Logo
Logo
×

রাজনীতি

হাই-বাদলের সাথে বসে কমিটি করবেন মির্জা আজম

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৩, ০৪:৩৩ পিএম

হাই-বাদলের সাথে বসে কমিটি করবেন মির্জা আজম
Swapno


# দ্রুত কমিটি গঠনের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দুই নেতার

 

আগামী নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ গরম হচ্ছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি গত বছর থেকে একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে তাদের কর্মীদের রাজপথে রেখেছেন। অপরদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও শান্তি সমাবেশ দিয়ে তাদের দমিয়ে রাখে। পাশা পাশি দুই দলই সাংগঠনিক ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

 

কিন্তু এই ক্ষেত্রে গত বছরে জেলা আওয়ামী লীগের জাকজমকভাবে সম্মেলন হলেও ৫ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে এখনো তেমন কোন তৎপরতা নেই। কবে নাগাত নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে তাও জানেন না নেতৃবৃন্দ।

 

 

এদিকে জেলা দলীয় কর্মসূচিতে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ বিষয়ে আলোচনা উঠেছে। গত বছরের ২০২২ সনের ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আব্দুল হাই সভাপতি এবং আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। তিন মাসের মাঝে তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশনা দেয়া হলেও ৫ মাসেও তা হয় নাই।

 

 

তাছাড়া দলীয় সূত্রমতে জানা যায়, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের সাথে বসে কমিটি করবে বলে জানান একাধিক সূত্র। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটির খসড়াও তৈরী করতে পারেননি তারা। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মাঝে মধ্যে।

 

 

দলীয় একাধিক সূত্রমতে, পদ ভাগাভাগিতে সমন্বয় না হওয়ায় জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখছে না। শুধু তাই নয়, পদ ভাগাভাগির কারণে বিগত কমিটিতেও ৬টি পদ শূন্য ছিল। সূত্রটি অভিযোগ করেন, শীর্ষ নেতাদের মধ্যে পদ ভাগাভাগির কারণে দলের পরিক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা অবমূল্যায়ন হচ্ছেন। ফলে বিগত কমিটি যেমন সাংগঠনিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তেমনি বর্তমান কমিটিও এ ব্যতিক্রম হবে না বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিমত।

 

 

তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাধিক সূত্রমতে, বছরের পর বছর ধরে জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়নে  একই ব্যক্তি দলীয় শীর্ষ পদগুলো দখল করে আছে। এতে ওই নেতাদের সুবিধা নেয়ার পাল্লা ভারী হলেও নতুন নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না। দীর্ঘ ১৯ বছর পর গত বছরের ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলন ঘিরে পুরো জেলার মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠে।

 

 

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ একডজন কেন্দ্রীয় নেতার আগমন ঘটে সম্মেলনে। নানা আলোচনা হতে থাকে নতুন নেতৃত্ব আসছে জেলা আওয়ামীলীগে। কিন্তু দিন শেষে শীর্ষ দুই পদে পুরনোদের রেখেই সম্মেলন শেষ করা হয়। ফলে ফুটো বেলুনের মতো নিমিষেই চুপসে যায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

 

 

তাদের মতে, যে কমিটি দীর্ঘ ৫ বছরেও একটি সমাবেশ ও কমিটির ৬ শূন্য পদ পুরণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সকল উপজেলা, থানা ও ইউনিয়নের কমিটি করতে পারেনি নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে। সেই নেতৃত্ব আগামী দিনে সরকার বিরোধী আন্দোলনে কি ভুমিকা রাখবে তা দেখার বিষয়।

 

 

তাছাড়া এবার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শীর্ষ দুই নেতা দায়িত্ব পাওয়ার পর দুজনে দুই দিকে চলেন। সভাপতি ডানে গেলে সাধারণ সম্পাদক বামে যায়। সপ্তাহ খানিক আগে শান্তি সমাবেশে হাই বাদল পাল্টা পাল্টি স্লোগান তুলেন। তাদের এইকান্ড নিয়ে নেতা কর্মীর বিব্রত বোধ করেন। সেই সাথে পুরো জেলায় তা নিয়ে সমালোচনা আলোচনা হয়।

 

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান করে নিতে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নেতাকর্মীদের দৌড়-ঝাঁপ। স্থানীয় বলয় ঠিক রেখে তাদের লভিং চলছে কেন্দ্র পর্যন্ত। এ দৌড়ে সাবেক ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে আছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তবে দৌড়-ঝাঁপ যারাই করুক বিতর্কিতদের যেন কমিটিতে ঠাই দেয়া না হয় এ দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের। তাদের দাবী, দৌড়-ঝাঁপ যেই করুক, সৎ, ত্যাগী ও নতুন-পুরাতনের সমন্বয়ে হবে জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, মূলত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী এবং বর্তমান কমিটির সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ বাদল চাচ্ছেন তাদের পছন্দের লোকজনকে কমিটিতে স্থান দিতে। এই নেতাদের মধ্যেই পদগুলো ভাগাভাগি হবে। তাদের মধ্যে সমন্বয় হলেই হয়তো জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখবে।

 

 

জানাযায়, গত বছরের ২৩ অক্টোবরের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি আগামী তিন বছরের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইকে সভাপতি ও  এড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম ঘোষণা করেন।

 

 

একই সঙ্গে আগামী একমাসের মধ্যে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটির খসড়া তালিকা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সাড়ে ৪ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া কেন্দ্রে জমা হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ব্যপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের কমিটি হয়ে যাবে।  

 

 

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি শীঘ্রই হয়ে যাবে।

 

 

প্রসঙ্গত: নারায়ণগঞ্জ জেলার সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ১৯৯৭ সালের ২০ ডিসেম্বর। তখন অধ্যাপিকা নাজমা রহমান সভাপতি ও এমপি শামীম ওসমান সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। এর পর ২০০২ সালের ২৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরামকে আহ্বায়ক করে কেন্দ্র থেকে ৬১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি করে দেওয়া হয়।

 

 

পরে আহ্বায়ক এস এম আকরাম পদত্যাগ করে যুক্ত হয়ে পড়েছেন নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে। পরে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয় যুগ্ম-আহ্বায়ক মফিজুল ইসলামকে। ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মফিজুল ইসলাম মারা যান।

 

 

এরপর ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের তাৎকালীন প্রশাসক আবদুল হাইকে সভাপতি এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।

 

 

এর ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। কিন্তু ৬ পদ শূন্য রেখেই এই কমিটি তাদের মেয়াদ শেষ করে।  এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন