Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিতর্ক পিছু ছাড়ছেনা স্বেচ্ছাসেবকলীগের

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৫৮ পিএম

বিতর্ক পিছু ছাড়ছেনা স্বেচ্ছাসেবকলীগের
Swapno

 

# ছাত্রদল-ছাত্রলীগ যখন যে দল ডাকে সেই দলেই যাই : সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী


নারায়ণগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগকে ঢেলে সাজানোর জন্য কাজ করছেন কেন্দ্রীয় একঝাঁক নেতৃবৃন্দ। তারা এখানকার স্বেচ্ছাসেবকলীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য জেলার ৫টি উপজেলা সদস্য সংগ্রহের পর এবার মহানগর উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের কার্যক্রম করে যাচ্ছে।

 

 

তার মাঝে বন্দর উপজেলাসহ এখানকার ৫টি ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি সম্মেলনের এক মাস পর ঘোষণা করা হয়। এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ১০ টি ওয়ার্ডে এখনো কোন সম্মেলন শুরু হয় নাই।

 

 

আর না হওয়ার পিছনে এই থানার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাজু বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সদর থানাসহ এখানকার ৮টি ওয়ার্ডের সম্মেলন ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুব্রত পুরকায়স্থ নেতৃত্বে। 

 

 

দলীয় সূত্র মতে জানা যায়, ২৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে এখানে সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন ব্যক্তিেেদর এনে নেতা বানানোর চেষ্টা চলছে। যাদের আগে ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের সাথে দেখতে পান নাই খোদ দলীয় নেতারা।

 

 

অপরিদেক ২৫ ফেব্রুয়ারি নগরীর খানপুর পোলস্টার ক্লাব মাঠে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১০, ১১, ১২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল রোববার বিকেলে তোলারাম কলেজ মাঠে নাসিক ১৩, ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ড কমিটির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই দুই সম্মেলনে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে যায়।

 

 

যা নিয়ে রীতিমত খোদ দলীয় নেতা কর্মীরা হতবাক হন। আর তাহ হলো সম্মেলনের আলোচনা চলাকালীন সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজ এসে বলেন, ওই দিন যে ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন এটা আমাদের জানা ছিল না। তাছাড়া সদর থানার মাঝে ১০ নম্বর ওয়ার্ড পরে না।

 

 

এছাড়া প্রশ্ন তোলেন সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ডের সম্মেলন কেন সদর থানা এলাকায় হবে। তাছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি শাহানারা বেগম। ওই থানার ওয়ার্ডে যারা সভাপতি হবে তাদের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নেতৃবৃন্দের নিকট জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

 

কিন্তু ওইখানকার ওয়ার্ডের সম্মেলন যে সদর থানা এলাকায় হবে তা কেউ জানত না বলে অভিযোগ উঠে। তখন নেতৃবন্দ তাকে শান্ত করেন। এদিকে সম্মেলন হলেও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কোন কমিটি ঘোষণা না করে জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যাঁচাই-বাঁছাই করে পরে কমিটি ঘোষণা করা হবে।  

 

 

সূত্র জানায়, গতকাল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩, ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই সম্মেলনেও আরেক লঙ্কাকাণ্ড ঘটে যায়। এখানে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সবুজ চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের এলাকায় কিংবা মহল্লায় যারা আছে সবাই আওয়ামী লীগ করে। তাই আমিও আওয়ামী লীগ করি।

 

 

এসময় তাকে জাতীয় পরিষদের সদস্য টিপু সুলতান জিজ্ঞেস করে তিনি এর আগে ছাত্রলীগ করেছে কি না? তখন সবুজ চন্দ্র বলেন, ছাত্রলীগ-ছাত্রদল যখন যে দল ডাকে সেই দলেই যাই। তার এই বক্তব্য নিয়ে পুরো সমাবেশ হাসিতে পরিণত হয়। এছাড়া রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তোলেন তাদের কে কেন ধরে এনে প্রার্থী করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকলীগ করার মত কী নেতা কর্মীর অভাব পড়েছে।

 

 

কেননা এই ধরনের ব্যক্তিরা নেতা হলে তা দলের জন্য ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। আর এ কারণে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিতর্ক তৈরী হচ্ছে। তাই রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করেন একের পর এক লঙ্কাকান্ডে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে বিতর্ক তৈরী হচ্ছে। 

 

 

অপরদিকে সম্মেলন শেষ হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন স্টেজ থেকে নেমে সিরাজের ঘাড় ধরে বলেন, তোর কাছে আমার রাজনীতি শিখতে হইবো। এসময় উভয়পক্ষের মাঝে হট্রোগল তৈরী হয়। সিরাজের গায়ে হাত তোলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু পরিস্থিতি শান্ত করেন। 

 

 

ওই সম্মেলন অনুষ্ঠানে সংবাদ কভারেজের করতে যাওয়া সকল সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন অনুরোধ করে বলেন, এই সম্মেলনে অনাকাঙ্খিত ভাবে একটি ঘটনা ঘটে গেছে। এটার জন্য আমি দুঃখিত। সকলে এই নিউজটা না করলে আমার জন্য ভালো হয়।

 

 

আমার নামে কেউ কোন অভিযোগ দিতে পারবে না। আপনারা আমাদের নারায়ণগঞ্জের ভাবমূর্তি নষ্ট কইরেন না। আমাদের পজিটিভ নিউজের চেয়ে নেগিটিভ নিউজ মানুষ বেশি দেখে। সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। 

 

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সিরাজ অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ১০ নম্বর ওয়ার্ডটি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পরছে। গতকাল যে ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হচ্ছে এটা আমাদের এলাকার কেউ জানতোনা।

 

 

এছাড়া ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের যার প্রার্থী হিসেবে সিভি জমা দিয়েছেন তারা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নেতৃত্বাধীন দায়িত্বরত নেতার কাছে জমা দিছেন। কিন্তু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন তার কিছু নিজস্ব ব্যক্তিকে বসানোর জন্য তিনি সদর থানায় নিয়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন করান।

 

 

আর তখন আমি আমাদের এলাকার আক্তারের পক্ষে বলে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ জানে না আজকে যে সম্মেলন হচ্ছে। এই কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে জুয়েল ভাই সম্মেলন শেষে আমার ঘাড় ধরে বলে তোর কাছে আমার রাজনীতি শিখতে হবে।

 

 

এই সময় তিনি তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাকে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। তার এই ঘটনার জন্য আমি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি সুব্রত পুরকায়স্থ, সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম ভাইসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নিকট অভিযোগ দিয়েছি।  

 

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সবুজ চন্দ্র দাস বলেন, আমাকে যখন ছাত্র দল ছাত্রলীগ যে দলে ডাক দেয় তখন সেই দলে যাই। এর আগে তিনি কেন আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রার্থী হয়েছেন এবং দলের জন্য কি করতে চান তা জানতে চেয়ে তাকে বক্তব্য রাখার জন্য বলা হয়। তখন তিনি এই কথা বলেন। 

 

 

এই সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন জাতীয় পরিষদের সদস্য টিপু সুলতান। সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি উর্মী ঢালী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি সুব্রত পুরকায়স্থ।  এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন