Logo
Logo
×

রাজনীতি

নৌকা পেতে মাঠে আ.লীগের তিন নেতা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৩, ০৫:৩৪ পিএম

নৌকা পেতে মাঠে আ.লীগের তিন নেতা
Swapno

 

# বন্দর জুড়ে মাঠে সক্রিয় আরজু-দিপু
# পরিবর্তনের আভাস পেয়েই মাঠে তারা

 

 

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে পুরো জেলা জুড়ে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন থেকে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। সেই সাথে মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলে স্থানীয় রাজনীতি অনেকটা উত্তপ্ত হয়ে পরে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলে নিজেদের মাঝে একে অপরকে খোঁচা দিয়ে বক্তব্য রাখতে কার্পন্য করেন না। নিজেদের কোন্দলের পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

 

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সূত্র মতে এই বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে। এই অনুযায়ী নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ প্রচারনায় নেমেছেন। এই দিক দিয়ে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও বিভিন্ন সভা সমাবেশের মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। সেই সাথে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের মত মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় হাটে মাঠে, বাজারে দোকানে মানুষের সাথে সংযোগ করছেন। মানুষও পরিবর্তনের আশায় তাদের সারা দিচ্ছে। কিন্তু আগামী নির্বাচনে কী হতে যাচ্ছে তা কেউ এখনো বুঝে উঠেনি।  

 

অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে হঠাৎ করে বড় ধরনের মেরুকরণের সৃষ্টি হয়েছে। এক সময়ে যেসব নেতারা শুধু বলয় ভিত্তিক রাজনীতি করতো তারা এখন ইউটার্ন নিতে শুরু করেছে। ক্রমশ সৃষ্টি হচ্ছে রহস্য আর নানা প্রশ্নের। অনেকে বলছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন ঘর গোছাতে গিয়ে ঐক্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগে গ্রুপ আর উপগ্রুপ এতটাই বেড়ে গেছে যে এখন আর শীর্ষ নেতারা নিচের সারির নেতাদের নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না। এসব কারণেই এখন মধ্যম সারির নেতারা যে যার মত রাজনীতি করে যাচ্ছে।

 

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রভাব রয়েছে উত্তর-দক্ষিণ এমপি শামীম ওসমান ও সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী কেন্দ্রিক। এর মাঝে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন একবার উত্তর বলয়ের শামীম ওসমানের সাথে থাকেন আবার দক্ষিণ বলয়ের মেয়র আইভীর সাথে থাকেন। একবার একজনের সাথে। কিন্তু সম্পর্কে মেয়র আইভী আনোয়ার চাচা বলেন সম্বোধন করেন। অপর দিকে আনোয়ার হোসেন শামীম ওসমানের রাজনৈতিক গুরু হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

 

সূত্রমতে ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর হওয়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইভীর পক্ষে ছিলেন আনোয়ার। তবে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ২০১৪ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ নির্বাচনকে ঘিরে আমূল পরিবর্তন আসে। তখন এক হয়ে যান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও এমপি শামীম ওসমান বলয়। ২০১৬ সনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ মেয়র পদে মনোনয়নের জন্য তিন জনের নাম ঠিক করে। পরে তা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে আইভীর নাম দেওয়া হয়নি।

 

নাম পাঠানো হয় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান এবং বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদের। পরে প্রধানমন্ত্রী আইভীকে মনোনয়ন দেন। তখন আনোয়ারের জন্য শামীম ওসমান সর্বাত্মকভাবে মাঠে নামেন। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তিতে আনোয়ার হোসেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বসার পর শামীম বলয় ছেড়ে আইভী বলয়ে আসেন। যা এখনো আইভী বলয়ে রয়েছেন। যদিও তিনি তার বক্তব্যে বলে থাকেন ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনীতি বা পরিবার কেন্দ্রিক রাজনীতি পরিহার করতে হবে। আনোয়ার হোসেন মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।  

 

জানা যায়, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে পুরো শহর বন্দর জুরে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে সকলের নজর কাড়েন। আর এজন্য তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। কেননা বন্দরে তার ব্যাপক পরিচিত রয়েছে বলে মনে করেন খোদ দলীয় নেতারা। অপরদিকে তার সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়াও আলোচনায় রয়েছেন।

 

তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে আনোয়ার কতুটুক পথ পাড়ি দিতে পারবেন তাই এখন দেখার বিষয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার দাবী জানিয়ে আসছে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে ২০২২ সনের জানুয়ারির সিটি নির্বাচনে  কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তাদের এই দাবী আরও জোরালো ভাবে করেন। তখন কেন্দ্রীয় নেতারাও তাদের আশ্বাস দেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা লাঙ্গলের বোঝা আর বইতে চান না।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মাঝে ৩টিতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও ২টিতে লাঙ্গলের সদস্য রয়েছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন রয়েছেন। তার বিপরীতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন সেলিম ওসমান। তাই ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা কর্মীরা এবার আর এই দুই আসনে লাঙ্গলের উপর ভর করে থাকতে চান না। তাদের অভিযোগ এখানে আওয়ামী লীগের এমপি না থাকায় তারা তাদের সুখ দুখের কথা শেয়ার করতে পারেন না। এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখানে নির্যাতিত হয়ে আছে।  

 

এদিকে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে এড আনিসুর রহমান দিপু তার বক্তব্যে বলেন, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে আমরা নৌকার দাবী জানাই। সেই সাথে সদর-বন্দর আসনে নৌকার প্রার্থী চাই। এখান আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা আর লাঙ্গলের উপর ভর করে থাকতে চায় না। পরিবর্তন চায় মানুষ। তাই আমরা নেত্রীর কাছে এখানে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানাই। আর আমি দলের হয়ে দীর্ঘ যাবৎ এখানে কাজ করে যাচ্ছি।

 

অপরদিকে এবার সোনারগাঁ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নৌকা মনোনয়নের জন্য একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সাথে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে যাচ্ছেন। তারাও এবার এখানে লাঙ্গলের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে ছাড় দিতে নারাজ। কিন্তু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে পরিস্কার হয়ে যাবে এখানে কারা প্রার্থী হবেন। সেই উপেক্ষার প্রহর গুনছে স্থানীয় নেতা কর্মীরা। সব কিছু মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন আগামী নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা কৌশল অবলম্বন করছেন।
এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন