পাল্টাপাল্টি কমিটি নিয়ে উত্তপ্ত মহানগর বিএনপি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৩, ০১:২১ পিএম
# ঐক্য জরুরি হলেও বিভেদ বেড়েছে মোটাদাগে
আগামী নির্বাচনকে ঘিরে গত বছর থেকে রাজপথ দখল রেখেছে বিএনপি। বিশেষ করে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ নিয়ে সারা দেশে উত্তপ্ত তৈরী হয়। তখন ওই সমাবেশ নিয়ে সারাদেশে আলোচনা তৈরী হয়।
পর্যায় ক্রমে তাদের আরও জোরালো হতে থাকে। ১০ ডিসেম্বর বিএনপি ১০দফা দাবী তুলে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ জেলা মহানগরে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনে কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি মাঠে নামবে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি আগের কমিটি বিলুপ্ত করে গত বছরের শেষের দিকে নতুন আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। নতুন কমিটি আসার পর থেকে মহানগর বিএনপি কমিটি এক দিকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। অপর দিকে একের পর এক আন্দোলন করে অগ্রনী ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে দায়িত্বরত নেতা কর্মীরা।
গত বছরের ১২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান এড. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পান আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
এই কমিটি ঘোষণার পর পরই ১৪ জন নেতা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। এই ভাবে একের পর এক নেতা ১৪ জনের সাথে যোগদান করে তাদের পাল্লা ভারি হচ্ছে। মহানগর বিএনপির সাখাওয়াত টিপুর বিপরীতে মুকুল জাকির পক্ষে আহ্বায়ক কমিটিতে নেতা কর্মীরা যোগ দিচ্ছে।
এই ভাবে একের পর এক নেতা সাখাওয়াত টিপু ছেড়ে মুকুলের বলয়ে সংখ্যা বেরে ১৪ জন থেকে ২৬ জনে পরিণত হয়েছে। তাই দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি তারা বিভক্ত হয়ে আলাদা আলাদা ভাবে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ সভা করেন।
দলীয় সূত্রমতে জানা যায়, বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত দলীয় কর্মসূচি পালনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি পালন করছে। এক দিকে সাখাওয়াত হোসেন খান ও টিপুর নেতৃত্বে খানপুর থেকে নগরীর বিক্ষোভ মিছিল করেন। অপর দিকে তাদের বিপরীতে বিদ্রোহী আরেকটি অংশ মুকুলের নেতৃত্বে মন্ডল পাড়া ব্রীজে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ইদানিং সম্প্রতি দলীয় কর্মসূচি তারা আলাদাভাবে পালন করে যাচ্ছে। অপর দিকে দুই গ্রুপই দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য একরে পর এক কমিটি দিয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও টিপুর নেতৃত্বে কমিটি দেয়ার পর এবার মুকুল জাকিরের নেতৃত্বে নারায়নগঞ্জ বন্দর এবং সদর থানা কমিটি দেয়া হয়। তাদের বিদ্রোহীদের দেয়া কমিটি অবৈধ ঘোষণা করেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম। তবে বিদ্রোহীরা তার এই মন্তব্য মেনে নিতে নারাজ।
তাদের পাল্টা পাল্টি কমিটি নিয়ে এই দুঃসময়েও নেতা কর্মীদের মাঝে উত্তপ্ত বিরাজ কাজ করছে। অথচ দলের দুঃসময়ে তাদের মাঝে ঐক্য গড়ে তোলা ছিল প্রধান কাজ। কিন্তু এতে দায়িত্বরত নেতারা ব্যর্থ হওয়ায় তাদের মাঝে দুরত্ব বাড়তেই থাকে। সেই সাথে দলের মাঝে কোন্দল দিন দিন বেড়েই চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দলের দুঃসময়ে এই ভাবে তাদের মাঝে আরও দুরত্ব বারতে থাকলে তা দলের জন্য আর ক্ষতি হবে। তবে তাদের উচিৎ নিজেদের কোন্দল কমিয়ে তা ঐক্য গড়ে তোলা। কেননা এই মুহুর্তে আগামী নির্বাচনের আগে প্রতিটি সময় বিএনপির জন গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সরকারকে হটাতে হলে তাদের মাঝে ঐক্য গড়া ছাড়া কোন উপায় নেই। এন.হুসেইন/জেসি


