আইভীর কর্মীদের মাইনাস ফর্মুলায় সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবকলীগ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৩, ০৫:০৭ পিএম
# আইভীকে নিয়ে মজিবরের কঠোর সমালোচনা
# সম্মেলন প্রস্তুতি সভায় শামীম অনুসারীদের আধিপত্য
# আইভী-শামীম সমন্বয়ে কমিটি চান পদ প্রত্যাশীরা
দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষমতাসীন দল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কয়েকটি সহযোগি সংগঠন নেতৃত্ব বিহীন হয়ে আছে। তার মাঝে ২০২২ সনের ১৬ জানুয়ারি জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সাথে ওই দিন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
তখন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একঝাঁক উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাহা উদ্দিন নাসিম এখানকার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অবস্থান করেন। দলীয় নেতৃবৃন্দ জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাহাউদ্দিন নাসিমের নির্দেশের নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী পক্ষে কাজ না করায় এই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই কারণে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিও বিলুপ্ত হয়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিন্তু এর মাঝে একাধিকবার ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। আর না হওয়ার পিছনে কারণ হিসেবে মনে করছেন দলীয় কোন্দল। তবে সব কিছু কাটিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগকে ঢেলে সাজাতে চান কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এদিকে দলীয় সূত্রমতে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগকে ঢেলে সাজনোর জন্য কেন্দ্রীয় কয়েকটি টিমে একঝাক নেতৃবৃন্দ কাজ করছেন। তারই অংশ হিসেবে গত বছরের শেষের দিকে জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সংগ্রহ করা শুরু হয়।
সেই সাথে জেলার কয়েকটি উপজেলায় সম্মেলন করার দের মাস পরে কমিটি ঘোষণা করা হয়। তার মাঝে বন্দর উপজেলায় ইতোমধ্যে কমিটি ঘোষনা হয়েছে। তবে সোনারগাঁ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের সম্মেলন হলেও কোন কমিটি ঘোষণা হয় নাই।
অপরদিকে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর থানা ও এই থানাধীন শহরের ৯টি ওয়ার্ডের সম্মেলন শেষ হয়। কিন্তু এই সম্মেলন নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা এখনো শেষ হয় নাই। তার মাঝে একানে সদর থানাধীন ওয়ার্ড গুলোতে এমন কিছু ব্যক্তিকে ধরে এনে নেতা বানানোর পায়তারা চলছে যারা এর আগে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ করেছে এমন কোন রেকর্ড নেই।
আবার কয়েকজন প্রার্থীকে বিতর্ক রয়েছে। তার মাঝে নাসিক ১৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সবুজ চন্দ্র দাসের বক্তব্য নিয়ে শহর জুড়ে ব্যপক সমালোচনা চলে। আর তা হলে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমাকে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ যখন যে দল ডাকে তখন সেই দলেই আমি যাই। অথচ তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী।
তার এই ঘটনার আগের দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি খানপুর পোল স্টার ক্লাব মাঠে ১০, ১১, ১২ নম্বর ওয়ার্ড সম্মেলনে আরেক তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যায়। আর তা হলো ওই দিন যে ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন তা ওই খানকার নেতৃবৃন্দ জানতেন না। ওই সম্মেলনে ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজ বলেন, ১০ নম্বর ওয়ার্ড হলো সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকাধীন।
কিন্তু এই ওয়ার্ডের যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা সিদ্ধিরগঞ্জের দায়িত্বরত নেতৃবৃন্দের নিকট সিভি জমা দেন। কিন্তু ওই খানকার ওয়ার্ডের সম্মেলন যে সদর থানায় এলাকায় হবে তা কেউ জানে না। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন তার নিজের লোককে বসানোর জন্য ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলনকে সদর থানায় করান।
কিন্ত সম্মেলন শেষে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চলে যাওয়ার পর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জুয়েল হোসেন সিরাজের ঘাড়ে ধরে বলেন তোর কাছে আমার রাজনীতি করতে হবে। তখন তিনি সিরাজকে মারধর করেন।
এদিকে গতকাল কিং প্যালেস রেস্টুরেন্টে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রস্তুতি সভায় নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলয়ের কাউকে রাখা হয় নাই। কেননা নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মেয়র আইভী এবং এমপি শামীম ওসমানের প্রভাব বিস্তার রয়েছে।
একই সাথে বিভিন্ন কমিটিতেও তাদের অনুগত ব্যক্তিরা থাকেন। এই দিক দিয়ে অভিযোগ উঠেছে সিদ্ধিরগঞ্জে মেয়র আইভী বলয়কে মাইনাস করার জন্য এখানে শামীম ওসমান অনুসারীদের নিয়ে এখানকার সম্মেলন প্রস্তুতি সভা করা হয়।
সেই সাথে তাদের কাউকে না রেখে একটি বলয়ের লোকজন নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান ৩দিন ব্যপি ৯টি ওয়ার্ডের সম্মেলন ঘোষণা করেন।
আইভী বলয়ের অনুসারী হিসেবে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রার্থীরা গতকালকের প্রস্তুতি সভার বিষয়ে তেমন একটা জানেনও না। আর এনিয়ে তাদের মাঝে ক্ষোভ তৈরী হয়ে আছে। তবে একক আধিপত্যে কোন কমিটি মেনে নিবে না কেউ।
প্রস্তুতি সভায় নাসিক মেয়র আইভীর সমালোচনা করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, মেয়র আইভী যখন নৌকা নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে প্রচারণা চালাতে আসেন তখন তার সাথে থেকে আমার ঘাম ঝরে গেছে। কিন্তু তিনি জয়ী হওয়ার পর আমাকে তেমন মনে রাখেন নাই।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি আশা করেছিলাম তিনি আমাকে ভোট দিবেন। কিন্তু তা না করে উল্টো সিদ্ধিরগঞ্জের ৬টি ভোট মেয়র তার সাথে করে কাউন্সিলর নিয়ে গিয়ে আমার বিপক্ষ প্রার্থী জাহাঙ্গীরকে প্রদান করায়। তার এমন কাণ্ডে আমি অনেক দুঃখ পাই। অথচ সিদ্ধিরগঞ্জে সিটি করপোরেশন করার জন্য আমি সবার আগে প্রস্তাব রাখি। এখন এক একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তারা মজা মারেন।
এই সভায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি এড. শাহানারা ইয়াসমিন বলেন, সম্মেলন হবে স্বচ্ছ-সুশৃঙ্খলভাবে। কেউ যদি মনে করে প্রভাব বিস্তার বা টাকা দিয়ে পদে এসে পড়বে তাহলে সে ভুল চিন্তায় আছেন। আমি যদি জানতে পারি, কোন পদ প্রত্যাশী স্থানীয় কাউকে টাকা দিয়ে প্রার্থী হয়ে নেতা হতে এসেছেন তার বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এছাড়া আমরা বিতকির্ত কাউকে পদে নিতে চাই না। যারা দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করবেন তারা তাদেরকেই আমরা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে নিতে চাই। এছাড়া আমরা আইভী আপা এবং সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে আলোচনা করেই সম্মেলন করতে যাচ্ছি। এন.হুসেইন/জেসি


