নির্দেশনা পেলে রমজানেও রাজপথে নামবে বিএনপি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৩, ০৩:১৬ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিসহ তাদের সাথে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরা বর্তমানে রাজপথে অনেকটাই সরব রয়েছে এবং ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়াও বিএনপির নেতৃবৃন্দরা গত বছর থেকে রাজপথে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু যেতে যেত আবারো হঠাৎ চলে এলো বিগত দিন থেকেই রমজান মাস আসলেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইফতার মাহফিল আয়োজনের হিড়িক পড়ে যায়।
কারণ মাঠের রাজনীতির শিথিলতার কারণে ঘরোয়া রাজনীতির দিকে অগ্রসর হয় রাজনৈতিকদলগুলো।তবে নির্বাচনী বছরকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান রাজনৈতিকদল গুলো সক্রিয় অবস্থান থাকবে ইফতার কেন্দ্রীক রাজনীতিতে।
কিন্তু অনেকে দাবি জানাচ্ছে আমরা বর্তমানে মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে ইফতার পার্টির পাশাপাশি সকল নেতাকর্মীদের সাথে রাজনৈতিক আলোচনা অবহৃত রাখবো। আর তার পাশাপাশি যদি কেন্দ্র মনে করে আমাদের আবারো কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকা প্রয়োজন তাহলে আমরা তার জন্য ও ব্যাপক প্রস্তুত রয়েছি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইফতার রাজনীতির পাশাপাশি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপি সহ সকল বিরোধী দলগুলোর। একইসঙ্গে নির্বাচন ও আন্দোলন ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটা আরও মজবুত করতে চায় তারা।
যাতে ঈদের পর আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া যায়। বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক বর্তমান রূপরেখা অনুযায়ী ইফতার কর্মসূচী কাজে লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। রূপরেক্ষা ও দলের নির্দেশনা অনুয়ায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির অঙ্গসংগঠনেরগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যার কারণে রমজান মাসেও রাজনৈতিকদলগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতার কারণে জমে উঠবে ইফতার রাজনীতি। বিএনপির নেতারা বলছেন, রমজানের পর আবার মাঠের কর্মসূচিতে ফিরে যেতে হবে। তাই এ সময়ে ঘর গোছানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারের রমজানেও নেতাকর্মীদের নিয়ে সম্মানে ইফতারের আয়োজন করা হবে। সেখানে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও রমজানে আপাতত ইফতার রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দ্রব্যমূল্য বা অন্য কোনো ইস্যু সামনে চলে আসলে তখন যদি আমাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি দেওয়া হয়।
সেই ক্ষেত্রে আমরা রাজপথে ব্যাপক ভূমিকা পালন করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আর কর্মসূচি আসলে ও তার ধরন ও সময় কিছুটা আলাদা হতে পারে। কারণ, রোজা রেখে দীর্ঘসময় কর্মসূচি পালন করা যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি মানুষের ভোগান্তি যেন না হয়। সেদিকে ও খেয়াল রেখেই কাজ করবে কেন্দ্র। এর বাইরেও পুরো রমজান মাস সমস্ত জেলার নেতাদের সঙ্গে ইফতার পার্টির মাধ্যমে মতবিনিময় করার চিন্তা রয়েছে দলের হাইকমান্ডের।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, রমজান মাসে কিভাবে আমাদের রাজনীতি করতে হবে। সেই নির্দেশনায় আমরা রাজপথে থাকবো। আর কেন্দ্রের সিদ্ধন্তের বাহিরে আমাদের কোন কর্মসূচি করার সুযোগ নাই।
তার পাশাপাশি আমরা আমাদের ইউনিয়ন কমিটিগুলো গঠন হবে। আর যদি কেন্দ্রীয় আন্দোলন সংগ্রামের কর্মসূচি দেওয়া হয়। সেটার জন্য ও আমরা রাজপথে থাকার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আর যেহেতু রমজান মাস আমরা সকল নেতাকর্মীদের একত্রতা করার জন্য ইফতার পার্টি করবো।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম টিটু যুগের চিন্তাকে বলেন, কেন্দ্রে থেকে আপাতত আমাদের ফোনের মাধ্যমে বলেছে নেতাকর্মীদের নিয়ে ইফতার পার্টির মাধ্যমে নিজেদের সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে। আর আমরাও রাজপথে ব্যাপক প্রস্তুত রয়েছি।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল রাজীব যুগের চিন্তাকে বলেন, রমজান মাস হলো সংযমের মাস। আর এই মাসে আমরা বিগত দিন থেকেই ইফতার পার্টির মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচালনা অবহৃত রাখি। কিন্তু বর্তমানে দেশের অবস্থা বেশি একটা সুবিধা জনক না। আর যদি এই রমজানে আমাদের কেন্দ্র বলে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে সেই সাথে ও আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা বর্তমানে রাজনৈতিক সকল বিষয়ে অনেকটাই প্রস্তুত রয়েছি। আর বর্তমানে সিয়াম সাধনার মাসে ও আমরা আমাদের দলকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমাদের আওতাধীন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করবো।
তার পাশাপাশি আমরা ইফতার আয়োজন রেখেছি। সেই আয়োজনের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সাথে সম্পৃক্ততা আরো বৃদ্ধি পাবে। আর বর্তমানে আমাদের কোন রাজপথে আন্দোলনের কথা কেন্দ্র বলেনি। যদি কেন্দ্র প্রয়োজন মনে করে আর আমাদের কর্মসূচি দেয় তাহলে আমরা সেটা যথাযথভাবে পালন করবো।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম.এইচ মামুন যুগের চিন্তাকে বলেন, পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস রমজান। এই রমজানে আমাদের প্রধান লক্ষ্যে হলো। সকল কর্মীগুলোকে মরাজপথে সক্রিয় করা। তার পাশাপাশি রমজান মাসে ও কেন্দ্রে আমাদের যে কোন কর্মসূচি দিবে সবগুলোর মধ্যে ব্যাপক ভূমিক পালন করা।
আর যেহেতু রমজান মাস সিয়াম সাধনার মাস এই মাসে আমরা ঘর গোছানোর কাজে বেশি ব্যস্ত থাকবো। আর এই রমজান মাসে আমরা ইফতার পার্টি ও তার পাশাপাশি আমাদের যে ইউনিয়নগুলোর কমিটি গঠন করা হয়নি সেগুলোর কমিটি গঠন করা। আর আমরা সার্বক্ষনিক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দর সাথে যোগাযোগ রাখছি। আর তারা যে নির্দেশনা দিবে সেগুলো আমরা ব্যাপকভাবে প্রস্তুত রয়েছি। এন.হুসেইন/জেসি


