# সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত
# সম্মেলনের আভাস, নতুন নেতৃত্ব চায় তৃণমূল
আগামী দ্বাদশ নির্বাচনকে ঘিরে গত বছর থেকে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে আছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএিনপির পাল্টা পাল্টি কর্মসূচিতে মাঠে নেমেছে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সেই সাথে একের অপরকে ইঙ্গিত করে গরম বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া দুই দলই সাংগঠনিকভাবে গুছিয়ে শক্তিশালী হচ্ছে।
একই সাথে নতুন কমিটিতে নবীন প্রবীণ ব্যক্তিদের কমিটির দায়িত্বে রেখে দলের কমীদের চাঙ্গা করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিএনপি। কিন্তু এই দিক দিয়ে নারায়ণগঞ্জে প্রতিটি উপজেলা, থানা ও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। একই সাথে কারা নেতৃত্বে আসবে তাদের মাঝে চলছে দৌড়ঝাঁপ। কেননা উপরের নেতাকে খুশি করে পদ প্রত্যাশীরাও নেতা হতে চায়।
এদিকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাদের পছন্দের নেতাকে বেছে নিতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। সম্প্রতি সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন গুলোতে কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অপর দিকে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কয়েকটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে সম্মেলন চলছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের অর্ধেক ওয়ার্ড সম্মেলন শেষ হয়েছে।
তার মাঝে নাসিক বন্দরের ৯টি ওয়ার্ড এবং সদরের ৮টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ হয়েছে। এর মাঝে কয়েকটি ওয়ার্ডে হৈ চৈ হয়েছে। কিন্তু কয়েকটি ওয়ার্ড ব্যতিত বেশিল ভাগ কমিটি ঘোষনা করা হয় নাই। আর এইনিয়ে পদ প্রত্যাশী নেতাদের মাঝে অনেকটা ক্ষোভ রয়েছে।
তবে সদর বন্দরের ওয়ার্ড গুলোতে অল্প সময়ে কমিটি হলেও সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডের সম্মেলন নিয়ে তেমন একটা তৎপরতা নেই। আর এজন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রহর গুনছেন সম্মেলনের। তবে তৃনমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা যেহেতু সিদ্ধিরগঞ্জ এখন মহানগরের আওতাভুক্ত সেহেতু নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে।
তাছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয় প্রায় দের যুগ ধরে। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদব ইয়াছিন মিয়া ইতোমেধ্য নানা কর্মকান্ডে বিতর্কিত হয়ে রয়েছেন। আগামীতে তিনি নেতৃত্বে আসতে পারবেন কী না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তৃনমূল বিতর্কিত নেতাকে চান না বলে জানান। তাই এখানে নতুন নেতা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগকে সাজানো যেতে পারে বলে মনে করেন খোদ দলীয় নেতা কর্মীরা।
দলীয় সূত্রমতে জানা যায়, সপ্তাহখানিক আগে মহানগরের শহরের ১৫ ,১৬, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোনেসন ও সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীগের সম্মেলন দ্রুত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা তখন বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জেও সম্মেলন হবে। অচিরেই আলোচনার মধ্য দিয়ে দিন তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
জানা গেছে, ১৯ বছর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মজিবর রহমান ২৯ বছর ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন। অন্যদিকে ১৯ বছর পার করছেন সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া। দলটি টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে কোনো গতি নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
এদিকে গতবুধবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের কিং প্যালেস রেস্টুরেন্টে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় আগামী ১০ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জের ৯টি ওয়ার্ডের সম্মেলনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়।
এই প্রস্তুতি সভায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের মিটিং দিলে এখন ২৬ জনের মত আসে। আমাদের কমিটির অনেকেই মারা গেছে। এছাড়া যারা যুবলীগের আছে তাদেরকে আওয়ামী লীগে এনে আমাদের সাথে নেতৃত্ব দিতে হবে।
থানা আওয়ামী লীগেরও সম্মেলন হওয়া দরকার। যেহেতু স্বেচ্ছাসেবক লীগ দিয়ে শুরু হচ্ছে। তাই পরবর্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগেরও সম্মেলন হবে। সেখানেও নতুন নেতৃত্ব তৈরী হোক আমরা তা চাই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা জানান, দলে নেতৃত্ব দিতে পারেন তৃণমূলে এমন যোগ্য নেতা থাকা সত্ত্বেও দলীয় পদ আঁকড়ে ধরে থাকতেই সম্মেলন হউক চাননা অনেক নেতাই। এ নিয়ে দলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ চলে আসছে।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক যিনি আছেন তিনি তার বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন। আর এতে করে তিনি বাদ পরতে পারেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক ইয়ছিন মিয়ার বিরুদ্ধে মসজিদের জায়গা নিয়ে প্রতারণা থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। মসজিদের জায়গার ঘটনা নিয়ে মামলাও রয়েছে।
অপরদিকে নতুন নেতেৃত্বের মূল জায়গায় আসার জন্য একঝাঁক নেতৃবৃন্দ মাঠে নেমেছেন। তাদের মাঝে যারা মূলধারা নেতা হতে চানা তাদের এক সংসাদের ঘনিষ্ঠ হতে হবে বলে মনে করেন স্থানীয় নেতা কর্মীরা।
তার মাঝে রয়েছেন, সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রেনু, সাদেকুর রহমান সাদেক, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা বিএম আমির হোসেন, তবে বর্তমান কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মুজিবর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হাজি ইয়াছিন মিয়া আবারও নেতৃত্ব বহাল থাকবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি ইয়াছিন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু রাজনৈতিব বিশ্লেষকদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনের আগে কমিটি না হলে ক্ষমতাসীন দলের পস্তাতে হতে পারে।
কেননা এখানে থানা এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিএনপি কমিটি দিয়ে তাদের দলকে গুছিয়ে নিচ্ছেন। সেদিক দিয়ে আওয়ামী লীগ পিছিয়ে আছে। আর এজন্য দলীয় নেতৃবৃন্দ সম্মেলনের প্রয়োজন মনে করছেন। তাছাড়া সিদ্বিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির বক্তব্যে সম্মেলনের ইঙ্গিত পাচ্ছে স্থানীয় নেতা কর্মীরা। তবে কবে সম্মেলন হবে তার জন্য প্রহর গুনছেন। এন.হুসেইন/জেসি


