Logo
Logo
×

রাজনীতি

টিপুর গালাগালিতে মহানগর ছাড়ছে নেতাকর্মীরা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোট

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:০২ পিএম

টিপুর গালাগালিতে মহানগর ছাড়ছে নেতাকর্মীরা
Swapno


# দালালি করে মামলা খাওয়া থেকে বেঁচে যায় টিপু : ভাষানী

# সামনাসামনি গালি দিয়েই ক্ষ্যান্ত হননা, স্ট্যাটাসে দেন অভিশাপ

 

মহানগর বিএনপিকে তিলে তিলে নানা বিতর্কের মুখে ঠেলে দিচ্ছে আবু আল ইউসুফ খান টিপু। বর্তমানে নেতাকর্মীরা এই টিপুকে মহানগর বিএনপি‘র বিষফোঁড়া বলে থাকে। এছাড়াও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের পর টিপু; মূল দায়িত্ব পেয়েই হঠাৎ বেপোরায়া হয়ে উঠে আর তার পুরনো রূপ আবারো জাগরিত হতে শুরু করে।

 

 

তিনি বিগত দিনে নেতাকর্মীদের সাথে যে খারাপ আচরন করেছে তারই পূর্নরূপ তিনি আবারো দেখানোর জন্য উঠে পরে লেগেছে। এখন নেতাকর্মীরা আর বোকা নয় তারা ও মহানগর বিএনপি ধ্বংসের কারিগর টিপুকে শিক্ষা দিতে একে একে কমিটি থেকে বের হয়ে তাদের ছন্নছাড়া করে দিচ্ছে।

 

 

সূত্রমতে আরো জানা গেছে, টিপু এখন ক্ষমতাসীন দলের ঘরের লোক হয়ে রয়েছে যার কারণে তার মামলা হামলার কোন ভয় নেই। তিনি যখনই যা ভালো লাগে; তাই করে থাকে।

 

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। আর এই কমিটিতে যাদের মূল স্থানে বসানো হয়েছে তারা দীর্ঘ কালের বিএনপি‘র ধ্বংসের কারিগর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। যার কারণে তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মীদের চোখের বিষ সদস্য সচিব টিপু।

 

 

সেই পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তুফানের গতিতে উইকেট পড়া শুরু করে দেয় যা হিসেবে দাঁড়ায় ১৫ জনে। যার কারণে মহানগর বিএনপির মূল কমিটিতে রয়ে যায় ২৬ জন নেতা। আর তারা এদেরকে নিয়েই সামনের দিকে যাওয়ার জন্য দিশেহারা হয়ে যায়।

 

 

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় আস্তে আস্তে বিদ্রোহীদের সাথে পাল্টাপাল্টিভাবে সাখাওয়াত যে জয়টা অর্জন  করা শুরু করে। কিন্তু এরই মধ্যে সাখাওয়াতের এই জয়ে বাধা হয়ে সামনে দাঁড়ায় টিপু। সে সাখাওয়াতের অর্জনের দিকে না তাকিয়ে নেতাকর্মীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা শুরু করে।

 

 

তার খারাপ আচরনের কারণে মহানগর বিএনপি আস্তে আস্তে নেতা শূন্য হওয়া শুরু করে। এছাড়া ও জানা গেছে, টিপুর অত্যাচারে নীপিরীতে মূল কমিটিতে থাকা ২৬ জনের মধ্যে অর্ধেক নেতাকর্মীই তাদের নেতৃত্বে অংশ গ্রহন করে না। অপর দিকে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন দীর্ঘদিনের পরীক্ষিতে এক রাজনীতিবীদ তার নিজস্ব অনেক নেতাকর্মী রয়েছে।

 

 

কিন্তু টিপুর আচরণ ও লোভনীয় কর্মকান্ডে তিনি ও কমিটি থেকে বেড় হয়ে বিদ্রোহী কমিটির মুকুল ও সেন্টুর নেতৃত্বে রাজনীতিতে চলে যান। জানা গেছে, টিপুর কর্মকান্ড নিয়ে যখন টিপুকে সাখাওয়াতের নানান প্রশ্নে ফেলে দেয় তখন টিপু আহ্বায়ক সাখাওয়াতকে স্বান্তনা দিয়ে বলে কোন সমস্যা নাই।

 

 

আমি যদি কমিটিতে একলা ও থাকি তাহলেও যেভাবেই হোক না কেন ম্যানেজ করেও বর্তমান মহানগর বিএনপির কমিটিই থাকবে। এছাড়া ও টিপুর বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অপকর্মের পাহাড় অনেকেই বলেছে তিনি নেতা চেঞ্জ করার কারিগর তিনি তার বয়সের থেকেও বেশি বলয় বা নেতা চেঞ্জ করেছেন।

 

 

আরো জানা যায়, এর আগে যখন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপু। বিভিন্ন সময়তেই দলের বিরুদ্ধে অবস্থান এমনকি দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার মাধ্যমে মিডিয়ায় আলোচিত হয়ে উঠেন।

