logo
Logo
×

রাজনীতি

শান্তি সমাবেশে অশান্তির পরিবেশ

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৩৫ পিএম

শান্তি সমাবেশে অশান্তির পরিবেশ
Swapno

 
# যুবলীগের কর্মসূচি ছিল না: আবদুল হাই

# কেন্দ্র ঘোষিত যুবলীগের কর্মসূচি ছিল : সাজনু

# একই স্থানে আ.লীগের দুই গ্রুপের সমাবেশ


নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠ দিনের পর দিন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। সেই সাথে রাজপথ দখল নেয়ার জন্য দুই দল মাঠে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানোর জন্য গত বছর থেকে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবী জানিয়ে বিক্ষোভ সভার পর এবার জেলা মহানগরে পদযাত্রা কর্মসূচি করছে। গতকাল কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি পদযাত্রা করে।

 

 

অপরদিকে তাদের বিপরীতে বিএনপি যেন শহরের রাজপথ দখল করতে না পারে তার জন্য আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ জেলা মহানগরে ৩ দিনের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে শান্তি সমাবেশ করার ঘোষণা দেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে গতকাল দুই দলই মাঠে নামলেও তাদের মাঝে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নাই।

 

 

তবে ভিন্ন ধরণের ঘটনা ঘটেছে জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা-মহানগর যুবলীগের মাঝে। সেই ভিন্ন ধরনের ঘটনাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শান্তি সমাবেশকে অশান্তি পরিবেশ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

 



এদিকে দলীয় সূত্রমতে জানা যায়, গতকাল নারায়ণগঞ্জ শহরের রাজপথ ছিল আওয়ামী লীগ বিএনপির মিছিলে ভরপুর। একদিকে খানপুর থেকে জেলা বিএনপি পদযাত্রা বের করে বিশাল মিছিল করে শহরের খানপুর থেকে।

 

 

অপরদিকে নগরীর ২ নম্বর রেলগেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের প্রবেশমুখে জেলা আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করেন। এখানে ক্ষমতাসীন দলের শান্তি সমাবেশে নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই।  একই সাথে তার দুই কদম দূরে জেলা মহানগর যুবলীগ শান্তি সমাবেশ করেন।

 

 

কিন্তু এখানে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু ভূঁইয়া। কিন্তু একই জায়গায় দুই কদম দূরে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগের শান্তি সমাবেশ অশান্তিতে রূপ নিয়েছে বলে জানান খোদ ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

 

 

তারা একের অপরকে বাধা সৃষ্টি করে বিগ্ন ঘটান। যা শান্তি সমাবেশ অশান্তি পরিবেশে তৈরী হয়। কেনা দুই গ্রুপই পাল্টা পাল্টি তাদের নিজেদের লোকজন নিয়ে দুই পক্ষ মাইকে বক্তব্য দিতে থাকেন।

 

 

আর এতে করে কে কার বক্তব্য শুনবে তা নিয়ে ঘোলাটে পরিবেশ তৈরী হয়। একই সাথে শান্তি সমাবেশ যেন অশান্তির পরিবেশে রূপ নেয়। সেই সাথে পরিস্থিতির এক হ-য-ব-র-ল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাই তাদের এই সমাবেশকে অশান্তি সমাবেশ বলছে রাজনৈতিক বোদ্ধামহল।

 



খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কেন্দ্রীয় যুবলীগ ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। গতাকল ছিল জেলা মহানগর যুবলীগের শান্তি সমাবেশ। গতকাল রোববার সারাদেশের প্রতিটি থানা উপজেলা যুবলীগ শান্তি সমাবেশ করবে।

 

 

তার পরের দিনে প্রতিটি ইউনিয়নে যুবলীগ শান্তি সমাবেশ করবে। তারই অংশ হিসেবে গতকাল ছিল জেলা মহানগর যুবলীগের শান্তি সমাবেশ। তাই কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা মহানগর যুবলীগের শান্তি সমাবেশ পালন করতে গিয়ে দেখতে পান আগে থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ২ নম্বর রেল গেইট আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে শান্তি সমাবেশ করছেন।

 

 

কিন্তু তারা যে এখানে আগে থেকে শান্তি সামবেশ করছেন তা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ জানতেন না বলে জানান। আর জানার কথাও না। কেননা শান্তি সমাবেশের কর্মসূচি ছিল জেলা মহানগর যুবলীগের। কিন্তু একই সাথে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ এই স্থানে পাল্টাপাল্টি শান্তি সমাবেশ করায় পরিবেশ বিঘ্ন ঘটে। সেই সাথে সেখানে অশান্তি পরিবেশ তৈরী হয়।

 

 

আর এনিয়ে খোদ দলীয় নেতা কর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের রাজনীতি অঙ্গনে আলোচনা সমালোচনা তৈরীয় হয়েছে। কেননা একই সমাবেশে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল বক্তব্য রাখেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও আছেন। অপরদিকে তার পিছনে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই।

 

 

তারা দুজনেই দুই মাইকের মাউথে বক্তব্য রাখেন। আর তখন  নেতাকর্মীরা কার বক্তব্য শুনবো তা নিয়ে  ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরী হয়। এই পরিস্থির জন্য তৃণমূল নেতৃবৃন্দ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইকে দোষারোপ করছেন।

 

 

কেননা গতকাল তাদের কোন কর্মসূচি ছিল না। সেই সাথে বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা  বলছে তারা বিএনপির পদযাত্রাকে অশান্তি করতে এসে নিজেদের শান্তি সমাবেশ অশান্তি পরিবেশ তৈরী করে ফেলেছে। যা অপরাজনীতি হিসেবে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধামহল।

 



তবে এব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, কেন্দ্রীয় নিদেশনা মতে বিএনপি যখন পদযাত্রা করবে তখন আমরা যেন শান্তি সমাবেশ করি সেই নির্দেশনা দেন। কিন্তু যুবলীগের শান্তি সমাবেশের কোন কর্মসূচি ছিলনা। তারা কেন ওই সময় শান্তি সমাবেশ করতে আসলে যুবলীগের নেতৃবৃন্দকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

 



জেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল তার বক্তব্যে বলেন, জামাত বিএনপির নৈরাজ্যকে প্রতিহত করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। তাদের জালাও পোড়াও রাজনীতি দেশের মানুষ আর দেখতে চায় না। তারা দেশের শান্তি পরিবেশকে অশান্তি করতে চাইলে মেনে নেয়া হবে না।

 



এই সভায় ঝাঁজালো বক্তব্য রাখেন মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু। তিনি বলেন, যুবলীগ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলা মহানগরে শান্তি সমাবেশ করার নির্দেশনা দেন।

 

 

কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগ যে এখানে সমাবেশ করতাছে আমরা তা জানতাম না। কিন্তু আমি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ভাইকে তাদের সমাবেশ শেষ করার জন্য অনুরোধ করি।   এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন