# জুয়েলের লোক বসাতে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ড, সদর থানায় করছে: সিরাজ
# পজিটিভের চেয়ে, নেগেটিভ নিউজ বেশি দেখে : জুয়েল
গত বছর থেকে নারায়ণগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবকলীগকে ঢেলে সাজানোর জন্য কাজ করছে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক নেতৃবৃন্দ। কেননা গত বছরের শুরুতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের কয়েকটি সহযোগি সংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে গত বছরে নাসিক নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ না করায় তখন কমিটি গুলো বিলুপ্ত করা হয়। ক্ষমতাসীন দলের সহযোগি সংগঠনের মাঝে গত বছরের ১৬ জানুয়ারি জেলা মহানর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ১৪ মাস পার হয়ে গেলেও এখনো স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হয় নাই।
কিন্তু এখানাকার স্বেচ্ছাসেবক লীগকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করার জন্য সম্মেলন শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয়েছে।
এদিকে ২৪ ফেব্রুয়ারি নারাণগঞ্জ সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন করলেও এখানে কমিটি ঘোষণা করা হয় নাই। এখানে সভাপতি পদে শফিউল বাসার বাবু একা প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে অন্য কেউ যেন প্রার্থী না হতে পারে, তাই সকলকে জিম্মি করে তিনি একা প্রার্থী হয়েছেন।
অপরদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১০,১১,১২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই সম্মেলন শেষে এখানে তুলকালাম ঘটনা ঘটে যায়। যা নিয়ে রীতিমত খোদ দলীয় নেতা কর্মীরা হতবাক হন।
আর তা হলো; সম্মেলনের আলোচনা চলাকালিন সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজ এসে বলেন, আজকে যে ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন এটা আমাদের জানা ছিল না। তার মাঝে সদর থানার মাঝে ১০ নম্বর ওয়ার্ড পরে না, তখন নেতৃবন্দ তাকে শান্ত করেন।
এদিকে সম্মেলন হলেও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কোন কমিটি ঘোষণা না করে জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে পরে কমিটি ঘোষণা করা হবে।
কিন্তু সম্মেলন শেষ হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন স্টেজ থেকে নেমে সিরাজের ঘাড় ধরে বলেন, তোর কাছে আমার রাজনীতি শিখতে হইবো। এসময় উভয়পক্ষের মাঝে হট্টগোল তৈরী হয়। সিরাজের গায়ে হাত তোলেন বলে অভিযোগ উঠে। পরে মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু পরিস্থিতি শান্ত করেন।
সম্মেলন অনুষ্ঠানে কভারেজর করতে যাওয়া সকল সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন বলেন, “আজকের সম্মেলনে অনাকাঙ্খিত ভাবে একটি ঘটনা ঘটে গেছে; এটার জন্য আমি দুঃখিত।”
তিনি আরো বলেন, “সকলে এই নিউজটা না করলে আমার জন্য ভালো হয়। আমার নামে কেউ কোন অভিযোগ দিতে পারবে না। আপনারা আমাদের নারায়ণগঞ্জের ভাবমূর্তি নষ্ট কইরেন না। আমাদের পজিটিভ নিউজের চেয়ে নেগিটিভ নিউজ মানুষ বেশি দেখে। সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক।”
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সিরাজ বলেন, আমাদের ১০ নম্বর ওয়ার্ডটি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পরছে। গতকাল যে ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হচ্ছে এটা আমাদের এলাকার কেউ জানতো।
এছাড়া ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের যার প্রার্থী হিসেবে সিবি জমা দিয়েছেন তারা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নেতৃত্বাধীন দায়িত্বরত নেতার কাছে জমা দিছেন। কিন্তু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন তার কিছু নিজস্ব ব্যক্তিকে বসানোর জন্য তিনি সদর থানায় নিয়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন করান।
আর তখন আমি আমাদের এলাকার আক্তারের পক্ষে বলে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ জানে না আজকে যে সম্মেলন হচ্ছে। এই কারণে ক্ষুব্দ হয়ে জুয়েল ভাই সম্মেলন শেষে আমার ঘাড় ধরে বলে তোর কাছে আমার রাজনীতি শিখতে হবে।
এই সময় তিনি তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাকে কয়েকটি থাপ্পর মারেন। তার এই ঘটনার জন্য আমি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি সুব্রত পুরকায়স্থ, সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম ভাইসহ সিনির নেতৃবৃন্দের নিকট অভিযোগ দিয়েছি।


