# আ.লীগ বিভক্ত, একটা লুটপাটে ব্যস্ত আরেকটা নির্যাতিত : গিয়াসউদ্দিন
# এমন কোনো কাজ করবেননা যেন নারায়ণগঞ্জ অস্থির হয় : শামীম ওসমান
আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে রাজনীতির মাঠ গরম হচ্ছে। একদিকে বিএনপি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকার পতনের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে। বিএনপি আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারকে হটাতে চান। বিশেষ করে গত বছরের ১০ ডিসেম্বরে ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সমাবেশ ঘিরে সারাদেশে ব্যপক আলোচনা তৈরী হয়।
ওই সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রেখে আলোচনায় আসেন। পরবর্তিতে যুগপৎ আন্দোলনে বিশাল লোকের সমাগম করে যাচ্ছেন জেলা বিএনপি। অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করে বিএনপিকে হুঙ্কার দিচ্ছেন। সেই সাথে আওয়ামী লীগও রাজপথ দখল করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ বিএনপি কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।
এদিকে সম্প্রতি বিএনপির আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। বিভিন্ন সভায় গিয়ে বিএনপিকে হুঙ্কার দিচ্ছেন। তার মাঝে কয়েকদিন আগে সিদ্ধিরগঞ্জের এক সভায় বিএনপির নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করে শামীম ওসমান বলেন, বিএনপির প্রোগ্রামে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে স্লোগান দিয়েছেন, আমি খবর পেয়েছি।
এটা কী স্লোগান আমি জানতে চাই। তারা বলেছে, হরে কৃষ্ণ হরে রাম, শেখ হাসিনার বাপের নাম। অনেক ধৈর্য ধরেছি। জনগণ ভীমরুলের চাক নিয়ে আপনাদের সামনে এসে হাজির হবে। বাংলাদেশে খুনের রাজনীতি কায়েম করার চেষ্টা চলছে। বিএনপি ওদের দলের নেতাদের মেরে নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
শামীম ওসমান তখন বলেন, নারায়ণগঞ্জে ভাষা সামলান। এমন কোনো কাজ করবেন না যেন নারায়ণগঞ্জ অস্থির হয়। ২০০১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখন আমাদের শাহীনকে হত্যা করা হয়েছিল, সুন্দর আলীর ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছিল, আমাদের মোজাফফর ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা কী অপরাধ করেছিলাম। কোন্ খুনি মেরেছিল তাদের। আমরা কি মানুষ না।
আমরা মরলে কি আমাদের সন্তানরা কাঁদে না। আমরা মরলে কি আমাদের বাচ্চারা এতিম হয় না। আজকে আমাদের রাজনীতি করার কথা ছিল না। কিন্তু তাদের জন্য আমরা রাজনীতিতে এসেছি। আমি যদি আগের শামীম ওসমান থাকতাম তাহলে তারা ৫ মিনিট দাঁড়ানোর সময় পেতনা। নেত্রীর কথায় ধৈর্য ধারণ করছি।
তার বিপরীতে গতকাল বিএনপির ১০ দফা দাবী আদায়ে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়্সা উদ্দিন শামীম ওসমানের বক্তব্যে প্রেক্ষিতে বলেন, আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সাংসদ তারা হুমকি দিচ্ছে বিএনপির সমর্থকদের পাঁচ মিনিটে খুঁড়ে বের করে ফেলবে। পাঁচ মিনিটে ধ্বংস করে দিবে।
অনেক কথাই বলে, আপনাদের আমরা যেমন ভয় পাই জনগণও ভয় পায়। কারণ আপনারা সদর্পে ঘোষণা করে বলেন আপনাদের চরিত্র কী। এই ভয়ের কারণে জনগণকেও এখন আপনাদের সরকার ভয় পেতে শুরু করেছে। জনগণ একটি সুযোগ পেলেই আপনাদের বিতাড়িত করবে এবং বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। সাবধান হয়ে যান। অতীতে যা করেছেন তার ফল পেয়েছেন।
কাজেই এগুলো বাদ দিয়ে দিন। নারায়ণগঞ্জ কারও ব্যক্তিগত সম্পদ না। মুক্তিযুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছি। কারও রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। আপনারা কর্মসূচি দিলে লোক পান না। গার্মেন্টস বন্ধ করে লোক নিয়ে আসতে হয়।
গিয়াসউদ্দিন সরকারি দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, নারায়ণগঞ্জের সরকারি দলের রাজনীতিবিদদের মধ্যে দুটি ভাগ। তারা আবার বড় বড় কথা বলে। আমাদের মধ্যে নাকি বিভক্তি। আমাদের মধ্যে কোন বিভক্তি নেই।
বিভক্তি তাদের মধ্যে। কারণ একটি গ্রুপ লুটপাট করে খাচ্ছে, তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন করে যাচ্ছে। আরেকটা গ্রুপ যারা ভাল তারা তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে পারছেনা। ভালোর দলে থেকে নির্যাতিত হচ্ছে। গিয়াস উদ্দিন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আপনারা বলেন বিএনপি নির্বাচনে আসতে চায় না।
আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, নির্বাচনের মাধ্যমেই আমরা সরকারের পরিবর্তন চাই। আপনাদের মত ভোট ডাকাতি করে আমরা ক্ষমতায় আসতে চাই না। অনেকে বলে বিএনপি যত আন্দোলন সংগ্রাম করুক, আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আমি তাকে প্রশ্ন করতে চাই, আমরা কী ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করছি।
আমরা জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি। অন্তবর্তীকালীন একটি নির্বাচন দিন। দেখি জনগণ কাকে চায়। একই আসনের দুই দলের প্রভাবশালীর নেতার বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনীতির মাঠ গরমে হয়ে আছে। এই ভাবে দিনের পর দিন নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততোই মাঠ গরম হচ্ছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ২০০০ সনের নির্বাচনে শামীম ওসমানকে পরাজীত করে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে গিয়াস উদ্দিন এমপি নির্বাচিত হন। এই দুই নেতাই জেলার জাদরেল রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন তাদের পাল্টা পাল্টি বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠ গরম হচ্ছে।
সেই সাথে আগামী নির্বাচন নিয়ে দুজনেই এখন মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বললেও তারা প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। আর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানের বিপক্ষে একমাত্র শক্তিশালী প্রার্থী হলেন গিয়াস উদ্দিন। এন.হুসেইন/জেসি


