Logo
Logo
×

রাজনীতি

সবাই চেয়ার ধরে রাখতে উদগ্রীব

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৩, ০১:১৪ পিএম

সবাই চেয়ার ধরে রাখতে উদগ্রীব
Swapno


# মনস্তাত্বিক লড়াই চলছে জোরেসোরে
 

আগামী দ্বাদশ নির্বাচন নিয়ে এবার এক বছর আগে থেকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি মাঠে নেমেছে। আওয়ামী লীগকে হটিয়ে বিএনপি চায় ক্ষমতায় আসতে। তবে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ, নারায়ণগঞ্জে এমপিদের আগে থেকেই মাঠে নেমে মানুষের কাছে ভোট চাওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।

 

 

কিন্তু অপর দিকে বিএনপিও এই সরকারে অধীনে নির্বাচনে যাবে না বলে জানিয়ে আসছে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আপত্তি নেই। এদিক আগামী নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে যারা প্রার্থী হবেন তারা এবার এক বছর আগে থেকে নড়েচড়ে বসেছেন। সেই সাথে রাজনৈতিক ভাবে দলীয় নেতা কর্মীদের শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলছেন। পাশা পাশি ভিতরে ভিতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন বলে নেতা কর্মী এবং তাদের সমর্থকদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে।  

 

 

সারাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আগামী দ্বাদশ নিবার্চন নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকার বিরোধী দলগুলো চাচ্ছে আগামীতে যেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থ বারের মত ক্ষমতায় না আসতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগও ছেড়ে দিবে না। তারা চতুর্থ বারের মত ক্ষমতায় থাকার জন্য মাঠে নেমে মানুষের কাছে ভোট চাওয়া শুরু করেছে।

 

 

এই দিক দিয়ে বিরোধী দল গুলো পিছিয়ে আছে। তাছাড়া দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। যদিও সাংগঠনিক ভাবে তারাও প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। নারায়ণগঞ্জ ঢাকার লাগোয়া জেলা হওয়ায় নির্বাচন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলন সংগ্রামে এই জেলা নিয়ে আলোচনায় থাকে সবার শীর্ষে।

 

 

এছাড়া দেশের অর্ধেক জেলা গুলো যাতায়াতের জন্য নারায়ণগঞ্জ হয়ে যেতে হয়। তাছাড়া বাণিজ্যিক দিক দিয়ে সারা বিশ্বেএখানকার পরিচিত রয়েছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন। তাই আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন নিয়ে এবার আগে থেকে আলোচনা চলছে। এই আসনটিতে টানা ১৪ বছর যাবৎ ওসমান পরিবারের দখলে রয়েছে; একই সাথে জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে।

 

 

এখানে ঘুরে ফিরে তারাই রাম রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের সেই রাজত্বে আগামীতে ভাটা পরতে পারে। তার কারণ এখানে ২০১৮ সনের একাদশ নির্বাচনের পর জোরে সরে নৌকার প্রার্থী দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। গত বছরের সিটি করপোরেশনেও সেই দাবী জোরালোভাবে জানানো হয়। তখন কেন্দ্রীয় নেতারাও তাদের নৌকার দেয়ার আশ্বস্ত করেন। 

 

 

দলীয় সুত্রমতে জানা যায়, জোটভুক্ত নির্বাচনের কারণে ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ আসন ছেড়ে দেয়ায় ওই সময় মনঃক্ষুন্ন হন আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীরা। একই ধারা অব্যাহত ছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও।  

 

 

জানা যায়, ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়েছিল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য একেএম নাসিম ওসমানকে। ওই নির্বাচনে বিএনপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাসিম ওসমান। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়।

 

 

কিন্তু ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় নাসিম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল ভারতের দেরাদুনে হঠাৎ নাসিম ওসমানের মৃত্যু হলে উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পান তার মেজ ভাই ব্যবসায়ী নেতা সেলিম ওসমান।

 

 

