Logo
Logo
×

রাজনীতি

দলাদলালিতে শেষ কুতুবপুর আওয়ামী লীগ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৩, ০৬:৪১ পিএম

দলাদলালিতে শেষ কুতুবপুর আওয়ামী লীগ
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার  কুতুবপুর একটি বৃহত্তর ইউনিয়ন যে ইউনিয়নটিতে জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখেরও বেশি। এই ইউনিয়নটিতে বিভিন্ন দলীয় লোকজন থাকলেও এখানকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অনেকটা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তবে দেড় যুগেরও বেশি সময় যাবৎ কালীন কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি না হওয়ার কারনে যা অনেকটাই দূর্বল হয়ে পরেছে। দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ার কারনে সেই পুরাতন কমিটি দিয়েই কোনমতে চলছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।

 

বেশ কয়েক বছর যাবৎ থানা কমিটির নেতৃবৃন্দরা কমিটিগুলো করে দেওয়ার কথা বললেও তা এখনো দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘদিন দল ক্ষমতায় থাকা সত্তেও  এ কমিটি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এদিকে  থানা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা বলেছেন ওয়ার্ড কমিটি গুলো শেষ না হওয়ার কারনে ইউনিয়ন কমিটি হচ্ছে না কিন্ত আমরা প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ওয়ার্ডের সদস্যের জন্য ফরম দিয়েছে। আর এই ওয়ার্ড কমিটি গুলো শেষ হলেই ইউনিয়ন কমিটি গুলো করা হবে।

 

অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন পুরাতন কমিটি বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করা দরকার তারা এটাও মনে করছেন এই কমিটি যদি পুনরায় থাকে তাহলে কুতুবপুর আওয়ামী লীগ শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। তাই দূরদিনে যারা আওয়ামী লীগের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন রাজপথে থেকে জুলুম অত্যাচারের শিকার হয়েছেন সেই সকল ত্যাগী নেতাকর্মীদের এই কমিটিতে স্থান দেওয়া হোক। তবে এখন কুতুবপুর আওয়ামী লীগের লড়াদশা দেখা দিয়েছে এর কারন হচ্ছে কুতুবপুরে আওয়ামী লীগের নেতাদের নেই কোন ধরনের মূল্যায়ন নেই।

 

এক যুগেরও বেশি সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্বেও অনেক আওয়ামী লীগ নেতা এখনো কষ্ট করে প্রতিটি দিন পার করতে হয়। কুতুবপুর আওয়ামী লীগের মধ্যে দেখা গেছে কোন মিল নেই মাঝে মাঝে থানার নেতাদের দেখানোর জন্য তারা এক থাকে সেই পর্যন্তই তাদের চালান। শুধু তাই নয় কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন তার নিজস্ব কোন শক্তি নেই নেতাদের কিভাবে উজ্জীবিত করতে হয়। তাকে মানুষ শুধু পায় বিভিন্ন জায়গায় জমির দালালি করতে।

 

জানা যায়, কুতুবপুরের একজন চিহ্নিত মাদকের ডিলার বেশ কয়েকটি হত্যার আসামী মীর হোসেন মীরুর পাইটু হিসেবে সকলে চিনে এই ইউনিয়ন সভাপতি জসিমকে। আর দেখা গেছে কুতুবপুরে এখন আর আওয়ামী লীগের দলের জন্য কাজ করে না আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে করে যাচ্ছে একের পর এক অপকর্ম যার কিছুই জানেন না এই প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান।

 

তবে এই সাংসদ বরাবরই বলে গেছেন আমার দলের কেউ যদি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন ধরনের অপকর্ম করার চেষ্টা করে তাহলে সে যেই হোক কোন ছাড় নেই বিশেষ করে মাদকের সাথে কেউ জড়িত থাকলে আইন তার প্রতি ব্যবস্থা গ্রহন করবে। আমার এতো লোক দরকার নেই আমার ভালো মানুষ দরকার সে কোন দলের হলো সেটা আমার দেখার বিষয় না। কিন্ত সেই কথা রাখেনি কুতুবপুরের আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন ও কথিত সেচ্ছাসেবক লীগের নামধারি সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরু।

 

কুতুবপুরকে এখন তারা জাহান্নামে পরিনত করেছে। তাদের কারনে ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাদেরও বদনাম হচ্ছে। বর্তমানে তাদের সাথে আওয়ামী লীগের প্রোগ্রাম করতেও অনেকে অনীহা প্রকাশ করেছে। আবার অনেক নেতাকর্মীরা মনে করছেন তারা এই সুনাম ও ঐতিহ্য ভরা এই আওয়ামী লীগের নাম খারাপ করছে। তাদের কারনেই আজ কুতুবপুর আওয়ামী লীগ লণ্ডভণ্ড। দীর্ঘদিন যাবৎ দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে যাচ্ছে কুতুবপুরের আওয়ামী লীগের নেতারা।

 

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ঘোষিত প্রোগ্রাম গুলোতেও দেখা মিলেনা কুতুবপুর আওয়ামী লীগের কোন নেতাদের। কোথায় কোন যায়গায় দালালি ভূমিদস্যুতায় সবার আগে তাদের অবস্থান দেখা যায়। বিশেষ করে কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা ইউনিয়নে শান্তি সমাবেশ হলেও কুতুবপুরের কোন নেতারা তা পালন করেনি যা অনেকটাই আওয়ামী লীগের জন্য দুঃখজনক ব্যাপার।

 

তবে নাম প্রকাশে আনিচ্ছুক অনেক নেতাকর্মী মনে করেন এটা দলের বদনাম করছে দলের কোন কার্যক্রমে তাদের দেখা যায় না। কুতুবপুরের ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতারা আজ অবহেলায় মধ্যে পড়ে আছে। তাই তারা মনে করেন স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমান পারেন আবার এই কুতুবপুরের ত্যাগী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যোগ্য স্থানে রাখতে।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন