# রাতে ফলাফল পাল্টিয়ে আমাকে ফেল করানো হয়: শামীম ওসমান
# আওয়ামী লীগ দিনের বেলায় ভোট দিতে ভয় পায় : গিয়াসউদ্দিন
আগামী নির্বাচন ঘিরে রমজানের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বিএনপির মাঝে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে রাজপথ গরম ছিল। সংযমের মাস রমজান শুরু হওয়ায় এতে কিছুটা স্থবিরতা পরে। তবে রমজান শেষে ঈদের পরেই আরও জোরালো আন্দোলনে যাবে বিএনপি। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও তাদের ছাড় দিতে নারাজ।
বিএনপি নেতা কর্মীদের প্রতি নিয়ত অভিযোগ এই সরকার রাতের বেলা ভোট গ্রহন করে ক্ষতায় আসে। তবে এবার বিএনপির এক সাবেক সাংসদকে নিয়ে মন্তব্য করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, ২০০১ সনের নির্বাচনে আমার ভোট রাতের বেলা পাল্টি দিয়ে তখনকার বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনকে পাশ করানো হয় বলে তিনি অভিযোগ তুলেছেন। তাদের এই পাল্টা পাল্টি অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ব্যপক সারা ফেলেছে। সেই সাথে তাদের নিয়ে পুরো জেলা জুড়ে আলোচনা হচ্ছে।
এদিকে ২৬ শে মার্চ ঘিরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি রাজপথে ব্যপক শোডাউন করে স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান। অপরদিকে আওয়ামী লীগও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিলের একটি রেস্টুরেন্টে আলোচনা সভা হয়।
এই আলোচনা সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে একই আসনের সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় না থাকে তখন আপনারা পালিয়ে বেড়ান। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। তখন আমি পার্লামেন্ট মেম্বার ছিলাম। এত বছর যাবৎ আপনারা নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা যাইনি।
আপনারা আমাদের নামে এতো মামলা দেন, হামলা করেন, তাতে আমরা জেলে যাই আবার নিজের ঘরেই ফিরে আসি। আপনারা অন্য জায়গায় চলে গিয়েছিলেন। আমরা তো কোথাও যাইনি। জনগণ এসকল বসন্তের কোকিলদের চেনে। আপনারা বসন্তের কোকিল হয়ে থাকেন। আমরা নারায়ণগঞ্জের মানুষদের ছেড়ে কোথাও যাবো না। আপনারা কি উন্নয়ন করেছেন তা জনগণ দেখে।
সামান্য বৃষ্টি হলে ডিএনডির মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারে না। মাইকে বলে বেরান আপনারা অনেক উন্নয়ন করেছেন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন আমরা আদমজী বন্ধ করে এখানে ইপিজেড করেছি। এই অবদান বিএনপি সরকারের। আপনারা নারায়ণগঞ্জে একটা উন্নয়ন দেখান। এছাড়া এই সরকার এখন দিনের ভোট রাতের বেলা করে ক্ষমতায় টিকে আছে। তাদের দিনের বেলা ভোট দেয়ার সাহস নেই।
এর আগে ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এক সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান একই আসনের সাবেক ্সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ২০০১ সনের নির্বাচনে ভোটে আমি জয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু মোহাম্মদ আলী ভাই রাতের বেলা ভোটের ফলাফল পাল্টিয়ে দিয়ে গিয়াস উদ্দিনকে পাশ করানো হয়।
এর আগে এখানকার এমপি ছিলেন গিয়াসউদ্দিন ভাই, তিনি নাকি ফতুল্লার এই এলাকায় নজর দেয়নি। গিয়াস ভাই এমপি হয়নি। তাকে মোহাম্মদ আলী ভাই এমপি বানিয়েছিল। তিনি বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিল। আমাকে ৩৬ হাজার ভোটের ব্যাবধানে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। ভোটকেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্ট ছিল না বিভিন্ন জায়গায়। রাতে ফলাফল পাল্টে দিয়ে তাকে জয়ী করা হয়। সেই সময় আমি বলেছিলাম মোহাম্মদ আলী ভাই সবার আগে আপনাকেই কামড় দিবে গিয়াস উদ্দিন ভাই। হয়েছেও তাই। তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কিন্তু দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাদের থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের র্বতমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান একই আসনের সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্যে রাতের ভোট নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তারা দুজনেই একের অপরকে রাতের ভোটে পাশ করেছে বলে অভিযোগ তুলেন। কিন্তু কে সঠিক তা নিয়ে চিরচেন রুপে বিশ্লেষন করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধমহল। এছাড়া সচেতন মহল বলছেন আগামী নির্বাচন ঘিরে দুই দলের প্রধান দুই প্রদিযোগির বক্তব্যে রাজনীতির মাঠ গরম হলেও রমজানে তা কিছুটা কমেছে। কিন্তু নাগরিক সমাজ আগামী নির্বাচন স্বচ্ছ দেখতে চায়। সেই সাথে সরকার পতনে বিএনপি আন্দোলন থেমে নেই। সর্বশেষ কী হবে তা আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হলে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী আগামী নির্বাচন এই বছরের ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেই অনুপাতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রস্তুতিও রয়েছে। কিন্তু সচেতন মহলের মতে নারায়গঞ্জ-৪ আসনে হয়ত ২০০১ সনের মত আবারও লড়াই হতে পারে। এন.হুসেইন/জেসি


