Logo
Logo
×

রাজনীতি

ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটির অপেক্ষায়

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৩, ০৭:৩৯ পিএম

ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটির অপেক্ষায়
Swapno

 

# স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ড সম্মেলন নিয়ে বিতর্ক
# দ্রুত কমিটি চান পদ প্রত্যাশীরা

 

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন শেষ হয়েছে ১৪ মাস। কিন্তু এক নাসিক নির্বাচনেই লণ্ড-ভণ্ড নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। নানান অভিযোগে নাসিক নির্বাচন চলাকালীন সময়ে একে একে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি। যা এখনো পর্যন্ত কমিটি বিহীন হয়ে আছে এখানকার ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের। কিন্তু সাংগঠনিক ভাবে ঘুরে দাড়ানোর জন্য বার বার চেষ্টা করেও তা হচ্ছে না। এছাড়া কমিটি না থাকায় ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন গুলো দূর্বল হয়ে আছে।  

 

আওয়ামী লীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে কাজ করতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা পর্যন্ত মাঠে নামেন। কিন্তু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোন নেতাদের সেসময় পাশে পাননি বলে দাবী স্থানীয় নেতাদের। এ বিষয়টি নিয়ে সে সময় একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের।

 

নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছিলেন, আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ অপরিহার্য নয়। যারা দলের সিদ্ধান্ত মানবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে নির্বাচন পরে এক সভায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আজম বলেন, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন পরিচালনা করতে গিয়ে আমরা নানান রকমের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। আমরা দলকে ঢেলে সাজানোর কথা ভাবছি।

 

এদিকে বিলুপ্ত হওয়া এই দুইটি সংগঠনের কমিটির নেতাদের বেশিরভাগই শামীম ওসমান বলয়ের বলে জানা যায়। মূলত শামীম ওসমান এবং ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরোধের কারনেই সেসময় ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে নামেননি বলে দাবী করেন আইভী বলয়ের একাধিক নেতা।

 

দলীয় সূত্রমতে জানাযায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জুয়েল হোসেন। একই সাথে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছিলেন দুলাল প্রধান। এখানে দুলাল প্রধান দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা একাধিক নেতৃবৃন্দ। অপর দিকে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন হাসনাত রহমান বিন্দু। তারা প্রত্যেকেই ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারি হিসেবে পরিচিত।

 

এদিকে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের ওয়ার্ড পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন শুরু করেছে গত মাসে। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৪ দিন ব্যাপি সদর থানাধীন শহরের ৯টি ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই সম্মেলনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে এমন কিছু ব্যক্তি প্রার্থী হয়েছে যাদের অনেকে ছাত্রলীগ কিংবা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে উঠে আসা নয়। আর তা তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে।

 

১৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ২৬ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনের দিন সবুজ চন্দ্র দাস বলেন, ছাত্র দল ছাত্রলীগ যখন যে দল ডাকে সেই দলেই যাই। তার এই বক্তব্য হাস্য হিসেবে পরিনত হয়। তাছাড়া আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠনের একজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কি করে এই ধরনের বক্তব্য দেয় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এছাড়া যে সকল নেতারা এদের ডেকে আনে তারাই বা কেমন নেতা।

 

অপরদিকে ২৫ ফেব্রুয়ারি খানপুর পোলস্টার ক্লাব মাঠে ১০, ১১, ১২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে এক তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যায়। আর তা হলো মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজের ঘার ধরে বলেন, তোর কাছে আমার রাজনীতি শিখতে হবে। যা একজন লিডারশিপ হিসেবে তার আচরণে পরে না। আর এই ঘটনা নিয়ে সিরাজ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত অভিযোগ প্রদান করেন।    

 

তার বিপরীতে সপ্তাহ খানিক আগে ফতুল্লার ওসমানি পৌর স্টোডিয়ামে বিশাল আকারে কর্মী সমাবেশ করে সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। যা নিয়ে শহরে রীতিমত ব্যপক আলোচনা হয়। এদিকে ইতোমধ্যে মহানগর ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে জায়গা করে নিতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দৌড়ঝাপ চালাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন শফিকুল ইসলাম শফিক, সাইফুদ্দিন প্রধান দুলাল, জুয়েল হোসেন, কায়কোবাদ রুবেল সহ আরও অনেকে। এছাড়া মহানগর ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটি আসতে পারে বলে মনে করেন দলীয় নেতৃবৃন্দ।  

 

দলীয় সূত্র জানায়, পূর্বের ন্যায় এবার আর কোন ব্যাক্তি বিশেষের ওপর ভর করে কমিটি দেবে না কেন্দ্র। সে কারণেই দলের নেতৃত্বে আসতে এবার নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন বলয়ের নেতাকর্মীরা স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় বিভিন্ন নেতাদের কাছে সুপারিশ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, আগামী নির্বাচনের আগে দলকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে অবশ্যই কমিটি প্রয়োজন। কিন্তু কমিটির নেতৃত্বে যারা দুর্দিনে তাগিদের মূল্যায়ন করতে হবে। এছাড়া নির্বাচনে দক্ষতার সাথে যারা দায়িত্ব পালন করবে তাদেরকেই নেতৃত্বে আনা উচিৎ। তাছাড়া আমি বিগত দিনে দক্ষতার সাথে ছাত্রলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগে দায়িত্ব পালন করেছি। আমাকে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্ব দিলে তা সঠিক ভাবে পালন করবে পারবো বলে আশাবাদি।  

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ বলেন, আমরা বিগত জাতীয় নির্বাচনে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সাংগঠনিকভাবে বিচক্ষণ ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। আগামীতে আমাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হলে আমরা আরও বিচক্ষনতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাবো। সব কিছু মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি অপেক্ষায় রয়েছেন।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন