স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে কী পেল কর্মীরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৩, ১২:৪৪ পিএম
# নেতাদের পকেট ভারির অভিযোগ
# ক্ষুব্ধ পদ প্রত্যাশীরা
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগকে ঢেলে সাজানোর জন্য গত বছরের সেপ্টের মাস থেকে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক নেতৃবৃন্দ করে যাচ্ছে। একই সাথে গত বছরের সময় গুলোতে নারায়ণগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন থানা ওয়ার্ড পর্যায়ে সদস্য সংগ্রহ করা হয়।
পরবর্তীতে জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগকে শক্তিশালী করার জন্য সাংগঠনিকভাবে সম্মেলন করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর থানাসহ সদরের ৮টি ওয়ার্ডে। কিন্তু এই সম্মেলন নিয়ে আলোচনা সমালোচনা সহ বিতর্কেও শেষ নেই। নানা বিতর্কের মাঝেও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতৃবৃন্দ টানা চারদিনব্যাপি সম্মেলন শেষ করেছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে এই সম্মেলনে এমন কিছু ব্যক্তি প্রার্থী হয়েছে যাদের অনেককে আওয়ামী লীগের আন্দোলন সংগ্রামে দেখা যায় নাই। আবার অনেকে উইরা এসে জুইরা বসে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বনে যাচ্ছেন।
কিন্তু তাদের যাতা কলে অনেক ত্যাগী নেতা পিছনের সারিতে পরে যাচ্ছে। এছাড়া এই সম্মেলনে নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার জন্য অনেক টাকার বান্ডেল নিয়ে নামছেন। যাদের অনেকে স্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সদর থানার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায় ক্রমে বাকি ৩ দিনে সদর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১ দিনে ৩টি ওয়ার্ডের সম্মেলন হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি শহরের ১০, ১১, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলন খানপুর পোলস্টার ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই সম্মেলন শেষে এক তুলকালাম কান্ড ঘটে যায়।
যা নিয়ে রীতিমত বিতর্ক তৈরী হয়। সেই সাথে ব্যপক সমালোচনা তৈরী হয়। রোববার বিকেলে তোলারাম কলেজ মাঠে নাসিক ১৩, ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ড কমিটির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই দুই সম্মেলনে লঙ্কা কাণ্ড ঘটে যায়। যা নিয়ে রীতিমত খোদ দলীয় নেতা কর্মীরা হতবাক হন।
আর তাহলো সম্মেলনের আলোচনা সভা চলাকালিক সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজ এসে বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারির দিন যে ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন এটা আমাদের জানা ছিল না। তাছাড়া সদর থানার মাঝে ১০ নম্বর ওয়ার্ড পরে না।
তাই তিনি প্রশ্ন তোলেন সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ডের সম্মেলন কেন সদর থানা এলাকায় হবে। তাছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি শাহানারা বেগম। ওই থানার ওয়ার্ডে যারা সভাপতি হবে তাদের সিবি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নেতৃবৃন্দের নিকট জমা দিতে বলা হয়েছে।
কিন্তু ওই খানকার ওয়ার্ডের সম্মেলন যে সদর থানা এলাকায় হবে তা কেউ জানত না বলে অভিযোগ উঠে। আলোচনা সভার মাজ খানে এসে এই কথা বলায় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন সিরাজের ঘাড় ধরে বলেন তোর কাছে আমার রাজনীতি শিখতে হইবো। এসময় তিনি নানা গালি গালাজ করে বলে অভিযোগ ছাত্রলীগে নেতা সিরাজের।
অরপদিকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়ে তার অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে সবুজ চন্দ্র দাস বলেন, আমার এলাকায় সকলে আওয়ামী লীগ করে তাই আমিও আওয়ামী লীগ করতে আসি। ছাত্রদল ছাত্রলীগ যখন যে দল ডাকে তখন সেই দলেই যাই। তার আগে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি ছাত্রলীগ করেছেন কী না। তখন তার প্রতুত্তরে এই কথা বলেন।
এই ভাবে একের পর এক বিতর্ক কর্মকাণ্ড তৈরীর মাধ্যমে বিতর্ক জন্ম হয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন গুলোতে। যার দায় কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় স্চ্ছোসেবক লীগের নেতারা পর্যন্ত এড়াতে পারেন না।
এদিকে আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৪দিনে সম্মেলন নেতা কর্মীরা কী পেলেন। কেননা সম্মেলন হয় ওয়ার্ড থানা পর্যায়ে নেতা নির্বাচনের জন্য।
কিন্তু এখানকার সম্মেলন গুলোতে কোন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় যারা পদ পাওয়ার আশায় এতোদিন মাঠে কাজ করেছেন তারাও অনেকে হতাশ হয়ে গেছেন। স্বাভাবিক ভাবে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনের যে কোন সম্মেলনে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদে একজন করে প্রার্থী হলে তাহলে কাউন্সিলরদের ভোটের প্রয়োজন নেই।
কিন্তু এক্ষেত্রে একের অধিক প্রার্থী হলে তখন কাউন্সিলর ভোটে নেতা নির্বাচিত হয়। তবে সদর থানা বা মহানগর ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে বিভিন্ন ওয়ার্ডে একের অধিক প্রার্থী হলেও কাউন্সিলর ছিলনা। আর এতে করে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন নিয়ে বিতর্ক তৈরী হয়।
তাছাড়া যারা পদ প্রত্যাশী তারা এখন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ দৌঁড়ঝাঁপ করছেন। এছাড়া টাকার বান্ডিল নিয়ে ম্যানেজের চেষ্টা করছেন। কিন্তু সম্মেলনে পদ প্রত্যাশী কিছু না পাওয়ায় তারা হতাশ হয়ে রয়েছেন। তাই তারা কী পেলেন তা নিয়ে এখন সম্মেলন শেষে আলোচনা সমালোচনা চলছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি সুব্রত পুরকায়স্থ, উর্মি ঢালি, জাতীয় পরিষদের সদস্য টিপু সুলতান। এছাড়া তাদের সহযোগিতায় রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী জামির হোসেন রনি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কায়কোবাদ রুবেল সহ আরও অনেকে।
অপর দিকে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডে যারা প্রার্থী হবে তাদেরকে ওই ওয়ার্ডের ভোটার হতে হবে। কেননা নির্বাচনের সময় কাজ করতে হলে তখন তারা ওই এলাকার ভোটার হলে সহজ হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সেই বিষয়টাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সনের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের দিন জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। যা এখনো পর্যন্ত কোন কমিটি গঠন হয় নাই। তবে নাসিকের কিছু ওয়ার্ডে তারা সম্মেলন শুরু করেছে। এন.হুসেইন/জেসি


