Logo
Logo
×

রাজনীতি

শামীম ওসমান-গিয়াস উদ্দিনের বাকযুদ্ধ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৩, ০৬:১৯ পিএম

শামীম ওসমান-গিয়াস উদ্দিনের বাকযুদ্ধ
Swapno

 

# গিয়াস ভাই বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিল : শামীম ওসমান
# শামীম ওসমানকে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ দেন গিয়াস উদ্দিন
# দুইভাগে বিভক্ত হওয়ার পরেও তারা বড় বড় কথা বলে : গিয়াসউদ্দিন

 

 

আওয়ামীলীগের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান দীর্ঘদিন পরেও ২০০১ সালের নির্বাচনের হারকে মেনে নিতে পারছেন না। দাপটের সাথে রাজনীতি করেও সাংসদ শামীম ওসমান ২০০১ সালে বিএনপি নেতা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠিত হলে ২০১১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছেও পরাজিত হন শামীম ওসমান। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি জনসভায় সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন এবং সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে উদ্দেশ্য করে লাগাতার বক্তব্য দিচ্ছেন শামীম ওসমান।

 

গতকালও ফতুল্লার এক জনসভায় সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের কাছে হারের বিষয়টি টেনে আনেন শামীম ওসমান। অনেকে এটিকে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গিয়াসউদ্দিনকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ধরে শামীম ওসমানের রাজনৈতিক প্রচারণা বলছেন। যদিও আগামী নির্বাচনকে ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাকযুদ্ধ জমে উঠেছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন এবং বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমানের বক্তব্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে।

 

গতকাল ফতুল্লার এক অনুষ্ঠানে সাংসদ শামীম ওসমান ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেছেন, ‘গিয়াসউদ্দিন তার কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিল। কিন্তু রাতে ফলাফল পাল্টে দিয়ে মোহাম্মদ আলী ভাই তাকে জয়ী করে দেয়।’ অপরদিকে একই অভিযোগ তুলে সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে বিএনপির এক কর্মসূচিতে বলেছিলেন, ‘আপনারা দিনের ভোট রাতে করেন। দিনের বেলায় নির্বাচন দিতে তাদের ভয় হয়। কেননা এই সরকারের এমপিরা দিনের বেলা ভোট হলে তাদেরকে মানুষ ভোট দিবে না।’

 

আগামী নির্বাচন ঘিরে তাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি জমে উঠেছে। সেই সাথে নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে রাজনীতির মাঠ ততোই গরম হচ্ছে। যদিও বিএনপি বলছে এই সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে অংশ নিবে না। অপরদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগও তাদের অধীনে আগামী নির্বাচন হবে বলে জানান ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে জানা যাবে সবর্শেষ পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়।

 

গতকাল ফতুল্লার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এক সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান গিয়াসউদ্দিনকে ইঙ্গিত করে বলেন, এর আগে এখানকার এমপি ছিলেন গিয়াসউদ্দিন ভাই, তিনি নাকি ফতুল্লার এই এলাকায় নজর দেয়নি। গিয়াস ভাই এমপি হয়নি। তাকে মোহাম্মদ আলী ভাই এমপি বানিয়েছিল। তিনি বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিল। আমাকে ৩৬ হাজার ভোটের ব্যাবধানে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। ভোটকেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্ট ছিল না বিভিন্ন জায়গায়। রাতে ফলাফল পাল্টে দিয়ে তাকে জয়ী করা হয়। সেই সময় আমি বলেছিলাম মোহাম্মদ আলী ভাই সবার আগে আপনাকেই কামড় দিবে গিয়াস উদ্দিন ভাই। হয়েছেও তাই। তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কিন্তু দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাদের থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।  

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন বলেছেন, ‘আপনারা বলেন বিএনপি নির্বাচনে আসতে চায় না। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, নির্বাচনের মাধ্যমেই আমরা সরকারের পরিবর্তন চাই। আপনাদের মত ভেট ডাকাতি করে আমরা ক্ষমতায় আসতে চাই না। সাবধান হয়ে যান। অতীতে যা করেছেন তার ফল পেয়েছেন। কাজেই এগুলো বাদ দিয়ে দিন। নারায়ণগঞ্জ কারও ব্যক্তিগত সম্পদ না। মুক্তিযুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছি। কারও রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। আপনারা কর্মসূচি দিলে লোক পান না।

 

গার্মেন্টস বন্ধ করে লোক নিয়ে আসতে হয়। নারায়ণগঞ্জের সরকারি দলের রাজনীতিবিদদের মধ্যে দুটি ভাগ। তারা আবার বড় বড় কথা বলে। আওয়ামী লীগের মাঝে বিভক্তি। কারন তাদের একটি গ্রুপ লুটপাট করে খাচ্ছে, তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন করে যাচ্ছে। আরেকটা গ্রুপ যারা ভাল তারা তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে পারছে না। নারায়ণগঞ্জে আপনারা দেখবেন সরকারি প্রশাসনে যারা আছে তারাও বিভক্ত। একদিকে আছে সন্ত্রাস চাঁদাবাজির পক্ষের শক্তি আরেকদিকে আছে ভাল মানুষ। সংখ্যয় তারা অল্প, কিন্তু তারা আজ সংগঠন করতে পারে না। মানুষের সামনে মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারে না। মানুষ তাদের লজ্জা দেয়।’

 

তথ্যানুযায়ী, ২০০১ সনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা করেন সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন। সেই সাথে ওই নির্বাচনে গিয়াস উদ্দিন শামীম ওসমানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন। সেই নির্বাচনের বিষয়ে উল্টো অভিযোগ তোলেন শামীম ওসমান।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ বিএনপির রাজনীতিতে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা নির্বাচনে দুই প্রভাবশালী নেতাকে সকলেই চিনে এবং জানে। তারা এই জেলার দুই দলের জাদরেল রাজনীতিবিদ। তাদের সপ্তাহখানেক যাবৎ তারা একের অপরকে ইশারা-ইঙ্গিতে বক্তব্য দিয়ে তাদের সেই পুরনো প্রতিযোগিতা জাগিয়ে তুলেছেন। সচেতন মহল মনে করেন নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে রাজনীতির মাঠে তাদের বক্তব্যে নেতাকর্মীরা ততোই জাগ্রত হচ্ছে। তবে  শেষ হাসি কে হাসবেন তা জানতে আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন