# স্বেচ্ছাসেবকলীগের ১৮ বছর আগের কমিটিই বহাল
আগামী নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। একদিকে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অপর দিকে সাংগঠনিক ভাবে দল গুছাচ্ছে। কিন্তু তাদের বিপরীতে বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলনের পাশাপাশি কমিটি গঠনের মাধ্যমে সাংগঠনিক ভাবেও শক্তিশালী হচ্ছে। তবে এই ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ পিছিয়ে রয়েছে। কেননা ইতোমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পাশাপাশি বেশির ভাগ ওয়ার্ড কমিটি হয়ে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটি থাকাতো দূরের কথা থানা কমিটি চলছে ১৮ বছর আগের কমিটি দিয়ে।
এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগকে ঢেলে সাজানোর জন্য ছয় মাস যাবৎ কাজ করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় একাধিক নেতৃবৃন্দ। তারই ধারাবাহিকতায় তিন মাস আগে সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সংগ্রহ করা হয়। পরে ১০ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৯টি ওয়ার্ডের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এখানে সম্মেলন হলেও কোন কমিটি ঘোষনা হয় নাই। ওয়ার্ড কমিটি সম্মেলন নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্তি হয়ে আছে বলে জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ।
তাছাড়া ওয়ার্ড সম্মেলন হলেও রমজানের আগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন না হওয়ায় নেতা কর্মীদের আলোচনা সমালোচনা তৈরী হয়েছে। কেননা ১৪ মার্চ ৪,৫,৬ নম্বরও ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের দিন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি এড.কাজী শাহানারা ইয়াসমিন বলেন থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন ২১ মার্চ হতে পারে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের গ্রুপিংয়ের কারনে তা আর হয়ে উঠে নাই।
অপরদিকে একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের থানা কমিটিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ যুবলীগের নিজেদের বলয়ের লোক বসানোর জন্য বিভিন্ন জায়গায় নেতারা দৌড়ঝাঁপ করছেন। দলীয় সূত্রমতে কয়েকজন জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি পদে আসার জন্য সাবেক কমিটির একই থানার সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাজু দৌড়ঝাঁপ করছেন। তাকে সমর্থন করে যাচ্ছে ওই থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া। কিন্তু রাজুর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জে চাদাঁবাজির অভিযোগ উঠেছে।
অপরদিকে নাসিক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে সিদ্ধিরগঞ্জে পরিচিত মানিক খন্দকার মাস্টার সাধারণ সম্পাদক পদে আসার জন্য মাঠে নেমেছেন বলে জানা যায়। তাকে নিয়ে নেতা কর্মীদের অভিযোগ মানিক মাস্টারকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তেমন একটা সক্রিয় দেখতে পান নাই। নেতা কর্মীদের মতে তাদের দুজনকে সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদে আসার জন্য আওয়ামী লীগ যুবলীগের দুই নেতা মাঠে নেমেছেন। সেই সাথে তারা নাকি সর্বাত্মক ভাবে দৌড়ঝাঁপ করে যাচ্ছেন।
অপরদিকে তাদের বিপরীতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় দায়িত্বরত নেতাদের সাথে থেকে রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক। একই সাথে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগকে ঢেলে সাজানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়া তিনি আগামী নির্বাচনে দলকে গুছিয়ে শক্তিশালী করার জন্য নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে যাচ্ছেন সাবেক জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য শফিকুল ইসলাম শফিক।
এছাড়া তার সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ইলিয়াস হোসেন। তিনিও দলকে গুছানোর মাঠে নেমে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই সাথে আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য তারা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে সিদ্ধিরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন চান স্থানীয় নেতা কর্মীরা।
সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, আমরা দলকে শক্তিশালী করার জন্য তৃনমূল থেকে নেতা কর্মীদের বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ের মাধ্যমে সক্রিয় রেখে যাচ্ছি। সেই সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগকে শক্তিশালী ভাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তাছাড়া কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সহযোগিতা করে এখানে শক্তিশালী কমিটি গঠনের জন্য রাত দিন কাজ করে যাচ্ছি। তাই আমি মনে করে আগামী নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার ঈদের পর পরই এখানে সম্মেলনের মাধ্যমে শক্তিশালী কমিটি দেয়া প্রয়োজন।
সেই সাথে কমিটিতে যেন কেউ উইরা এসে জুড়ে বসে কেউ কমিটিতে বসতে না পারে। রমজানের আগে আমাদের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন হলো না কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলতে পারবেন। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমরা কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন চাই। এখানে যেন কেউ প্রভাব খাটিয়ে এক চেটিয়া কমিটি নিতে না পারে সেদিকে নেতৃবৃন্দকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানাই।
উল্লেখ্য ২০২২ সনের ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর থানা সহ সকল ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় এই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
এস.এ/জেসি