২০১৪ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে সেলিম ওসমান সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক এসএম আকরামকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই ভাবে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ নির্বাচনে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়ে এমপি সেলিম ওসমানের কাছে বিএনপির শরীক দল থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরাম পরাজিত হন।

 

 

এছাড়া এখানে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামও এবার আলোচনায় আছেন। সেই সাথে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আলোচনায় রয়েছেন। তিনিও দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে এখানকার এমপি হতে চান।  

 

 

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জানান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের শহর বন্দর এলাকায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেই সাথে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা অবহেলিত হয়ে আছে। এমনকি তাদের দুঃখের কথা বলার জায়গাটাও নেই। তাই তারা ২০১৮ সনের নির্বাচনের পর থেকে এখানে নৌকার প্রার্থী দাবি জানিয়ে আসছে।

 

 

তারা এই দাবীর প্রতিফলনও দেখতে চান। তাদের সেই দাবী হয়তো এবার আশা জাগতে পারে। এখন থেকে তারা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার দাবী জোরালো ভাবে তুলছেন। এদিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ব্যস্ত নিজেদের ঘর গোছাতে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে কোন্দল মেটানো না গেলে এর প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়বে বলে দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা মনে করছেন। 

 

 

রাজনৈতিক অঙ্গনে এবার জোরেসোরে আলোচনা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান  আবারও নির্বাচন করতে পারেন । আর এজন্য সদর বন্দর জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা সভা করছেন। তবে এখনো নির্বাচনের ঘোষনা দেন নাই। অপর দিকে আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নাসিম ওসমান পরিবার থেকে তারই সহধর্মিনী পারভীন ওসমান মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন।

 

 

রাজনৈতিক মহলে তাকে নিয়েও ব্যপক আলোচনা চলছে। তিনি যদি এবার জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পান তাহলে সেলিম ওসমানের কপাল পুড়বে। এছাড়া ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টির সাথে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাথে তাদের আগের প্রেম নেই। তাদের জোট ভঙ্গ হয়ে আছে। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরীক দল হওয়ায় তারা ছাড় পেয়ে যান।

 

 

তখন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। কিন্তু এবার আর তা হচ্ছে না। এছাড়া এবার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নাম উঠে আসছে। দলীয় সূত্রমতে তিনি এবার দল থেকে মনোনয়নের জন্য আলোচনায় রয়েছেন। কিন্ত তিনি মাস কয়েক আগে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন। 

 

 

এছাড়া বিএনপির এবার অস্তিত্বের লড়াই। তারাও এত সহজে ছেড়ে দিবেন না। তার মাঝে বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তখন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আরও চাপে থাকবে। আগামী দ্বাদশ নির্বাচন আগের মত আর হচ্ছে না এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে। তাই সবকটি দলই এখানে হিসেব নিকেশ করে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের প্রার্থী দেয়ার বাছাই কার্যক্রম করছে।

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এবার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন নিয়ে জোরালে ভাবে আলোচনা চলছে। আগামী নির্বাচনে জটিল সমীকরণ হওয়ায় এখানে কী ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা রাজনৈতিক দল গুলোতে। তবে সব কিছু মিলিয়ে এখানে ভিন্ন ধরনের কিছু ঘটতে যাচ্ছে। যা অনেকটা এই জুলাইয়ের পরে পরিস্কার হয়ে যেতে পারে। কেননা তার কিছু দিন পরেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে।

 

 

মানুষও চায় এখানে পরিবর্তন হোক। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন সেলিম ওসমান। বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়ে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আবুল কালাম। এছাড়া এই আসনে সাবেক এমপি এস এম আকরামও পিছিয়ে নেই।

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে যেই চেয়ারে বসেন তারা কেউই চেয়ার ছাড়তে চান না। কিন্তু চেয়ারেতো সবাই বসতে পারে না। কেননা ভোটারা তাদের ভোট প্রয়োগ করে একজনকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসেন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করবেন। তাই সচেতন মহল মনে করেন একবার চেয়ারে বসলে তা আর কেউ ছাড়তে চান না; সবাই ধরে রাখতে চান।  এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন