প্রোগ্রাম হলেই হাই-বাদলের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৩, ০৯:৫৯ এএম
# পাল্টাপাল্টি দোষারোপে বিভক্ত নেতৃবৃন্দ
# একই স্থানে আ.লীগ-যুবলীগের পাল্টাপাল্টি স্লোগান
রাজধানী ঢাকা লাগোয়া জেলা নারায়ণগঞ্জকে আওয়ামী লীগের সুতিকাগার বলা হয়। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সভায় তাদের বক্তব্যে এই কথা বলে থাকেন। এমনকি বঙ্গবন্ধুর আত্ম জীবনিতেও তা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সুতিকাগার জেলায় খোদ দলের মাঝে বিভক্ত হয়ে আছে শহরের উত্তর-দক্ষিণ বলয় নিয়ে।
এখানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারীদের উত্তর বলয় হিসেবে জানেন দলীয় নেতা কর্মীরা। তার বিপরীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী অনুসারীদের দক্ষিণ বলয় হিসেবে জানেন রাজনৈতিক মহল। এই দুই নেতার কোন্দল দলীয় নেতা থেকে শুরু করে সকল রাজনৈতিক মহল অবগত।
কেননা নির্বাচনের সময় আসলে তাদের এই বিভেদ সুস্পষ্ট হয়। তবে এবার পুরোর দ্বন্দ্ব নতুন ভাবে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর এই কোন্দল বাড়ছে। এই কোন্দল ক্রমেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল। সম্প্রতি কয়েকটি দলীয় কর্মসূচি পালনে তাদের এই আচরণ সুস্পষ্ট হয়েছে কর্মীদের মাঝে।
এদিকে দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে আলোচনা চলছে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার পর থেকে সভাপতি ডানে গেলে সাধারণ সম্পাদক বামে যায়। তাদের এক সাথে তেমন একটা দেখা যায়না বলে জানান দলীয় নেতৃবৃন্দ।
তার মাঝে ২৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার ২ নম্বর রেলগেট জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে শান্তি সমাবেশে আওয়ামী লীগ যুবলীগের পাল্টা পাল্টি স্লোগানে সমাবেশ স্থল অশান্তি হয়ে পরে। আর এতে করে দলীয় নেতা কর্মীরা বিভ্রত বোধ করেন। সেই সাথে তাদের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে পুরো জেলা জুরে চলে সমালোচনা।
একদিকে নগরীর ২ নম্বর রেলগেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে জেলার ব্যানারে শান্তি সমাবেশ করেন। অপর দিকে তার দুই কদম দূরে মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনুর নেতৃত্বে শান্তি সমাবেশ করা হয়।
ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল। একই সাথে তিনি জেলা যুবলীগের সাধারণ স্পাদক পদেও রয়েছেন। তবে একই স্থানে আওয়ামী লীগ যুবলীগের শান্তি সমাবেশের নামে যে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে জেলা জুড়ে সমালোচনা চলে।
সেই সাথে এই অশান্তির জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তার দায় এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় নেতারা। এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানান মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু। কিন্তু শেষ না করতে দেরি হওয়া এক পর্যায়ে তারা ওই খানেই শান্তি সমাবেশ করেন।
আর তখনি দেখা যায় একই স্থানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল এক সাথে দুই মাইকে বক্তব্য রাখছেন। সেই সাথে পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজিত হয়ে পরে নেতা কর্মীরা। আর এতে করে তাদের মাঝে যে কোন্দল রয়েছে তা রাজনৈতিক মহলের বুঝতে বাকি নেই।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও দেখা যায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল আলাদা ভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করেন। এতে করে ক্রমেই তাদের কোন্দল বেড়ে উঠছে।
সম্প্রতি খোঁজ নিয়ে জানাযায়, মঙ্গলবার ৭ মার্চ নগরীর ২ নম্বর রেলগেট জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়। প্রথমে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে তিনি বক্তব্য দেয়া কালীন সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের সমর্থকরা এসে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে শেখ হাসিনা বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় কয়েক মিনিট স্লোগান দিতে থাকেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহাদাত হোসেন।
কিন্তু তাকে এসে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী এসে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরিস্থিথি ঘোলাটে দেখে আবদুল হাই তার বক্তব্য দ্রুত শেষ করে স্থান ত্যাগ করেন। একদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই স্থান ত্যাগ করেন আরেক দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল ওরফে ভিপি বাদলের নেতৃতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিৃকতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
স্থানীয় একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের শান্ত থাকা বিভেদ-কোন্দল হঠাৎ করে ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠেছে। গত বছরের অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকতে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বারংবার আহ্বান সত্ত্বেও সেই বিভেদ এবার ‘ভয়ঙ্কর’ রূপধারণ করে আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন কর্মী-সমর্থকদের মাঝে।
কেননা এবার কোনো ইস্যু বা কারণ ছাড়াই বিভেদের সূত্রপাত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই। এছাড়া সমন্বয়হীনতার কারনে এই অশান্তি পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে বলে জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ। দলীয় সুত্র জানায়, নতুন করে শান্তি সমাবেশে যে অশান্তি তৈরী হয়েছে তা নিয়ে এখন জেলার সর্বত্র আলোচনা তুঙ্গে।
কেন এই বিভেদ তৈরী হলো তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এমনকি কার কারণে একই স্থানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ হলো। যদিও দলের কয়েকজন নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে এর জন্য দায়ী করছেন একাধিক নেতৃবৃন্দ। কেননা শান্তি সমাবেশে অনুরোধ করার পরেও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সরে যেতে দেরী করেছেন বলে মন্তব্য করেন যুবলীগের উপস্থিত কর্মীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের মাঝে যে কোন্দল রয়েছে তা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই কোন্দল উত্তর দক্ষিণ বলয়ের মাঝে। সেই রেশ এখন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের মাঝে অবস্থান করছে।
গত কয়েকটি কর্মসূচি পালনে তাদের সেই দৃশ্য উঠে এসেছে। তাই রাজনৈতিক বোদ্ধামহল মনে করছেন তারা ক্রমেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন। এইভাবে কোন্দল বাড়তে থাকলে দলের জন্য তা ক্ষতিকর হয়ে উঠবে বলে মনে করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এন.হুসেইন/জেসি