 

 

২০১১ সালে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা নাজমুল হুদার বিএনএফে যোগদানের পর পরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপু। পরে নিষ্কিয় বিএনএফ থেকে মহানগর পৌর বিএনপির বিদ্রোহী সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম সর্দারের কাধে বর করে পূনরায় বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন টিপু।

 

 

ঐ সময়ে তখনকার মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন টিপু। বিভিন্ন সভা সমাবেশে আবুল কালামকে নিয়ে বিরোধপূর্ণ বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে লাইম লাইটে চলে আসেন। এরপর থেকে মিডিয়ায় আলোচনায় আসার জন্য তথ্য প্রমানদি ছাড়াই দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য প্রদানের ফলে দলের জন্য বিষফোড়াঁয় পরিণত হয় পাকনা টিপু; এমনটাই দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ ছিল।

 

 

তখন নিয়িমিতই তিনি গোপনে গোপনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদের সাথেও যোগাযোগও করতেন। এছাড়াও বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে বর্তমানে রয়েছে ডজন খানেক মামলা কিন্তু এখন পর্যন্ত এই টিপু ৩টি মামলার আসামী হযেছেন।

 

 

আর নানা গোপনীয় কারণে সব সময় মামলা হামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা থেকে বেচেঁ যাচ্ছে টিপুর এমনও দাবি রয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। বিগত দিনের কর্মকাণ্ডকে লক্ষ্যে করে আবারো মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে টিপু। টিপু বর্তমানে মহানগর বিএনপির ধ্বংসের কারিগরে পরিণত হয়েছে।

 

 

আর তিনি এখন নজরুল ইসলাম আজাদের আঙ্গুলের ইশারায় চলছে। আর তার একমাত্র কনিষ্ট কর্মী হিসেবে মহানগর বিএনপি পরিচালিত করছে। এছাড়াও অনেকের দাবি বিদিশা ফাউন্ডেশনের সাথে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

 

 

যার কারণে নেতাকর্মীরা দাবি জানিয়েছে টিপু অতি শীঘ্রই মহানগর বিএনপিকে আলোড়নের মাধ্যমে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবে। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কর্মসূচিতে আসলে আগে পরে গালাগালিতে ক্ষ্যান্ত হননা টিপু, বাসায় ফিরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে অভিশাপ দিতে থাকেন টিপু। তা দেখে কর্মীরা আরো বেশি হতাশা প্রকাশ করেন।

 


 
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা ভাষানী যুগের চিন্তাকে বলেন, টিপু সাহেব নিয়মিত নেতা চেঞ্জ করে যার কারণে তাদের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীরা তার সাথে থাকতে চায় না। আর টিপুর নেতৃত্বে যারা যাবে তারা টিপুর আদর্শে আদর্শিত হবে। সাখাওয়াত খান তৈমূর আলম খন্দকারের পালিত একজন কর্মী।

 

 

তার পরে তিনি ও নানা নেতা চেঞ্জ করেছেন তাহলে উনাদের কমিটি কি হতে পারে আর তাদের নেতৃত্বে যারা যাবে তারাতো লম্পজম্ফ করবোই। আর টিপু আপনারা জানেন কিনা জানি না তিনি বিদিশা ফাউন্ডেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক। আবার টিপু নাজমুল হুদার বিএনএফ এর জেলা কমিটির আহ্বায়ক ছিল। এর পূর্বে ছিল আবার ফ্রিডম পার্টির সদস্য সচিব তার কোন চরিত্রই নেই।  

 

 

আর উনি দেওয়ানবাগী ও করে আর দেওয়ানবাগী কিন্তু শেখ হাসিনাকে সমর্থন করে আর তার পরে ও উনি সেটাকেই নিয়ে এখনো বসে আছে। বলা যায় টিপু হলো আওয়ামী লীগের লোক তাই এই টিপুর বিরুদ্ধে কোন মামলা হয় না।

 

 

তাই বলা চলে আওয়ামী লীগের এক সহযোগী কমিটি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটিকে। আর যদি বিএনপিকে আরো শক্তিশালী করতে হয় তাহলে মহানগর বিএনপি থেকে এই কাঙ্খীত নেতাদের তাড়িয়ে ফেলতে হবে।

 



বন্দর বিএনপি নেতা হাজী নূর উদ্দিন যুগের চিন্তাকে বলেন, মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি এখন দিশেহারা হয়ে উঠেছে। তার কারণ হলো মহানগর বিএনপির মূল নেতারা সকল নেতাকর্মীদের সাথে খারাপ আচরণ করছে। 

 

 

তাই তাদের কেউ এখন আর পছন্দ করে না। এছাড়া ও তারা এখন আবার ক্ষমতাসীন দলের সাথে দালালী করে চলে। যার কারণে তারা আস্তে আস্তে নিস্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন