# সম্মেলনে তৃণমুলের মূল্যায়ন চায় নেতৃবৃন্দ
# আজ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন
দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষমতাসীন দল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কয়েকটি সহযোগী সংগঠন নেতৃত্ব বিহীন হয়ে আছে। তার মাঝে ২০২২ সনের ১৬ জানুয়ারি জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সাথে ওই দিন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ না করায় এই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
এদিকে নির্বাচনের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একঝাঁক উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাহা উদ্দিন নাসিম এখানকার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অবস্থান করেন। দলীয় নেতৃবৃন্দ জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাহাউদ্দিন নাসিমের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে সব কিছু কাটিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগকে ঢেলে সাজাতে চান কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এদিকে দলীয় সূত্রমতে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগকে ঢেলে সাজানোর জন্য কেন্দ্রীয় কয়েকটি টিমে একঝাক নেতৃবৃন্দ কাজ করছেন। তারই অংশ হিসেবে গত বছরের শেষের দিকে জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সংগ্রহ করা শুরু হয়।সেই সাথে জেলার কয়েকটি উপজেলায় সম্মেলন করার দেড় মাস পরে কমিটি ঘোষণা করা হয়। তার মাঝে বন্দর উপজেলায় ইতোমধ্যে কমিটি ঘোষনা হয়েছে। তবে সোনারগাঁ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের সম্মেলন হলেও কোন কমিটি ঘোষণা হয় নাই।
অপরদিকে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর থানা ও এই থানাধীন শহরের ৯টি ওয়ার্ডের সম্মেলন শেষ হয়। কিন্তু এই সম্মেলন নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা এখনো শেষ হয় নাই। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আজ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ৯টি ওয়ার্ডের সম্মেলন শুরু হবে। আজ বিকেলে হিরাঝিল এলাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ ১,২ এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলন ঘিরে একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমেছে। তার মাঝে কয়েকটি বলয় তৈরী হয়ে রয়েছে।
দলীয় সূত্রমতে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ড কমিটিতে ওই থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতি, সিদ্বিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাজু সহ কয়েকজন নেতা মিলে সিন্ডিকেট তৈরী করে নিজেদের বলয়ের লোক বসানোর জন্য পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সাথে একজন সংসদ সদস্যের প্রভাব বিস্তার করে কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া প্রস্তুতি সভায় থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুরের বক্তব্যে তার ইঙ্গিত দিয়েরেছে বলে জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ। শামীম ওসমান অনুসারীরা চাচ্ছেন তাদের নিজেদের বলয়ের লোকদের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা বানানোর জন্য।আর এজন্য তারা বিভিন্ন ভাবে সিদ্ধিরগঞ্জের দায়িত্বরত নেতাকে চাপ দিয়ে তা আদায়ের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ একাধিব নেতৃবৃন্দের। এদিকে সপ্তাহ খানিক আগে সিদ্ধিরগঞ্জ কিং প্যালেস রেস্টুরেন্টে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই প্রস্তুতি সভায় নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলয়ের কাউকে রাখা হয় নাই। কেননা নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মেয়র আইভী এবং এমপি শামীম ওসমানের প্রভাব বিস্তার রয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন কমিটিতেও তাদের অনুগত ব্যক্তিরা থাকেন। এই দিক দিয়ে অভিযোগ উঠেছে সিদ্ধিরগঞ্জে মেয়র আইভী বলয়কে মাইনাস করার জন্য এখানে শামীম ওসমান অনুসারীদের নিয়ে এখানকার সম্মেলন প্রস্তুতি সভা করা হয়। সেই সাথে আইভী বলয়ের তেমন কাউকে না রেখে একটি বলয়ের লোকজন নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান ৩ দিন ব্যপি ৯টি ওয়ার্ডের সম্মেলন ঘোষণা করেন। এ নিয়ে তাদের মাঝে ক্ষোভ তৈরী হয়ে আছে। তবে একক আধিপত্যে কোন কমিটি মেনে নিবে না কেউ।
প্রস্তুতি সভায় নাসিক মেয়র আইভীর সমালোচনা করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, মেয়র আইভী যখন নৌকা নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে প্রচারণা চালাতে আসেন তখন তার সাথে থেকে আমার ঘাম ঝরে গেছে। কিন্তু তিনি জয়ী হওয়ার পর আমাকে তেমন মনে রাখেন নাই। জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি আশা করেছিলাম তিনি আমাকে ভোট দিবেন। কিন্তু তা না করে উল্টো সিদ্ধিরগঞ্জের ৬টি ভোট মেয়র তার সাথে করে কাউন্সিলর নিয়ে গিয়ে আমার বিপক্ষ প্রার্থী জাহাঙ্গীরকে প্রদান করায়। তার এমন কাণ্ডে আমি অনেক দুঃখ পাই। অথচ সিদ্ধিরগঞ্জে সিটি করপোরেশন করার জন্য আমি সবার আগে প্রস্তাব রাখি। এখন এক একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তারা মজা মারেন।
দলীয় নেতৃবৃন্দ জানান, আজকের সম্মেলনে একটি অংশ প্রভাব বিস্তার করে নিদেজেদের লোকদের কমিটিতে স্থান করে নেয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। তারা চাচ্ছেন জোর করে সম্মেলনের দিনি কমিটি নিজেদের ফর্মায়েসি দেয়া কমিটি ঘোষণা করা হোক। তাদের বিপক্ষ প্রার্থীদের যেন প্রাধান্য না দেয়া হয়। তবে তৃনমূল চান যারা দলের দুঃসময়ে ছাত্রলীগ করে হামলা মামলা খেয়ে এখন দলের সু সময়ে পদে আসবেন তাদের মূল্যায়ন করা হোক। তাছাড়া তৃনমূল নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন করা হোক। কেননা তৃনমূল নেতাকর্মীরা মূল্যায়িত হলে নির্বাচনের সময় তারা দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাবেন। এই বিষয়ে মতিউর রহমান মতির সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
এই সভায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি এড. শাহানারা ইয়াসমিন বলেন, সম্মেলন হবে স্বচ্ছ-সুশৃঙ্খলভাবে। কেউ যদি মনে করে প্রভাব বিস্তার বা টাকা দিয়ে পদে এসে পড়বে তাহলে সে ভুল চিন্তায় আছেন। আমি যদি জানতে পারি কোন পদ প্রত্যাশী স্থানীয় কাউকে টাকা দিয়ে প্রার্থী হয়ে নেতা হতে এসেছেন তার বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া আমরা বিতকির্ত কাউকে পদে নিতে চাই না। যারা দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করবেন তারা তাদেরকেই আমরা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে নিতে চাই।
এস.এ/জেসি


