# আনোয়ার হোসেনের গর্জনে কর্মীরা আশাবাদী
# পারভীন ওসমানকে মাঠে ফেরাতে চায় কর্মীরা
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হচ্ছে। এক দিকে সরকার পতনের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে বিএনপি। অপরদিকে তাদের প্রতিহত করার জন্য আওয়ামী লীগও মাঠে রয়েছেন। টানা চতুর্থবারের মত ক্ষমতায় থাকার জন্য সবধরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন দল নারায়ণগঞ্জ সহ সারা দেশে প্রার্থী তালিকাও বাছাই করছেন। তবে বিএনপি এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে না বললেও ভিতরে ভিতরে তাদেরও প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিএনপির অংশ গ্রহন করতে আপত্তি নেই। তাই বিএনপি সরকার পতনের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামী লীগের শরীক দল জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। যদিও এখানে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ প্রতিনিয়ত নৌকার দাবী জাানিয়ে আসছে। দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে ততোই তাদেও দাবী জোরালো হচ্ছে। ২০১৮ সনের নির্বাচনের পর থেকে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার দাবী জানিয়ে আসছে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। গত বছরের সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের এই দাবী আরও জোরালো ভাবে করা হয়। সিটি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের দায়িত্বরত নেতৃবৃন্দ এখানে ৫টি আসনে তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে নৌকা দেয়ার আশ্বাস দেন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে নৌকার দাবী নিয়ে জোরালো ভাবে তারা মাঠে নামছে।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এক সভায় আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ওসমান পরিবার সারা নারায়ণগঞ্জকে জিম্মী করে রেখেছে। আমরা যখন প্রতিবাদ করি তখন আমাদের নানান ভাবে ডিস্টার্ব করে হয়রানি করে। এই ওসমান পরিবার আওয়ামীলীগ থেকে অনেক কিছু পেয়েছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে নাজমা রহমান আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছিলো। তখন চাষাঢ়ায় নৌকার উপর এরশাদের লাঙল উঠিয়ে দিয়েছিলো এই ওসমান পরিবার। চোরের মার বড় গলা।
আজকে তারা বলে আওয়ামী লীগের জন্ম নাকি তাদের ঘরে হয়েছে। যদি আওয়ামী লীগ তাদের ঘরে জন্ম হতো তাহলে নৌকা নামিয়ে লাঙল উঠায়। নাজমা রহমান যখন প্রার্থী হয়েছিলো তখন ওসমান পরিবারের উত্তরসূরিরা কি করেছিলেন। জাতীয় পার্টির ছত্রছায়ায় তারা আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক লুট করেছিলেন। লজ্জা করার দরকার আপনাদের। আমরা ভাগ ভাটোয়ারা রাজনীতি করি না। আমরা কোনো টেন্ডারবাজি করি না কিংবা মাস্তানি করি না। আমাদের কোনো হোন্ডাবাহিনী নেই।
তিনি ওসমান পরিবারের প্রতি অভিযোগ তুলে বলেন, ত্বকী হত্যা করেছেন আপনারা। আপনারা মিথ্যা কথার রাজনীতি করেন। ৮০ রাকাত নাকি নফল নামাজ পড়ে। তাহাজ্জুদ নামাজ নাকি কাজা করে না। এই সমস্ত কথাও তারা বলে। মিথ্যা কথা বলতে বলতে এখন তাদের সত্য কথাও মানুষ বিশ্বাস করে না। বিএনপি জাতীয় পার্টি জামায়াত থেকে আমদানী করা আমাদের লোকের দরকার নেই। আমরা চাই শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আর ওসমান পরিবার চায় সন্ত্রাসী মাস্তানি গুন্ডা হোন্ডাবাহিনীর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটাই হচ্ছে তাদের সাথে আমাদের বিরোধ।
দলীয় সুত্রমতে জানা যায়, নারায়ণনাগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জোরালো ভাবে মাঠে নেমেছেন। একই সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। অপরদিকে তার বিপরীতে এবারও ওসমান পরিবার থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নের জন্য লড়াই করতে পারে বলে শহরে রাজনীতিবিদদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে।
আর তারা হলেন এই আসনের প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের সহধর্মিনী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পারভীন ওসমান। একই সাথে বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমানও কোন ভাবে তিনি এমপিত্ব ছাড়তে নারাজ। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন আগামী নির্বাচনে সদর বন্দর আসনে শহরের উত্তর দক্ষিন মেরুর রাজনীতি নিয়ে ইতোমধ্যে উত্তাপ হচ্ছে। এই উত্তাপ রমজানের পর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেন স্থানীয় রাজনীতিবিদরা।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সন থেকে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি ওসমান পারিবারের দখলে রয়েছে। ২০০৮ সনের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমান এই আসন থেকে নির্বাচিত হন। একই ভাবে ২০১৪ সনে বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত। পরে কিছু দিন পর তিনি মারা যাওয়ার পর এই আসনের উপ নির্বাচনে সেলিম ওসমান এস এম আকরামের সাথে লড়াই করে এমপি নির্বাচিত হন।
পরবর্তিতে ২০১৮ সনের নির্বাচনেও এস এম আকরামের সাথে লড়াই করে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। কিন্তু আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকে কে এমপি হবে তা নিয়ে এখন থেকে জল্পনা কল্পনা চলছে। আর তা পরিষ্কার হবে এই বছরের শেষের দিকে। কেননা নির্বাচন কমিশনের সূত্রমতে এই বছরের ডিসেম্বর মাসে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে। আর তখনি নির্বাচনে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
এস.এ/জেসি


